Posts

Showing posts from August, 2025

ছোটগল্প- জানকি দি

 জানকি দি। আমার সঙ্গে অফিস যেতেন রোজ। মুখটা হাসিতে পরিপূর্ণ। কোন ছোটবেলায় পড়া, "মূর্তিমতী করুণা", ঠিক  তার প্রতিরূপ যেন। বয়স ধরা যাক সত্তর। না না সত্বর আসেনি, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসেছে। ছেলেকে মানুষ করতে তাঁর সর্বস্ব নিঙড়ে দিতে হয়েছে। ছেলে যখন হোস্টেলে গেল জীবন যেন সাহারা মরুর শীতল রাত। তখন শুধুই অফিস আর ঘর। যদিও পথের বন্ধুদের প্রত্যক্ষ মদতেই তিনি বেঁচে ছিলেন। উৎসাহী সহযাত্রীদের কেউ জানতে চাইলে তিনি বলতেন, স্বামী কবেই দলছুট হয়ে পাড়ি দিয়েছে ভূলোকের বাধা কাটিয়ে। একা হাতে চাকরী-হেঁসেল-ছেলের লেখাপড়া সব সামলেছি আমি। রোজ শুনতাম হাজারো গল্পের মনতাজ। নাতি নাতনি ঘরভরা সংসার। বাচ্চাদের চাহিদা, ঠাকুমার ঝুলি যেন রোজ পূর্ণ হয়ে আসে ঘরে। অফিস ফেরতা কিছু না কিছু কেনা চাই। বৌমাটি তাঁর বড়ই সজ্জন নিজে হাতে বানিয়ে টিফিন দিত। কোন কোন দিন বৌমার হাতে গড়া মিষ্টি অফিস যাওয়ার পথেই আদরের সহযাত্রীদের কয়েকজনকে ভাগ করে দিতেন জানকি দি। রঙ্গন একবার জিজ্ঞেস করে, দিদি আপনার অফিসে অবসরের কোন নিয়ম নেই?  দিদি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চাকরি করতে হবে আমাকে। এই কোম্পানির আমি একজন মূল অংশীদার।   ...

ছোটগল্প - লাল কালো ইট।।

 লাল-কালো ইট। রমেশ রোজ দেখে, মেশিন থেকে বার হওয়া মাটির সঙ্গে বালির মিশেল হচ্ছে। তারপর পাথাই চাচাদের হাত ধরে ছাঁচে পড়ছে মিশেল মাটি। রমেশ লছমীকে একদিন জিজ্ঞেস করে, মা সব ইট একরকম দেখতে, তবে মানুষ কেন ভিন্ন রকম? লছমী উত্তর খুঁজে পায়না। ছেলেকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে, সে বলে, ইটের সব ছাঁচ যে মাপে এক। রমেশের মাথায় ঢোকে না মানুষের ছাঁচ কোথায় কিনতে পাওয়া যায়। সে বলে, মা বলোনা, আমার ছাঁচ তুমি কোথায় পেয়েছিলে? রমেশ ওর বাবাকে কোনদিন দেখেনি। রমেশ লছমী মুন্ডার ছেলে। উত্তর না আসায়, রমেশ বলে, বলো না, কোন পাথাই চাচা আমার ছাঁচ ঢেলেছিল। লছমী বলে, আমাকে বকাস না, হাতে অনেক কাজ। তাড়াতাড়ি মহল্লা ছেড়ে বেরোতে হবে।       মাস খানেক পরে শুরু হয়ে যাবে বৃষ্টির মরসুম। আজই বেশ কিছুদিনের জন্য রমেশদের অছিপুরের পাট চুকে যাবে। বছর তিনেক হল ওদের এমন উদ্বাস্তুর মত ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কেন যে বারবার ইটভাটা ছেড়ে ওদের যেতে হচ্ছে তা' রমেশ জানে না। মা গোছগাছে ব্যস্ত, রমেশ খেলবে বলে গণেশদের  চালায় হাজির হয়। বিছানাপত্তর, দড়িদড়ায় বাঁধা পড়ছে সেখানে। গণেশ তার মায়ের সঙ্গে হাত লাগিয়েছে কাজে। গণ...

নাটক- চুল কাটতে বেলা গাল......।

 নাটক চুল কাটতে বেলা গেল.. [সেলুনের দেওয়ালের রং চটে গেছে বহুদিন। সারানোর পয়সা নেই কেশবের। সিমেন্টের পলেস্তারা জায়গায় জায়গায় খসে পড়েছে। টিমটিম করে আলো জ্বলছে ঘরে। বেঞ্চে একা বসে কেশব কাগজ পড়ছে। কাগজ কেনার ক্ষমতা হারিয়েছে কেশব। গত দিনের কাগজ চেয়ে আনে পাশের সাইবার কাফে থেকে। কেশবের সেলুনে এফ এম রেডিও সবসময় চলে। আজও তার ব্যতিক্রম নেই। রেডিও চলবে কেউ শুনুক বা না শুনুক।] ডাক্তার কৌশিক- কি ব্যাপার হে, এ যে বিলকুল গড়ের মাঠ!  ভিড় এড়াতে বেকার আমি ভর সন্ধ্যায় এলাম। কেশব-  স্যার বসুন, ভগবানের কাছে আমার জন্য একটু দোয়া করুন যেন দোকানে ভিড় হয়। আমি তাহলে নিঃখচায়  আপনার বাড়ি গিয়ে চুল দাড়ি কেটে আসব।  ডাঃ কৌ- কী যে পাগলের মতো বল, চাইলে তো, আমি নিজের জন্যই চাইতে পারি। চাইলেই যদি সব পাওয়া যেত। কেশব- আচ্ছা স্যার, আপনার আর চাওয়ার কি আছে? মস্ত দুটি গাড়ি,প্রাসাদপম বাড়ি। ছেলেরা বড় বড় চাকরি করে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা আনছে। ডাঃ কৌ- কী যে বলো, কতশত জিনিস না পাওয়া রয়ে গেল জীবনে।  কেশব- , ডাক্তার কৌশিক রায়, বলছেন এই কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।  ডাঃ কৌ- কেশব, চাহিদার কি শেষ আছে? কেশব-:নেই...