Posts

ছোটগল্প - আসার আশা।

আসার আশা। কৃশানু মিত্র অকালে মাত্র বাইশটা অক্লান্ত বসন্ত পার করে সে চলে গেল। রেখে গেল কৃতি ছাত্রের তকমাধারী কিছু শংসাপত্র। তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের টুকরো নিদর্শন কিছু জমা রয়ে গেল ইউটিউব ভান্ডারে। আর হাবা কালা পিতা এবং স্বর্গাদপি গরিয়সীর জন্য রইলো এক বুক হাহাকার। বছর খানেক গড়িয়ে গেছে। দেবেন আর তার স্ত্রী আজ পরিজনের বিড়ম্বনার বিষয়। কেউ দেবেন কে দেখে পালায়। কেউ ঈশ্বরের নামে প্রবোধ দেয়। পুত্রহারা সন্তানের যন্ত্রণা অন্যের বুকে তেমন করুণ সুরে বাজলো কই।        গৌরী, বাড়ির আনাচে কানাচে যেখানেই যায় অদৃশ্য অশরীরী ছায়া জাহির করে অভিষেকের উপস্থিতি। দুহাত দিয়ে তাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়ে ক্লিষ্ট হয় গৌরী। শূন্য খাট, বইয়ের স্তূপ এক বছর ধরে যেখানে যেমন ছিল তেমনিই পড়ে আছে। টানটান গিটারের তারে জঙ্গ ধরেছে। মাকড়সার জালে গিটারের শব্দ গহ্বর ঢাকা পড়ে আছে। নিষ্প্রাণ স্বরযন্ত্রে কেবল কান্না বাজে। গৌরী দেবেন কে বলে, আমার কাটা ছেঁড়া করা শরীর নতুন প্রাণ জন্ম নিতে পারবে না? আমার সন্তান চাই প্রজাপতি কুমারী বলেছেন, আমি আসন্ন পুত্রসম্ভবা, উনি কৌতুক করতে পারেন না। হাবাগোবা হলেও দেবেন বুঝত...

উপন্যাস-মাধবীলতার কাহিনী(কৌরব)

 মাধবীলতার কাহিনী।        এক        মাটি কামড়ে মাঠের বাইরে যাচ্ছে বল। ক্যাপ্টেন গগনের উইনিং স্ট্রোক। হাততালি দিয়ে নেচে উঠেছে মাধবী। গতবারের হারের বদলা নিয়ে তালতলার ক্যাপ্টেন,গগন ট্রফি নিয়ে গেল কলকাতায়। সঙ্গে নিয়ে গেল এক তরুনীর ভালোলাগা। এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতে হবে গগনকে। গগন এই টুর্নামেন্টের জন্য মুখিয়ে থাকে। মাঠে গগনের বিক্রম দেখার জন্য হাপিত্যেশ করে থাকত অনেকে। এবার বাঙলা টিমে চান্স মিলেছে গগনের। তাই খেলার শুরুতে হাততালি দিয়ে গগনকে স্বাগত জানায় গড়পাড়ের দর্শক। গগনের সন্ধানী চোখ খুঁজে চলেছে বিশেষ কোন মানুষকে।              ট্রফি জেতার পর গগন পোডিয়ামে উঠে নির্নিমেষ চোখে মাধবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর পুরস্কার নিয়ে সরাসরি মাধবীর দিকে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে প্রাইজটা তুলে দেয় মাধবীর হাতে। 'এই পুরস্কার তোমার' গগন বলে। হতবাক মাধবীর, কেন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গগন বলে, ' সারাটা বছর অন্য সব টুর্ণামেন্টে আমি ধেড়িয়েছি। শুধু গড়পার আমাকে ফেরায়নি। মাধবী জিজ্ঞেস করে, 'তাহলে বাংলা দলে স্থান ...

ছোটগল্প মোর হৃদয়ের.।

 নন্টে ফন্টে জৌগ্রাম থেকে আসা দুই দেবশিশু।  শ্রমজীবী পাঠশালায় তারা এসেছিল অভিভাবক হীন হয়ে। শতেক ইচ্ছে নিয়ে ওদের বেঁধে ফেলার আয়োজন করেছিলাম আমরা। বাকিটা গল্প পড়লে জানা যাবে। মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে মাধবীলতার মোটা লতানে ডাল উঠে গেছে ছাদে। তার ফাঁকে একটা ছোট্ট বাসা। মানুষের চোখের আড়ালে নজর পড়ে না কারও। নিচু গলায় কিচিরমিচির করে ডাকে বাসিন্দরা। একই গাছে আরো একটি বাসা আছে। সেখানে বাচ্চাগুলোর জ্যাঠা জেঠি থাকে। মনে বড় সাধ ফুরফুর করে উড়ে এসে তারা মাঝে মাঝে মধ্যে চক্কর কাটবে ভাই ভাইপোর বাসায়। চোখ ফুটতে না ফুটতে মৌটুসী ভাইয়েরা ঠিক চিনতে পেরে গেছে আত্মীয়-স্বজনদের। যে বাপ ওদের জন্ম দিয়েছিল চোখ ফোটার পর থেকে তার হদিশ মেলে না আর। হেলিকপ্টারের উড়ান দিয়ে ওদের ঠোঁটে খাবার গুঁজে দিত মা। বাসার মধ্যেই ঝটপট করত ওদের দুডানা। ওদের বড় সাধ ছিল মায়ের সঙ্গে উড়তে যাবে। একদিন মা ওদের বাসা থেকে ঠেলে বাইরে ফেলে দেয় হঠাৎ পড়ে যেতে যেতে  দুডানা ঝটপট করেতে করতে ওরা ঠিক মায়ের আকাশে উড়তে থাকে। মা উন্মুক্ত আকাশে জিমনাস্টিক করতে করতে দেখে নেয় পোলা পানদের।  অনাবিল আনন্দে ওরা মাঝে মধ্যেই এ...

ছোটগল্প- জীবন

জীবন  কৃশানু মিত্র ফূর্তিতে ছিল অজয়। সকাল হতে না হতেই তার মনে হলো আজ অফিসে নাটক। এই প্রথম তার পরিচালনায় নাটক হবে অফিসে। একটু টেনশন হচ্ছিল না এমন নয়। নাটকে নায়িকার মুখের গান "ঘরেতে ভ্রমর এলও গুনগুনিয়ে", নিজে গুনগুন করছে সে সকাল থেকে। এই গানের সুর তুলে আপিস যাবার জন্য বাস স্টপেজে পৌঁছে গেছে অজয়।  নাটকে যুযুধান দু'পক্ষের হিংস্র লড়াইয়ের হাস্যরসে দর্শক পাগল হয়ে যাবে এই কল্পনা করে সে নিজেই ফিক করে হেসে ফেলে। বাস এসে পড়েছে। চট করে বাসে উঠে সিটে বসে আবার সে গুনগুনিয়ে গান ধরেছে।        হঠাৎ কন্ডাক্টরের অশ্লীল চিৎকারে অজয়ের ছন্দপতন ঘটে। যুযুধান দু'পক্ষের বাক্যলাপ শুনতে থাকে অজয়। অজয় বুঝতে পারে যাত্রী খুচরো পয়সায় ভাড়া দিয়েছে। খুচরো টাকা কন্ডাক্টরের হাত থেকে পড়ে গড়িয়ে বাসের বাইরে চলে গেছে। সামনের স্টপেজে যাত্রী নেমে যাবে। দুটাকা একটাকার কয়েন দুটো বাসের উল্টো দিকে গড়িয়ে দৌড় লাগিয়ে অনেকদূর পৌঁছে গেছে। যাত্রী বলছে 'পয়সা তো তোমাকে দিলাম। তুমি যদি ধরে রাখতে না পারো। ধরে রাখতে যোগ্যতার দরকার।' কন্ডাকটার বলছে 'ঠিক সময় ভাড়া দাওনি কেন? টিকিট না কাটার ধান্দায় ...

নাটক

 নাটক - লোভ মঞ্চ- প্রথম দৃশ্য খরস্রোতা নদীর আবহ [সারি সারি গাছ নুয়ে পড়েছে নদীর বুকে। নদী বাঁক নিয়ে গভীর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। কাকলি মুখর প্রকৃতি গাইছে "এ ভবসাগরে কেমনে দিব পাড়ি রে/ দিবানিশি কান্দি রে নদীর কূলে বইয়া"। গান শেষ হলে শিম্পাঞ্জি হনুমানদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। কোন সভার তোড়জোড় শুরু হতে যাচ্ছে।] ডুমুর গাছ- দেখ,আকাশচুম্বী বৃক্ষরাজির গায়ে কেমন আঁটোসাঁটো লেপটে আছে লতাগুল্মর দল। বট গাছ- ওরা ভয় পেয়েছে। রবার গাছ- অকারন ভয় পাবে কেন? বট- অকারণ নয়। প্রথম কোপটা ঝোপঝাড় আগাছার ওপর পড়ায় ওরা সন্ত্রস্ত।  ডুমুর গাছ- ভাই মিছে কথা কইবো না গতকালের কান্ড-কারখানা দেখে আমিও স্তম্ভিত। তোমাদের আকাশ দেখতে গলা বাড়াতে হয় না। তোমরা অপরাজেয়। ঝোপঝাড়ের পরেই নিশানা ছোট গাছ, মানে আমরা।  রবার গাছ- বড্ড বেশি ভাবছিস গাছ ছাড়া হনুমান শিম্পাঞ্জিরা আশ্রয়হীন।   [রোজউড গুম মেরে রয়েছে কোন কথা কইছে না ]  ডুমুর - হে বৃক্ষনাথ, কথা কও। তুমি জঙ্গলের দেবতা।  রোজউড-  গতকাল আপদ গুলোর হিংস্র আচরন ধ্বংসের ইঙ্গিতবাহি। বাঁদর হনুমানের সঙ্গে পাখি হরিণ বৃক্ষরাজির সখ্যতা সর্বজনবিদ...

বড়গল্প- লোভ।

 লোভ গভীর জঙ্গল। খরস্রোতা নদীর জল ছুঁয়ে অকারণ নুয়ে পড়েছে সারি সারি গাছের ঝাড়। কলকল শব্দে বয়ে চলেছে নদী আধো অন্ধকার ছিঁড়েখুঁড়ে। পাখির কলতানে মুখর প্রকৃতি, নদীর চলার কম্পন বুকে ধারণ করে বাউলের মতো উদাসীন। এই প্রথম জঙ্গলের বাসিন্দারা সভা ডেকেছে। নেতৃত্বে দিচ্ছে শিম্পাঞ্জির হনুমানের দল। পারিষদদের মধ্যে বাঁদরের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। যতদূর চোখ যায় বৃষ্টি পায়ে পায়ে বেড়ে ওঠা মহীরুহর জোট আকাশের অধিকাংশ দখল করে রেখেছে। পরাশ্রয়ী লতাগুল্ম বেঁচে থাকার তাগিদে  বৃক্ষরাজির গায়ে লেপটে আছে। জঙ্গল কোন কারনে তটস্থ মেরে গেছে। কী এমন ঘটলো? যুগ যুগ আশ্রয়দান করে যাদের জীবন প্রবাহ বয়ে নিয়ে চলেছে,খাদ্য-স্বাস্থ্য বাসস্থানের সংকটমোচন করে যাদের বুকে ধরে রেখেছে সেই শিম্পাঞ্জি বাঁদর হনুমান কে সন্দেহের চোখে দেখছে গোটা পাদপ সমাজ! না, সেরকম কিছু ঘটেনি এখনো। কিন্তু, নদীর বাঁকের মুখে গাছপালা আগাছা সরিয়ে তৈরী আজকের সভা মন্ডপকে সন্দেহ চোখে দেখছে ডালপালা ছড়িয়ে থাকা গোষ্ঠী সচেতন মহাপতি সমাজ। সৃষ্টিলগ্ন থেকে দেখা যেত বনমুগ্ধকর খেচরের দল জোট বেঁধেছে মৃগ শাবকদের সঙ্গে। কপিকুল,শ্বাপদের গ্রাস থেকে আজীবন...