Posts

Showing posts from August, 2023

ছোটগল্প - জোট চরিত মানুষ।

  জোট চরিত মানুষ। ২১০ ডাউন বর্ধমান লোকাল। শ্রীরামপুরের পরে একেবারে হাওড়ায় এসে থামে। মাঝে কোথাও দাঁড়ায় না। কি তার গতি! হিন্দমোটর উত্তরপাড়া বালি বেলুড় লিলুয়া প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে সে ছুটে চলে যায়। নিত্য যাত্রীরা এরকম ট্রেন চড়তে খুব ভালোবাসে। ২১০ ডাউনের কথা আলোচিত হলে, এই ট্রেনের নিত্য যাত্রীদের গর্বের বহিঃপ্রকাশ দেখার মত। দৈবাৎ যদি কোনদিন ট্রেন থেমে গেছে কোন অচেনা প্লাটফর্মে আধভর্তি কামরার যাত্রীরা গেটের কাছে এসে ব্যুহ রচনা করে। এই ট্রেনে অস্থানের যাত্রীর প্রবেশ নিষেধ। মাছিও গলতে না দিয়ে উদ্ধত ট্রেন উন্নাসিক দর্পে অভাগাদের বুক কাঁপিয়ে ছুটতে থাকে। প্লাটফর্মের যাত্রীরা হতাশ হয় নিত্য। ট্রেনের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর আত্মতৃপ্তি তখন দেখে কে? বিজয়ীর উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা। দিনের পর দিন চলে একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি। হা পিত্যেশ বসে থাকা যাত্রীরা রেল অথরিটির বাপান্ত করে। কেন গাদাগাদি ভিড় থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা ট্রেন থামবে না। এই নিয়ে বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রী কমিটি ডিআরএম হাওড়াকে গণসাক্ষরও জমা দিয়েছে ইতিমধ্যে। কোন ফল হয় নি। হতাশা থেকে জন্ম নেয় আক্রোশ।             হা...

বড়গল্প- একাকিত্বের আমি

                                     বড়গল্প                                একাকিত্বের আমি              ব্রিজমোহন গাঙ্গুলী আর রামমোহন গাঙ্গুলী স্ট্রিটের মাঝে অবস্থিত বিজন পল্লী। বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি কর্মীদের আধিক্যই বেশি। পুকুর বুজিয়ে  জঙ্গল কেটে সাফ করে এখানে ওরা থাকতে শুরু করেছিলেন আশির দশকের গোড়ার দিক থেকে। গোটা পাড়ার মানুষজন একে অপরের সঙ্গে এঁটুলির মতো লেগে থাকত।  পাড়ার মধ্যমনি অনিতার পরিবার। শিক্ষাদীক্ষার কারনে পাড়ার সবাই অনিতার স্বামী পার্থ বাবুকে খুব সন্মান করত। বিকেল হলেই মেয়েরা বারান্দায় ছাদে যে যার বয়স অনুযায়ী মেতে যেত গল্পে। বিশ্বকর্মা পূজো দোল কোনো অনুষ্ঠান এদের হুল্লোড়ের ফর্দ থেকে বাদ পড়ত না। ঘুড়ি উড়ানো বা রংখেলা সারা হলে রাতে ভুরিভোজ হত সব্বাই মিলে। গোলটা বাঁধলো বরেনের বিয়ের পর।  প্রতিবেশী মুখার্জি পরিবার, সবিতাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ...

ছোটগল্প - পূর্ণগ্রহন। অথপথে প্রকাশিত

 ছোটগল্প  পূর্ণগ্রহন। বিশাখ, পলা কেউ কারো সঙ্গে কোনদিন কথা বলেনি। ওরা কলকাতায় পাশাপাশি দুই অফিসে কাজ করে। প্রদীপের চায়ের দোকানে ওদের প্রথম দেখা। পলা প্রেম পর্ব সাঙ্গ করে তখন সদ্য বিবাহিত। বিশাখ ব্যাচেলার।             প্রদীপের পেট চলে এই দুই অফিসের কর্মচারীদের চা টোস্ট ঘুগনি খাইয়ে। বিশাখ অফিসে যোগ দেওয়ার পর প্রদীপের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। না, অর্থ দিয়ে বিশাখ প্রদীপ কে তেমন সাহায্য করেনি। বিশাখের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতো একটা ম্যেন্ডলিন। বিশাখ চায়ের দোকানে এলেই ম্যন্ডোলিন বাজতে শুরু করতো। বিশাখও বেজে উঠত নিত্ত নতুন সুরে। গানের টানে চা পান করতে আসা মানুষজন ভিড় জমাতো দোকানে। চা প্রদীপের দোকানের নাম হয়ে গেল টিগানা(Teaগানা)। এমনই একদিন পলা এসে হাজির হয় দোকানে। বছর খানেক হল পলা পাশের অফিসে যোগদান করেছে। প্রথমদিন চা খেতে এসে ম্যান্ডলিন শুনে পলা ফিরে যেতে পারেনি। পলা প্রদীপের চায়ের দোকানের পার্মানেন্ট খরিদ্দার হয়ে গেল। প্রথম দর্শনেই পলার ভালো লেগে গেছিলো বিশাখকে। বিশাখের আপাত উদাসীনতায় গভীর অন্তর্দৃষ্টির খোঁজ পেয়েছিলো পলা। বিশাখের দোকানে আসার সময়, বাঁধা ছি...

ছোটগল্প একটি সম্ভবনার অপমৃত্যু।

 একটি সম্ভাবনার অপমৃত্যু  ঝরঝর করে বৃষ্টি পড়ছিল হঠাৎই মলয়ের ফোন।  এপারে অচেনা নম্বর দেখে মিলি গুরুত্ব না দিয়ে লাইনটা কেটে দেয়। নাছোড় ফোন বারে বারে বেজেই চলেছে। স্কুলের খাতা দেখতে ব্যস্ত মিলি সুইচ অফ করে দেবে ভেবে বাঁ হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নেয়। ঠিক সেই সময় টুং শব্দ করে একটা মেসেজ এসে ঢোকে। আমি মলয় ফোনটা তুলছো না কেন?  এখনকার ছেলেমেয়েরা সব্যসাচী। মিলির ফোন থেকে দুহাতে লেখা মেসেজ বিদ্যুৎ গতিতে টাইপ হয়ে ছিটকে সেন্ডারের কাছে পৌঁছায়। 'বাতাসকে দেখা যায় না চেনা যায়? আপনি মলয়, বুঝলাম। আপনাকে কোনদিন দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। চিনিব কি করে আপনার ফোনই বা আমি ধরতে যাব কোন কারনে?' উত্তর আসে আমি সেই মলয় যাকে তুমি বাসে রোজ হাঁ করে দেখো। আমার বিশ্বাস আমি তোমার অত্যন্ত পরিচিতদের একজন। খেলাটা বজায় থাকে। মিলি লেখে আমি স্কুলের খাতা দেখতে ব্যস্ত পরে ফোন করবেন। যদিও আমি সঠিক করে বুঝতে পারছি না আপনি কে? মিলি সঠিক করে বুঝে নিতা চায় ছেলেটির পরিচয়। এসএমএস এর গণ্ডি পেরিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মিলির কাছে একটা ছবি ভেসে আসে। মিলির চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। এ সেই মানুষ যার জন্য মিলির চোখ বাসে উঠে ই...