একগুচ্ছ কবিতা

 সকলে উপোষী 

অবসরের বাড়ি খুৃঁজতে চেয়েছিলে পালিয়ে যেতে চেয়ে দূরে, কাল পার হল সেই অনাদি চৌকাঠ 

যেখানে জীবনযাত্রার শুরু বলা যায়

কারণ

 নাও বেয়ে আসার পথে তার সাথে পরিচয়

 ভালোবাসা হয়ে যা মনে বিঁধে যায়

তারপর লুকছুপ অন্তঃসলিলা ফুলকাঁটা রঙিন জীবন

সকলের অমত পাড়িয়ে তুমি হলে রাজি

সময় বলে দেবে জ্বলবে না নেভা আলো

ভাসাবে জীবন, খেলা হোক বাজি।

অপার যৌবন ঠেলে ভাসলে সুখ দরিয়ায়

ফুটফুটে প্রাণ এল তোমার মাঝে

আশার শিয়রে এল বান।

তারপর শৈশবের খাত ধরে

উল্টো পথে পিয়াসী চলা  দুজন দুদিকে

তারি মাঝে বেড়ে ওঠে 

নিস্পাপ ফুলের আদলে মহাপ্রাণ। 


সম্ভবনার প্রোথিত বীজ অতিসার পেয়ে তরতরে

পৌরুষ বোঝে না সার অতি মান নয় ভালো

অতিদানে বলিদান হয় বলিরাজ।

দ্বন্দ্ব দীর্ণ সেই মেয়ে সার্কাস খেলা চলে 

আঁধারে, আল বেয়ে বেয়ে।

সন্দিগ্ধ পুরুষ মাতে নিজের পরিধি তে

সীতার আগুনে আয়োজন

পরীক্ষার আদলে। 

ভয় পাওয়া হরিণ যেমন 

শিশুর প্রাণ বাঁচাতে শ্বাপদ শক্তিধর

তেমন রমণী বদলায় নিজের পাখায়। 


বদলায় দিন। 

পুরুষ গুটিয়ে যায় সাপের বিবরে

সঙ্গে নিয়ে যায় প্রাণধন শিশু 

অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় সম্ভবনার শতেক যোজনা। 


চেতনায় ভর করে এগোল সে মেয়ে

বাহির আড়ালে চৌকাঠ পার হয়ে

যেখানে মন ছিল না একেবারে 

সেইস্থান প্রাণ দিল  দিল বাঁচার আশ্বাস বারে বারে।

আজ তুমি কারও দিদি

কারও মা পৃথিবীর প্রেয়সী

ভালোবাসা বন্দী নয় আজ কাঁদে 


সকলে উপোষী।

২.

কেন??? 

তুমি যদি একটু উঁচু হতে

তোমার কাঁধে মাথা দিয়ে আমি 

আমৃত্যু জেগে থাকতাম

আমি লম্বা, থুড়ি উঁচু হলাম।


তোমার চোখ দুটি প্রখর হলে

আমি আকাশ দেখতাম টেলিস্কোপে

আমি আমার চোখে

বাজপাখির দৃষ্টি বসালাম।


তুমি বললে উদার হও

আমার বুকে 

নিস্তরঙ্গ সমুদ্রের আস্ফালন 

আমি উদার হলাম।


তুমি দেখতে চাইলে

আমার আগুনে ভস্মীভূত 

পৃথিবীর জঞ্জাল 

আমি দাবানল জ্বাললাম।


ভাগ্যি, তুমি

খাটো হওয়ার আবেদনে

ঐশ্বর্যময়ী হতে চাও নি

তাই তো ভালো বাসলাম।

.......

৩. হাসি 

তোমাকে কিছু দিতে চেয়ে

ছোট করব না।

হাবিজাবি ফুল 

হীরা মাণিক্য গেঁথে মালা

স্ব-মূল্য রতন।

পাহাড়ের মসী মাখা

নিরেট কুয়াশা

অথবা সমুদ্রের 

নীল রাততর।

প্রতিটি দিনের না-পাওয়ায়

পাওয়ার আবেশ

জাপটে ধরা শীতের কাঁপুনি

রোধি লেপের ওঁম

তারাভরা আকাশের

অকাল সন্ন্যাস।

হারিয়ে যেতে যেতে

হাবুডুবু খেয়ে শ্বাস নেওয়া।


প্রতিটি জীবন বোধে তুমি

অথচ দেখ 

কিচ্ছুটি হল না দেওয়া

কথা ছিল লিখে দেব

অনন্ত জীবন পারলাম কই?

আসন্ন বিদায় বেলায়

অমোঘ প্রসন্নতায়

তুমি স্থির অচঞ্চল।


আমি শুধু কেঁদে মরি

কিচ্ছুটি হল না দেওয়া।


তোমাকে দেব বলে

একটা হাসি কিনতে চাই

কী মূল্য নেবে বল?

৪.নারী দিবসে ।

অবিরত দিনগুলো আসে 

কেটে যায় নিজের খেয়ালে 

অজস্র কথকথা মাঝে

অলীক নদীর তালে তালে।


সবাই নিজের কথা বলে

 নদী কারো কথাই শোনে না 

বাহারি চলায় সদা ব্যাস্ত

 সময় নিয়ম ঘড়ি উড়িয়ে।


পুরুষ বাঁধলো তাকে শেষে

শতকথা মানাতে চেয়ে

বাঁধা পড়া আঁখি পল্লবে

সুদূরের বাঁশি বাজে মেয়ে।


দম্ভ চুর্ণ, ভবিতব্য 

 সেদিন সুদূর নয় আজ

প্রকৃতির পৌরুষ মলে

বাঁধ ভেঙে থইথই সাজ।


হাবুডুবু অতল জলে

সভ্যতা পুড়ে মরে খাক

লাল নিশানের শাসনে,

  

পুরুষতন্ত্র, নিপাত যাক।

৫.সত্য-মিথ্যা

সত্যি বোঝা ভুলের দেশে

 পাহাড় প্রমান ভারি

ঈশ্বরের কল্পলোকে 

প্রবল অনাচারী।


ভুলের বোঝা ভুলের ঘাড়ে

 সত্যি বলে নামে 

অবিশ্বাস্যী হৃদয় তখন 

ভীষণ রকম ঘামে।


বিশ্বে যদি সত্যি শুধুই 

সত্যি কেবল থাকে 

ভালোবাসার সে সত্যকে বুঝতে হবে

 সত্য অনুরাগে।

৬.কড়ানাড়া

জীবন চেয়েছিলে মিলল কারাগার

                       সংসার রঙ্গে বৈরাগ্য আসবে যখন

আমিও বিবাগী হব সেই ক্ষণ       

                                 তোমার আমার।

           

কারাগার চায় সকলে

পেয়েও যায়

শুধু তুমিই কপালপুড়ী

তুমি চেয়েছিলে

মেঘের গরাদ দেওয়া সেল

মাটিতে হালকা চাপ 

তৃতীয় সুত্রে ঠাঁই পাবে

সাঁই সাঁই মেঘেদের ঘরে

বলাকার সাথে ডানা ঝাপটের খেলা

একেলা নিরালা 

মাটির ওপর যে দাঁড়িয়ে আছে

গেরোবাজ উড়বে তার হাতের তালে। 

,উড়লো না কেউ

হাতের নির্দেশে ট্রিগারের ফটফট

ছটফট পাখি নেমে আসে 

সাঁঝবেলা অনন্ত রাত্রির ডাকে,তুমি

 ফের একেলা।

এমনই দিন কেটে হয়ত

নক্ষত্রলোকে জাগে সাড়া

ঘুমন্ত পুরী

জাগ ওঠ শোন ঐ

রাত কড়ানাড়া।


৭. অসময় মৃত্যু। 

বারে বারে চেয়ে ছিলে

মুক্তির অঙ্গীকার পেতে

বলেছিলে - মুক্তি দাও

দাও মুক্তি ছুটি নিয়ে

চলে যাব নিয়তির আড়ালে। 

শুনিনি কথা 

এলোমেলে ছেলে ভোলানো

ছড়ায় লুকিয়ে ছিল 

শুকনো পেনের আগায়

না-মুক্তির দস্তখত। 

আজ পেলে বেনজির

মুক্তি, ভালোবাসার

 মাধ্যাকর্ষনে

যা  চির অমলিন অসীম।


আজ বল সেদিনের

সে ছল ঠিক ছিল কি?

ছিল কি আমার তরফে

ভুলের অধক্ষেপ?


জমাট ভালোবাসা 

হত কি এমন

রঙিন 

অসময়ে মৃত্যু পেলে।

৮. বিজ্ঞাপন। 

বাকি কথা রয়ে গেল বাকি

অধমের উপাসনা থাক

পড়ে থাকা পিলসুজে কালি

আয়না নিজের মুখ ঢাক।


বিপদে যে ছিল না কাছে 

সে কি করে বন্ধু হয়

দার্শনিক সেই হতে পারে

প্রহর গুনে যে পাশে রয়।


ভুল শুধু ভুলই ছড়ায়

জঞ্জালে নেই কোন সার 

অসার আবর্তনে

বিজ্ঞাপনের জয়ঢাক।

৯. পিনহোল।

তোমার চোখে কাজল 

সুচী ছিদ্র আলোক বৃত্ত

সোজা ছবি উল্টে দেখা

দৃশ্যত দুর্বোদ্ধ।


অসংখ্য ভুল একের ওপর

অজস্র রূপকথা

অধরা তার মাধুরী যার

অপার ভালোবাসা।


সোজা কখন লিকার হয়ে

ডিগবাজী দেয় মত্ত 

 রাজা যখন সাধুর বেশে

ভন্ড- প্রমত্ত।


ভুলের বোঝা বাড়িয়ে সোজা

ভুলই ডেকে আনে

 অন্ধকারা বাঁজা পুরুষ 

অসময় প্রসব করে।

১০.শান্তনা নয়। 

সময়টা ছিল একটার আশপাশ  

কুয়াশা মাখা আবেশ ছিলনা মনে

বুকে দুরুদুরু ভূমি, 

কম্পন

ছুঁড়ে ফেলে

একছুটে হলি আলোকবর্ষ পার।


তারপর আর মনে নেই কিচ্ছুটি

নদীর টানে শুধু জোয়ারের ঢল

ভাঁটারা হারায় চরম অসন্তোষে 

পৃথিবী দেখেনি আজগুবি এই চল


বয়স আজকে তারাদের প্রতিযোগী

মিটমিট জ্বলে

 রাত-পাহারায় ঘোর

হৃদয়ে, কেন গ্যাসীয় অস্থিরতা?

নিকষ কালো অপার আঁধার পুর

নক্ষত্রেরও বুঝি অতৃপ্তি থাকে

থাকে 

পাওয়া না পাওয়ার 

শত বেরঙিন ভোর।


হিসাব খাতায় নির্বোধ আঁকিবুঁকি

তবু দিন বাজে রাতের কান্না ছিঁড়ে  

শীতল আকাশে অনন্ত দাবানল

ভালোবাসা তুই চিরন্তন হলে

শান্তনা নয়

 শুকনো কাঁটা ফুলে

স্ফুলিঙ্গ হয়ে আমায় বাঁচিয়ে রাখ।।

১১. চাওয়া

দলহীন হয়ে

 মানুষের পাশে বসো 

কথা বল নিরন্তর।

পাহাড়ের উঁচু নিচু 

মেঠো পথ ছেড়ে

 নেমে এসো সমতলে।

যেখানে নদী 

পানকৌড়ি ডুব

 সাগরের জলে।

সেই তলহীন 

অতলে 

তোমাকে দেখতে চাই।

মানুষের কান্না

দেখতে চাই না নতুন চাদরে

সদ্য কুঁড়ি ভাঙ্গা ফুল

 ধুলায় লুটিয়ে গড়াগড়ি

এমনটা আর যেন না হয়

তলহীন হয়ে এসো বক্রতা ঝেড়ে।

ধেনো জমি ঘাসে

অন্তর্বাসহীন মানুষের দোরে

রঙহীন হয়ে বসো।

মানুষ চাইছে বড়।

১২. বিধস্ত। 

ধ্বস্ত আমি কাজের ভারে

ধ্বস্ত জীবন পুরে

ভাবছি কেমন ছুটবে গাড়ি 

ধ্বস্ত বাঁশির সুরে।


মেনে নেওয়া মনে নিতে

জীবন অভ্যস্ত

ধ্বস্ত জীবন ছুটছে দেখবে

দিব্য বিধ্বস্ত।

১৩. 

একদিন আমরাও অতীত হয়ে যাব।।

একদিন আমরাও অতীত হয়ে যাব
পৃথিবীর অভিকর্ষ ফেলে
সকল ভালোবাসা চাপান-উতোর
দ্বন্দ্ব আস্ফালন 
মেঘ ভাঙা বৃষ্টি 
ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ভুলের রতন
না লাগা গ্রহন ঠেলে
বর্জনের পথ চলা
অথবা
মলিন ঘরে অন্ধকার কুপী খুঁজে
কোলে বসা বন- জ্যোৎস্নার চাদর উড়িয়ে 
অতীত হয়ে যাব।
তার আগে দেখে যেতে চাই 
মসৃণ ব্রম্ভান্ডের অবাধ ঘুর্ণি
সুখ-আশ্বাস ভরা 
আমার লালন
বটগাছ হয়ে ছায়ার ভবিষ্যতে
বাঁধবে আমায় 
বটফুল টাপুর টুপুর 
 নুপুর তুলে নাচবে 
আমার নিটোল সন্ধ্যায়।
রাত গাঢ হয়ে এলে ভয় নেই আর
বটের ছায়া ঘেরা আলোয়
দিনের আশ্বাস।
একদিন আমরাও অতীত হয়ে যাব

ভবিষ্যৎ ফেলে।

১৪.যদি চাও।
আর কী বা দিতে পারি।।
নরম সূর্যোদয়ে নয়
নয় স্বর্ণধন সম্পদের আশ্বাসে
 খুলজা সিমসিমে পড়ে পেতে
উত্তরণের ভবিষ্যতেও নয়।

কলিজার টাটকা রক্ত দিতে পারি
দিতে পারি অশ্রু রাশি সন্ধানী সূর্যহাস্য
দুপুরে গনগনে আঁচে সত্য ভালোবাসা দিতে পারি
প্রত্যেক প্রত্যুষে দিতে পারি দুবাহুর আবাহন
যদি চাও।

১৫.একটা ঘর।
একটা ঘর
নির্নিমেষ চেয়ে ছিল
অকারণ কারও জন্য
সে পেয়েছিল সঙ্গ।
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়া
 গেরস্থালি
রোজকার মিঠেকড়া দৃষ্টিযাপন
হাজারো কথায় মহাভারতে
কখনও অর্জুন সুভদ্রা 
কখনও দ্রৌপদী দুঃশাসন
যদিও বব্রুবাহন আসেনি পৃথিবীতে 
ঘরের সাধ ছিল বড়।
দিন যায়
 ঘরের চাহিদা বাড়ে
জীবনে জীবন বিয়োগ হয় না
আবার যোগের অংক শেখেনি সে
চুম্বক ক্ষেত্র লয় প্রাপ্ত হয়
আবার কখনও, না মরে
 মুহুর্তে উত্তাল
ভুমিকম্পের উত্তাপ পেয়ে
পথে পথে
 আস্তানার খোঁজে ঘর
এ-গলি সে গলি যেদিকেই যাও
 প্যাঁচ খেয়ে চলা রাস্তা শেষ হয়
 ব্রিজের অন্ধকারে
 জোটে না মাথার ছাদ।
তারপর একরাশ নিস্তব্ধতার কর্পুর 
উবে যাওয়ার আগে 
 নিয়ম করে বলে
 সময় পাখি
আজকের মত ওড়।

১৬.আমার ভাবনা কোথায় হারায়।
বুকের ভিতর শব্দ নুড়ি কথার ফুলঝুরি 
সাদা-কালোয় খুঁচিয়ে পাওয়া
 রঙ-বেরঙি কুঁড়ি 
 ছড়িয়ে পড়ুক অসীম আকাশ
পরিযায়ী উড়ান 
ইচ্ছেডানায় নামুক
তোমার বুকের কাছে এসে
শোনাক তোমায় পাহাড়ি ধুন
রাতে বাঁশির সুরে
সুপ্ত নদী যখন ঘুমায় পৃথিবীর ওপারে
আকাশ যখন ব্যাপ্ত ঝড়ে
 প্রজ্জ্বলিত তারা
আমার কথায় গল্পে তখন
তুমি আত্মহারা।

১৭.আমি সইতে পারবো না।। 

সবকিছু সয়ে যায়
 একটা গোটা জীবন 
পুরনো পলেস্তারার মত
 খসে পড়ছে।
সাম্যের নামে সয়ে গেছিল
রক্তচক্ষু 
তারপর ন্যাংটো হাঘরের দল
বিবস্ত্র করল শিক্ষা কর্ম,
লুট করলো
 ভবিষ্যৎ শিশুর বোধের প্রাঙ্গণ। 
দিব্যি সয়ে গেল।

এরপর কোন একদিন 
 রণ হুংকার ছাড়বে 
কপিকুল।
ডিজের ভেতর থেকে ভেসে আসা
ভয়ার্ত অধর্মে
 রক্তলোলুপ আগামীর ঘোষণা।
দেবীকে জ্যান্ত কবরে পাঠিয়ে 
 যিনি দেবতা হলেন। 
যার নামে আস্ফলন 
দিকে দিকে
তিনি সময়ে
ঠিক
 সয়ে যাবেন।

সইবে না শুধু
 তোমার আমার 
বুদবুদের মত ফেটে পড়া
স্মৃতির 
বিনাশ ব্যাথা।
টাপুর টুপুর ঝরে পড়বে 
আমার ভেতরের ঘরে
 অবিরাম।
কখনো 
চোখ শুকিয়ে নিম্বাস মেঘের মতো 
রসাল হবে।
কখনো সাহারায় এক ফোঁটা মরুদ্যান 
তুমি।

আমাকে ক্ষমা কর

আমি সইতে পারব না।। 

১৮. সবটাই রয়ে গেল।।

সবটাই বাকি রয়ে গেল
ফাঁকি পড়া পাঠশালা
আইস বাইশ খেলা
খোখোর মাঠের দৌড়
ভুল পিঠে ধাপ দিয়ে
বাজি হেরে মোট বওয়া
সবটাই।

সবটাই ফাঁকি রয়ে গেল 
বীজ ধান বুনে 
চারা রোওয়া
তুলতুলে নরম আলোয়
সোনালী ধানের দোল
ঘরে তুলে
কেন, সবটাই বাকি থেকে যায়!

সবটাই ভুলচুকে গেল 
ভুতের বেগার খেটে
বস্তা পিঠে আস্তাকুড়
ভাতের গন্ধ কুচো মাছে
 জীবন সাধন।
সবটাই?

শুধু শুধু শুধু চলা
অকারণ কথা বলা
মনের ঘরেতে মন
কাটাকুটি প্যাঁচ খেলা 
তবু বেঁচে থাকা জান
ধুকপুক ধুক।
সবটাই!!

ফেরিওয়ালা হেঁকে যায়
বুকের ভিতর 
নির্জন দুপুর
তোমার আমার সুর
কিছু মেলে না হায়
সবটাই,খাঁ খাঁ মরুভূম??

খানিক আঁজলা ভরে 
খালি করে এক সমুদ্দুর 
সবটাই রয়ে গেল
তার কাছে।
সবটাই
 বাকি কিছু নেই সম্পদ
ফুরিয়ে গিয়েছে আমি
তোমার অপার জলে
সবটাই রয়ে গেল।

১৯.অমর আশা।

এক দিগন্ত আকাশ ছিল 
ছোট্ট ঘরের কোণে 
কোথায় সে সব হারিয়ে গেল 
কখন আপন মনে।

তখন দিনের ছুটি হলে 
কান্না ভুবন  ভরা
আলোয় আবেশ ছু্ঁলে পৃথী
ডানায় আকাশচরা।

আসত তখন দৌড়ে মেয়ে
হন্তদন্ত প্রাণ
অপেক্ষারা অপেক্ষায় 
ভীষণ  মুহ্যমান।

অপেক্ষারা মরছে এখন
ভুলতে চেয়ে ব্যথা
আশার শুধু হয়না মৃত্যু 

কেবলি পথ-চাওয়া।

২০.তোকে নিয়ে আজ সকালে।।

আজ সকালে
হঠাৎ করে
ফিরে পাওয়া আবির রঙিন
পুরানো দিন।

আজ সকালে
এল বয়ে
 মন খারাপের বসন্ত রাগ
আনন্দের-ই বার্তা নিয়ে।

লুকিয়ে জমা
বরফ যত জমে পাথর ব্যথার মত
ঝর্ণা হল নদীর কোলে
আজ সকালে।

আজ সকালে 
বিকেল ছিল,রাত্রি আছে
ভোরের গন্ধ 
তোকে নিয়ে।।

২১.আর কী বা দিতে পারি।।

নরম সূর্যোদয়ে নয়
নয় স্বর্ণধন সম্পদের আশ্বাসে
খুলজা সিমসিমে পড়ে পেতে
উত্তরণের ভবিষ্যতেও নয়।

কলিজার টাটকা রক্ত দিতে পারি
দিতে পারি অশ্রু রাশি সন্ধানী সূর্যহাস্য
দুপুরে গনগনে আঁচে সত্য ভালোবাসা দিতে পারি
প্রত্যেক প্রত্যুষে দিতে পারি দুবাহুর আবাহন
যদি চাও।
২৩.
Perry poetry. (৪৬)
Sunset melts into wave 
The colours fade into the sea
And it makes me wonder
 If you'd ever drown in love with me. 
আঁধার নামার আগে
 আলোর
 ঢলে পড়া শেষ বেলা
সাগরে নিকশ রঙে
জাগে নৈঃশব্দের খেলা।
আমি অবাক হব যখন
 ডানা ঝাপটানো
পানকৌড়ি
উড়বেনা কোনদিনও
অসীম আকাশ পেয়ে।
২৪.(Wiliam Blake)
এর আশ্রয়ে 
ধুলি কনায় ভুবন গড়
বন্য ফুলে স্বর্গ 
 মুঠোয় বাঁধা অসীম তুমি
পলকে অনন্ত।
২৫.মাগনা বয়ে যাওয়।।

কিছু কি ভাবলে তুমি
চৈত্র অবকাশে বিষন্ন ধীরু বাতাসে
জানি অবকাশ হীনতায় 
অবসন্ন তুমি।

আমিও তেমনই সুখহীনতায়
আকুল পথ চেয়ে 
রুক্ষ দুপুর বাজে 
অনির্দিষ্ট একঘেঁয়ে সুরে।

তারপর সন্ধ্যা পেরিয়ে
আসে রাত
তোমার আমার যত তুলে রাখা সংলাপ
হানা দেয় ঘুমের দরজায়।

তুলে রাখা ঘর সংসার 
ঠোকাঠুকি বাসন কোসন
ঝগড়া খুনসুটি  
তারপর জেগে ওঠে ভ্রম।

হাঁতড়াই তোমার ছোঁয়া
আমার শরীরে 
কিছুই হল না পাওয়া
এমনই মাগনা বয়ে যাওয়া আমরণ।

২৬. কবিতা তোমার ছুটি।

এই যে বললে
লিখতে শিখেছি আমি।

ঝর্ণা যেমন?

তাল পাতার বাঁশি
শৈশব জুড়ে
পতপত পতাকারা
ঘুড়ির আকাশ উড়ে
 ঘয়লা রঙিন?.

তেমনি দোনলা  আজ
 নিশানা আঁধারে
চোখ বেঁধে
 শব্দাশ্রয়ী বাণে  
নিজেকে শেষ করা।

কবিতার নাম নিয়ে
আকথা কুকথা
সৃষ্টির উজবুকে 
মধুমাখা 
বেদনা গাথা।

চাইনা কবিতা আমি
চরাচর ছেড়ে 
অস্তগামী সূর্য না,
 মৃত নক্ষত্রের অবশেষ 
ধুলায় মিলাক মহাকাশে।

আমি চাই সুর
আমার আকাশ ছুঁতে
কল্পনায়
অনিচ্ছুক যাত্রা
 খুঁজে পাাওয়া সেই সূদুর।

২৭.
এক চিলতে ঘর।।

যখন আমি ভোর করে দিই তোমার বিহান বেলা
না পাওয়ার যন্ত্রনারা কাঁদতে থাকে বনে 
কাছে এসে উদাসী মন দেখতে থাকে শুধুই
রাগ অনুরাগ ভীষণ জীবন বাঁধা ছকের বাইরে তখন,
ক্যানভাসে ঢেউ মেল তুমি নানান রঙের মেলা।

সেদিন যখন আঘাত পেয়ে আছড়ালো বাজ অকাল মেঘে 
দেখতে পেলাম তুমি তখন দৌড়ে এলে।
 যন্ত্রণারা তোমার বুকে আলুখালু বসন দুখে।

ব্যার্থ আমার সফল গান তার সপ্তক আমিত্ব প্রাণ
ভেসে গেল সকল জেহাদ আমীর খাঁয়ের মন্দ্র বেহাগ
ঝাঁপিয়ে তুমি পড়লে বুকে যেমন ঝাঁপায় 
চোখের পানি অনন্ত সুখে। 

ধন্য ধন্য বাঁচা মরা আচম্বিতে
 মুহূর্তরা অশ্বারূঢ় ভাঙলো ভুলের জানলা যত 
এক সমুদ্র হাওয়া এল এক চিলতে ঘরে।

২৮. শব্দহীন। 

কথা হীন থেকে যাব
কেটে যাক শব্দহীন প্রহর 
গুনেগুনে।

আসবেনা সাড়া
 খেদ নেই কোন
বেঁচে থাক প্রাণের ঈশারা।

তোমার আমার যত অকথিত সুর
বাজুক জীবন জুড়ে
আকাশ সুদূর।

ভেসে চলা জীবনে
খড়কুটো মান
ধন্য হব যদি পাই সমান

শেষদিনে।

২৯. জীবাশ্ম। 
যা ছিল নতুন কিছু
 রয়ে গেল পুরানোর খামে 
যা কিছু পুরানো রীতি 
জীবাশ্ম সংসার ধামে। 

বাহারী সাত রঙে
সময় বহুরূপী জেনো
অতীত আলেয়া নয়
 আগামীর ভৈরবী শোন।

সেদিনের আশা যত
কাঠ-কয়লা জমা তাপ
বর্তমান  হয়ে হোক আজ
জ্বলে পুড়ে খাক।

৩০.
সাধন।।
ভালোবাসা কোন দপ্তরির হিসেবের খাতা নয়
লাভ ক্ষতি খুনসুটি অভিমান 
সূর্যদয়ের রঙ সূর্যাস্তে মিলিয়ে 
যোগবিয়োগ কাটাকুটি খেলা।

এই মুহূর্ত কদাকার মুখের
 ভৌগোলিক অবস্থান ম্যারামতে 
শ্মশ্রু উৎপাটনে যত্নশীলা 
সে কি ভালোবাসা?
সাজানো ফল
 বঁটিতে কাটার কচি শব্দে যিনি
চির অমলিন
 অথবা মাছের কাঁটা বেছে তোলা।

পানসেজে মুখে তুলে দেয় না সে
সোমবার মেলে ধরে
 পাটকরা আগামীর সাজ
 অনাগত অমঙ্গল কল্পলোকে বাজে ক্ষণে ক্ষণে। 

চুলচেরা হিসাবের পরিমাপে
 খন্ড ক্ষুদ্র আমি কেন হতে পারি না
সমারোহে হরিৎ তৃণ 
পায়ে দলে ফিকে রঙা মেঠো
 পথের সবুজ।

কেন বারবার মন নাই
কেন শুনিনা কোন ব্যথা
যাপনের শত কথকতা 
নিজের ঢঙে চলা বাঁধহীন নদী যেমন
হিসাব করো না কেন?

দেখ,
 ফের আসে হিসাব-কিতাব
অংকে মুক্তি নেই জেনেও
দলিলে বানিজ্যিক মন
কলিজা ঘুর্ণিতে তোলপাড়, 
ভালোবাসা তোমার সাধন।
৩১.

সবুজ আঁচলে সোনা মেখে
ঢেউয়ের চুড়ায় ভাসে ভেলা
 ফল ধরা বাবুইয়ের ঠোঁট
কেটে যায় বেশ, একলা। 

খেয়ালে বে-খেয়ালেি রাজ
জানলায় বেআব্রু ঝড়
পলেস্তারায় ছবি আঁকা
রকমারি চুনকামি সাজ
গালাগালে ভ্রুক্ষেপহীন 
নেই কোন হেলদোল কাজে
হঠাৎ ক্ষেপে গিয়ে রাজি
পাগলা জগাই যুধ সাজে।

থামো থামো ওঠে চিৎকার 
দরকার নেই অবেলা
শেষে হাসি ফিরে পেয়ে মন
বিশ্বাসে ব্যাঙবাজি ঢ্যেলা।
৩২.

ভুলে যাওয়া।।
ভুলে যাব তোকে
ঠিক ভুলে যাব তোকে
যাবো না তোর বুকের কাছে
ফুলের রেনু মেখে। 

চাইবো না চোখ আকাশ চাওয়া
গাইবো না গান তোকে পাওয়া
ছুটবো কেবল খেয়ালি পথ
পথকে ভালোবেসে।

তখন যদি বাজিস বাঁশি
কাঁদিয়ে ই্টের পাঁজর
ভাঙে যদি নিথর দেওয়াল
আমার উঠান সদর।

ছিঁড়বো আকাশ উল্টো নদী 
লিখেছিলাম আজ অবধি 
পুড়িয়ে প্রেম দাবানলে
ছুটবো লাভার মত।

অচেনা বুক তুলবে ছন্দে
নটরাজি সুর
দেখবি সেদিন নেই যে আমি 
অনেক যোজন দূর।

Comments

  1. কাকু, অপূর্ব লাগল। কবিতার কথাগুলো সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল। ভবিষ্যতে তোমার লেখা আরও পড়তে চাই 🙏🙏

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

ছোটগল্প - লাল কালো ইট।।

কোন সে আলোর স্বপ্ন(কথায় ধারাবাহিক)