ছোটগল্প - পূর্ণগ্রহন। অথপথে প্রকাশিত

 ছোটগল্প 

পূর্ণগ্রহন।

বিশাখ, পলা কেউ কারো সঙ্গে কোনদিন কথা বলেনি। ওরা কলকাতায় পাশাপাশি দুই অফিসে কাজ করে। প্রদীপের চায়ের দোকানে ওদের প্রথম দেখা। পলা প্রেম পর্ব সাঙ্গ করে তখন সদ্য বিবাহিত। বিশাখ ব্যাচেলার। 

           প্রদীপের পেট চলে এই দুই অফিসের কর্মচারীদের চা টোস্ট ঘুগনি খাইয়ে। বিশাখ অফিসে যোগ দেওয়ার পর প্রদীপের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। না, অর্থ দিয়ে বিশাখ প্রদীপ কে তেমন সাহায্য করেনি। বিশাখের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতো একটা ম্যেন্ডলিন। বিশাখ চায়ের দোকানে এলেই ম্যন্ডোলিন বাজতে শুরু করতো। বিশাখও বেজে উঠত নিত্ত নতুন সুরে। গানের টানে চা পান করতে আসা মানুষজন ভিড় জমাতো দোকানে। চা প্রদীপের দোকানের নাম হয়ে গেল টিগানা(Teaগানা)। এমনই একদিন পলা এসে হাজির হয় দোকানে। বছর খানেক হল পলা পাশের অফিসে যোগদান করেছে। প্রথমদিন চা খেতে এসে ম্যান্ডলিন শুনে পলা ফিরে যেতে পারেনি। পলা প্রদীপের চায়ের দোকানের পার্মানেন্ট খরিদ্দার হয়ে গেল। প্রথম দর্শনেই পলার ভালো লেগে গেছিলো বিশাখকে। বিশাখের আপাত উদাসীনতায় গভীর অন্তর্দৃষ্টির খোঁজ পেয়েছিলো পলা। বিশাখের দোকানে আসার সময়, বাঁধা ছিল। দিনে তিন থেকে চার বার সেইমত পলার আসা চাই। পলার মত অনেকে এখন টিগানার বরাবরের সঙ্গী। গান মুগ্ধ পলা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতো বিশাখের দিকে। বিশাখ, পলার মাথায় সিঁদুর দেখে আপন মনের আয়নায় কখনো পলার প্রতিচ্ছবি পড়তে দেয়নি। কিন্তু চোখকে বিশ্বাস করা পাপ বেআইনি চুরি করতে সে পারদর্শী। বয়সের তাড়নায় বিশাখকেও বিবাহিত জীবন বেছে নিতে হয়েছে। পুত্র কন্যা নিয়ে সংসারের সুখী  জলসায় ম্যান্ডলিন বাজায় সে। সংসারও বেড়ে উঠছে সুর তাল সহযোগে সাংগীতিক আবহে। তার সংসার জীবনে কোথাও কোনও বেসুরো স্বর লাগেনি। বিশাখ নিজেকে চেনে না। সে জানে না তার নিজ্স্বতার উঠোন খিলান বারান্দার পরিধি। কোন নারীর তার মতো উদাসীন কাউকে ভালো লাগতে পারে এই অসার কষ্ট কল্পনায় সে অবিশ্বাসী। অথচ ম্যান্ডোলিন হাতে সে উঠে দাঁড়ালেই তাকে সৈনিক মনে হয় পলার। গলায় গান ছুটলে সে দার্শনিক আর আড্ডায় মজলিসি। পলা ঠিকই দেখেছিলো। মাঝে “কুড়ি-কুড়ি বছর”কেটে গেলেও বিশাখের খুনী সুর গুলো নিত্য কাহিল করত পলাকে। পলাই প্রথম বিশাখের সাথে কথা বলেছিলো। সে মাঝে মধ্যে বিশাখের কাছে পূর্বে শোনা কোন ভালোলাগা গানের অনুরোধ করত। গানের প্রকৃতি দেখে বিশাখ কিছু ভাবেনি এমন নয়। একদিন যেমন পলা এসে বলেছিল - নিষিদ্ধ ইস্তেহার শোনাবেন? ঐ যে হাত থেকে হাতে/বুক থেকে বুকে/করে দেব গোপনে পাচার/ ভালোবাসার নিষিদ্ধ ইস্তেহার। বিশাখ কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছিল। দোকানে চায়ের আড্ডায় পলার ফোন থেকে থেকে বেজে উঠত। বিশাখ অবাক হয়ে শুনত রিংটোন,"আমার ঠোঁটে চোখে গালে/তুমি লেগে আছ"। বিশাখের মনে কোন চঞ্চল ঝোরা বেঁচে থাকলেও সে অনুধাবন করতে পারেনি এই'তুমি'র উদ্দেশ্য। একদিন বিশাখের ম্যন্ডোলিনে গভীর সুর মুর্চ্ছনা। গলা ততোধিক উচ্চ গ্রামে বাজছে। হঠাৎই পলার প্রবেশ ঘটে দোকানে। কোন অজানা কারণে স্পেক্ট্রাম খসে যায় বিশাখের হাত থেকে। প্রতিবর্ত ক্রিয়ার তাৎক্ষণিকতায় পলা নিচু হয়ে খসে পড়া স্পেকট্রাম তুলে নিতে গেলে বিশাখের হাতের ছোঁয়া লাগে ওর হাতে আর মাথায় মাথায় লাগে ঠোকাঠুকি। বোকার মত বিশাখ পলার মাথায় হাত দিয়ে বার দুয়েক ম্যাসাজ করে দেয়। হুশ ফিরে এলে লজ্জা অবনত বিশাখ কোন কথা নলতে পারে না উল্টোদিকে   প্রথম পরশেই খুন হয়ে যায় পলা।

              অন্যদিনের মত প্রদীপের দোকানে আজ ভিড় নেই। শহরে আজ হনুমানের ধ্বজা উড়ছে। কংক্রিটের অপ্রাকৃতিক জঙ্গল হনুমানের বেশি পছন্দ। পাতাল রেল বিলাসীদের কোন কিছুতেই অসুবিধা নেই। ফুটপাত দিয়ে খুব কম লোক চলাচল করছে। পলা এসে ফাঁকা দোকানে বসে পা দোলাচ্ছে। প্রদীপ, বিশাখকে একটা সুন্দর ম্যান্ডোলিন কিনে দিয়েছিল। পলা লালবাজার থেকে পছন্দ করে সেটি কিনে এনেছিল। আজ বিশাখের ম্যান্ডোলিন শ্রোতার অভাবে সুরহীন। একা একা বিশাখ প্রদীপের সঙ্গে গল্প জুড়েছিল। পলা কে দেখে প্রদীপ চা বানাতে ভিতরে যায়। সেই সুযোগে কোনরকম ভনিতা ছাড়াই পলা বলে, আপনার সাথে কথা আছে। বিশাখ তার গানের মতোই সাবলীল উচ্চারণে বলে, বলুন। বিশাখকে ততধিক অবাক করে পলা বলে, আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আপনি আমাকে একটা সামান্য উপহার দেবেন? বিশাখের দাঁতে দাঁত লেগে গেছে সে কোন রকম উত্তর করতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে পলার দিকে চেয়ে থাকে। যে চাহনি ডিকোড করলে প্রেম ভালোবাসা না ভয় কোন প্রতিশব্দ পাওয়া যেত কে জানে। শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে বিশাখের অনুমতি চেয়ে পলা বলে ফেলে, আমাকে একটা সন্ধ্যা উপহার দেবেন? আমি কোনদিন কিছু আপনার কাছে ফিরে চাইব না। শুধু একটি সন্ধ্যা।

             আজ সেই দিন যেদিন বিশাখের কাঁধে ম্যান্ডলিন নেই। মনের মধ্যে সুর, উদারা মুদারা ছেড়ে তার সপ্তকে দ্রুত খেলা করছে। ওরা হাঁটছে, হঠাৎ শহরের অলিগলি দিয়ে। ইষ্ট কলকাতার জলজাল বুজিয়ে যেখানে তড়িঘড়ি বানানো হয়েছে রাজকীয় ফ্লাট বাড়ি যার নিকাশি বজ্জ খালে নেমে আসায় খেটে খাওয়া মানুষ বেঁচে থাকার রসদ হারিয়েছে। ওরা আজ সেইখানে নির্জনতার খোঁজে। খালের অপর পারে সার দিয়ে বস্তি বাড়ি মানুষ এখানে উৎকট দুর্গন্ধের সঙ্গে সহবাসে অভ্যস্ত।   স্টোনচিপ ঢালাই মসৃণ রাস্তায় বিকাশ আর পলা।  পাশাপাশি চলতে চলতে পলা মাঝে মধ্যে বিশাখের কনুই স্পর্শ করছে। আকাশে বাঁকা শান দেওয়া চাঁদ প্রতিবিম্বিত হচ্ছে খালের কালো জলে। প্রতিবিম্বের রুপ বস্তিবাসীর মতোই ভাঙাচোরা ফ্যাকাশে। পলা হাঁটছে। বিশাখ তার ডান হাত দিয়ে পলার বাঁ হাত স্পর্শ করল। কারও মুখে বাক্কি সরছে না। ওরা এখন বস্তির কাঁচা পথে নেমে এসেছে। পলা  ঘড়ি দেখে। তুবড়ির মতো যার গলায় গান ফোটে সে নিরুচ্চার। পঞ্চায়েত, বস্তির কাঁচা রাস্তা ঢালাই দেয় না শুধু ভোটের সময় আশ্বাস দেয়। খানাখন্দে হোঁচট খায় পলা। বিশাখ চকিতে হাত ধরে পতন রোধ করে। কথা বলার সুযোগ পেয়ে যায় বিশাখ- সাবধানে চলতে পার না। এক্ষুনি পড়ে যেতে। তারপর আমতা আমতা করে সে বলে- বলি এক সন্ধ্যায় তোমার আত্না তৃপ্তি পাবে? আশাবাদী পলা বিশাখের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিশাখ পলার চোখের দিকে নজর স্থির রাখতে না পেরে নামিয়ে নেয়। কী বলবে ভেবে না পেয়ে বিশাখ বলে ফেলে,শেষ বয়সে চাহিদায় লাগাম পরালে কেন!  উত্তর করে না পলা। আবার নিরুচ্চার চলা। রাস্তায় দুতিনটে কুকুর খুনসুটি করছে। রাস্তার বাঁদিক দিয়ে হাঁটছে পলারা। কুকুরের সার্কাসে পেছন থেকে ধেয়ে আসা সাইকেলের পথ আটকে গেছে। সাইকেল আরোহী বিশাখ আর পলার গা ঘেঁষে পেরতে চায়। কুকুরের দল পলাদের দিকে আরো কিছুটা এগিয়ে এসেছে। সংঘর্ষ এড়াতে বিশাখ বাধ্য হয়ে হাত ধরে "হেঁই সামালো", নাচের তালে হেঁচকা টানে পলাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। পথ প্রশস্ত হয়। পলা কথা বলে- যদি পাত্র ভরাতে চাইতাম তাহলে তা উপচে যেত। এক সন্ধ্যায় পাত্র পূর্ণ হবার নয়। দ্রবণ অসম্পৃক্ত থাকলে চাহিদা বেঁচে থাকবে অন্যথা...। পলার ভাবনা বিশাখের জীবন দর্শনের সাথে মেলে না। বিশাখ বলে,জীবনে কোনদিন ম্যাজিক দেখেছো, পি.সি সরকারের ওয়াটার অব ইন্ডিয়া? পৃথিবীর তিন ভাগ জল সেই জাদুপাত্রে স্থান পেতে পারে। পলা বলে, জীবন জাদু খেলার মঞ্চ নয়। কিন্তু হঠাৎ ম্যাজিকের প্রসঙ্গ এল কেন? হেঁসে বিশাখ বলে,অমৃত কলস আয়তন নিরপেক্ষ যত পার ঠেসেঠুসে পুরে দাও। দেখবে অপূর্ণই থেকে গেছে। বিজ্ঞানে লোহার স্থিতিস্থাপকতা পড়নি? 

                 ঘন্টাখানেক হাঁটার পরে ওরা একটা সরু রাস্তায় নামে। খাল ওদের সঙ্গ ছাড়েনি। কলকাতার বুকে এক্কেবারে গ্রামের আবহ অথচ থাকার জায়গা গ্রামের মত প্রশস্ত নয়। সার সার বস্তি বাড়ি ভিড় বাসে গাদাগাদি করার মত দাঁড়িয়ে আছে। এই বাড়ির মেয়েরা গজিয়ে ওঠা হঠাৎ শহরে, বাবুদের বাড়ি জন খাটতে যায়। পুরুষ মানুষ টোটো,রিকশ চালায়। পলা শুনতে পায়  একটা নিচু চালার ভেতর থেকে শিশুর চিল চিৎকার ভেসে আসছে।  মা নরমে গরমে বোঝাবার চেষ্টা করছে কিছু। শিশুটি নাছোড়। পলা আড়াআড়ি দেখতে পাচ্ছে বিছানায় ওরা বসে আছে। মা তার হাতের ছোটো মোবাইলটি তুলে দিয়েছে শিশুটির হাতে। শিশুটি নাড়িয়ে চাড়িয়ে ছোট্ট মোবাইলটি বিছানায় আছাড মেরে ফেলে দিয়ে বেআব্রু দোর দিয়ে  ছুটে বেরিয়ে আসে।  মা পিছু পিছু এসে হঠাৎ পলাদের দেখে ঘরে ঢুকে পড়ে। টিমটিমে রাস্তায় তখন আধ খাওয়া চাঁদের উঁকিঝুঁকি। ছেলেটি দেখে পাড়ার দুই দিদি স্মার্ট ফোন তাক করেছে। হাঁ করে ছেলেটি তাকিয়ে থাকে। বিশাখ শংকিত হয়ে পলাকে কিছু দেখায়। পলা বিশাখকে বলে, ও কিছু নয় ওরা রিল তৈরি করছে ফেসবুকে পোস্ট দেবে। ওরা দুজনে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে চোখ রাখে মেয়ে দুটির মোবাইলে। নিশিরাত নয় আকাশে শিশু সন্ধ্যায় বাঁকা চাঁদ আর এক বিন্দু তারা। তারা কথাটা পলারা বলেনি। চিৎকার করে বলছে বিচ্চুটা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। মোবাইল ক্যামেরা হাতে মেয়ে দুটি কথা বলছে না। পলা আর বিশাখ পিছিয়ে আসে। ক্যামেরার ছোট পর্দা ছেড়ে ওদের চোখ এখন উদাসী আকাশে নিবিষ্ট। খালপাড়ে সারি সারি কাঁদিবিহীন কলাগাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে পলা আর বিশাখ। তাদের আকাশচারি চোখে বিষ্ময়। ছেলেটি হাঁ করে গিলছে চন্দ্রের আগ্রাসন। উদলা পৃথিবীর বুক থেকে কেড়ে নেওয়া জমি রুটিরুজি মোবাইলের চাহিদা সব কেমন মিছে হয়ে গেছে। শুক্র যত চাঁদের কাছাকাছি এগিয়ে আসছে দূরত্বর আন্দাজ হারিয়ে ফেলছে পলা আর বিশাখ। অন্ধকার দলবদ্ধ কলা গাছের আড়ালে ওরা ঘনিষ্ঠ। ছেলেটি বন্ধুদের ফোনে মেসির ফ্রি কিক দেখেছে। গোলাকার চামড়ার বল যেমন টুক করে ঝরে পড়ে চারকাঠি জালে আকাশে ঘটতে চলা জাদুতে তার প্রতিফলন দেখে ছেলেটি গোওওল বলে চিৎকার করতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেয়। ছেলেটির মনে পড়ে প্রায়দিন, উদয় অস্ত্র পরিশ্রমের পর বাবা যখন  বাড়ি ফিরে এসে দেখে,মায়ের কাছে ছেলে কিছু না কিছু নিয়ে আদুরে আবদার করছে। শ্রমক্লান্ত বাপের কানে এই আবদার বেয়াদপি মনে হয়। বাপ সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে মারতে তাড়া করে। আশকারা দেওয়ার কারণে বাবা মাকেও বকতে ছাড়ে না। কোনরকমে পালিয়ে ছেলে মায়ের কোলে আশ্রয় নেয়। পৃথিবীতে মা ছাড়া কেউ এমন শান্তি কেউ দিতে পারে না। চাঁদ যেন ঠিক মায়ের মত। তারাকে আগলে রাখল আকাশ নামক কুয়োর আগ্রাসী কালো জলের আহ্বান থেকে। পলা বিশাখের বুকে লীন। রিল করতে মত্ত দুই মেয়ে। বিজ্ঞানের হিসেব মত চাঁদের সঙ্গে শুক্রর দূরত্ব কষছে ওরা। ওদের ধারাবিবরণী মোবাইল ষ্টোরেজে জমা হচ্ছে। বিশাখের তপ্ত ওষ্ঠ স্পর্শ করেছে পলার কপাল। যে যার বাসনায় বন্দী। রতিক্লান্ত চাঁদের শরীরে দীর্ঘক্ষন শুক্র অবস্থানরত। পলা লুঠে নিতে চায় সন্ধ্যার নির্যাস। স্তব্ধতামগ্ন বিশাখ অনড় অচঞ্চল। প্রেমাস্পদ তার বাহুবন্ধনে অমৃতবিলাসী। ঝটিতি চাঁদ আলিঙ্গন মুক্ত করে শুক্রকে। বিশাখ বলে, শুক্রের চন্দ্রগ্রহণ সমাপ্ত। জানিনা আরো কত কাল অপেক্ষা করতে হবে। ছেলেটি চন্দ্রগ্রহন কথাটি শুনতে পায়। রিল শেষ করে মেয়েরা পেছনে ফিরে তাকায়। বাহুমুক্ত হয় পলা। ছেলেটি ছুটতে ছুটতে হাজির হয় রৌদ্র তপ্ত দু চালার নিচে। চন্দ্র কথাটি ভুলে গিয়ে ছেলেটি বলে, মা গ্রহণ করো, মা। মা কিছু বোঝার আগেই শিশুটি মায়ের কোলে ঝাঁপিয়া পড়ে আঁচলে মুখ ঢাকে। 

              এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় বিশাখ হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে। পলার দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে সে বলে,এই মুহুর্তে আমার একটা ছোট্ট চাওয়া জন্ম নিল। ঘন চোখে তাকিয়ে পলা বলে, কয়েক দশক ধরে পাখির বাসার মতো বুকে ধরে রেখেছি তোমায়। বলে ফেলো, আমার প্রাণ ছটফট করছে। বিশাখ- একটা পূর্ণ গ্রহণের রাত। চেনা পৃথিবীর থেকে দূরে নির্জনে। পলা- আকাশের দিকে চেয়ে পাশাপাশি গাছে হেলান দিয়ে। বিশাখ- আমার কাঁধে তোমার মাথা। পলা- ম্যান্ডোলিনের মিষ্টি সুরে সুর মিলিয়ে গাইবে তুমি। বিশাখ- গ্রহণ ছেড়ে গেলেও মহাজাগতিক নিয়ম ভেঙে সারারাত পাশাপাশি থাকব আমরা দুজন। পলা- মশায়, আপনি কি চান? গ্রহনের হিসেব নিকেশ করা অপূর্ণতা নিশ্চয় নয়। বিশাখ- জানিনা। পলা- আমি শিল্পীর অতৃপ্তি চাই বাসনার অপমৃত্যু নয়।

কৃশানু মিত্র।

ফোন নম্বর- (৭০৪৪৫৪০৭৯৬)

ঠিকানা- ৮/এ/১, গোপী মোহন মুখার্জি লেন,বেলুড় মঠ,হাওড়া-৭১১২০২ 


Comments

Popular posts from this blog

ছোটগল্প - লাল কালো ইট।।

একগুচ্ছ কবিতা

কোন সে আলোর স্বপ্ন(কথায় ধারাবাহিক)