নাটক- চুল কাটতে বেলা গাল......।

 নাটক

চুল কাটতে বেলা গেল..

[সেলুনের দেওয়ালের রং চটে গেছে বহুদিন। সারানোর পয়সা নেই কেশবের। সিমেন্টের পলেস্তারা জায়গায় জায়গায় খসে পড়েছে। টিমটিম করে আলো জ্বলছে ঘরে। বেঞ্চে একা বসে কেশব কাগজ পড়ছে। কাগজ কেনার ক্ষমতা হারিয়েছে কেশব। গত দিনের কাগজ চেয়ে আনে পাশের সাইবার কাফে থেকে। কেশবের সেলুনে এফ এম রেডিও সবসময় চলে। আজও তার ব্যতিক্রম নেই। রেডিও চলবে কেউ শুনুক বা না শুনুক।]


ডাক্তার কৌশিক- কি ব্যাপার হে, এ যে বিলকুল গড়ের মাঠ!  ভিড় এড়াতে বেকার আমি ভর সন্ধ্যায় এলাম।

কেশব-  স্যার বসুন, ভগবানের কাছে আমার জন্য একটু দোয়া করুন যেন দোকানে ভিড় হয়। আমি তাহলে নিঃখচায়  আপনার বাড়ি গিয়ে চুল দাড়ি কেটে আসব। 

ডাঃ কৌ- কী যে পাগলের মতো বল, চাইলে তো, আমি নিজের জন্যই চাইতে পারি। চাইলেই যদি সব পাওয়া যেত। কেশব- আচ্ছা স্যার, আপনার আর চাওয়ার কি আছে? মস্ত দুটি গাড়ি,প্রাসাদপম বাড়ি। ছেলেরা বড় বড় চাকরি করে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা আনছে।

ডাঃ কৌ- কী যে বলো, কতশত জিনিস না পাওয়া রয়ে গেল জীবনে। 

কেশব- , ডাক্তার কৌশিক রায়, বলছেন এই কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। 

ডাঃ কৌ- কেশব, চাহিদার কি শেষ আছে?

কেশব-:নেই বলছেন, আচ্ছা সে চাওয়া কেমন একটু বলবেন?

ডাঃ কৌ- আামার সময় নেই, কথা না বাড়িয়ে কাজ কর। 

কে- বলুন না, গরীবের কি জানার অধিকার টুকুও নেই?

 ডাঃ কৌ- এই ধরো একটা ফেরারি,  না থাক। 

কে- এই দেখ আপনি ফেরার হবেন কেন? 

ডাঃ কৌ- আরে ফেরার হব কেন আমি কি চোর ডাকাত না খুনী ধর্ষক।

কে- চোর জোচ্চর নন ঠিক, তবে... ?  

ডাঃ কৌ- তবে,কী বলতে চাইছো খোলসা করে বলতো।

 কে- গরিবের আর কি বলার আছে স্যার। 

ডাঃ- বলার যখন নেই তবে তাড়াতাড়ি চুল দাড়ি কাটো। গল্প করে সময় নষ্ট করবো বলে সন্ধ্যায় আসিনি। সাতটায় চেম্বার জলদি কর কেশব।

 [চেয়ার টেনে বসতে যায় ডক্টর কৌশিক। ডাক্তার নিজে চেয়ার টানবে ওর ইজ্জতে লাগবে না। কেশব মুহুর্তে চেয়ার টেনে দেয়। ডাক্তারের আন্দাজে ভুল হয়ে যাওয়ায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কেশব চট করে ধরে ফেলে।

 ডাক্তার চটে ফায়ার। কেশব বুঝতে পেরে বলে], 

কে- আরে আপনি তখন কেন ফেরার হওয়ার কথা বলছিলেন।

ডাঃ- এই, এইজন্য না, অশিক্ষিত নাপিত চাষী কামার কুমোর এদের সাথে কথা বলতে নেই। 

কে- তা বটে, এখন যারা আপনার কাছে চিকিৎসা করাতে আসে তারা কেউ এই দলের নয়। 

[ডাক্তার কেশবের দিকে অদ্ভুত  চোখে তাকায়। যার অর্থ খুঁজে না পেয়ে কাঁচিতে  শান দিতে থাকে কেশব।]

ডাঃ- কেশব হাত চালাও।

কেশব -একটা প্রশ্ন করব? আপনার মনে আছে, মুখার্জি জেঠু কিভাবে আপনাকে মানুষ করেছিলেন?  

ডাঃ- মনে থাকবে না আবার!  

কে- পাড়ার মিত্র স্যারের প্রাইভেটে টিউশন কোচিং সেন্টার। মুখার্জি জেঠু তখন ব্যবসায়ী সমিতির দোকানগুলোতে পুজো করতেন। সামান্য আয়। লেখাপড়ায় ভালো দেখে মিত্র স্যার আপনাকে বিনা পয়সায় পড়াতে রাজি হয়ে গেলেন।ডাঃ- ফালতু কথা ছাড়ো। মিত্র স্যারের বাবার ভাগ্য যে আমার মত ছাত্র পেয়েছিলেন। পড়ত সব এলেবেলে ছেলেরা। কে- তা ঠিক, ওর নিজের ছেলেকেই মানুষ করতে পারলেন না।  বেয়াড়া রাজনীতি করে বেঘোরে প্রাণ হারালো বিপ্লব। তবে ওঁর ছেলে লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল শুনেছি। 

ডাঃ- ও আমার ক্লাসে পড়তো , ভালো না মুন্ডু মাস্টারদের মাথা খারাপ করে দিত প্রশ্ন করে। 

কে- এটা আপনি যা বলেছেন, মাস্টারদের প্রশ্ন করবে কেন, প্রশ্ন করা অন্যায়। 

ডাঃ- তুমি যেমন অকারণ প্রশ্নে আমায় জর্জরিত করে তুলছো। এখন দেখছি তোমার দোকানে আসা আমার ভুল হয়েছে। 

কে- হেসে, স্যার আপনি জানেন পার্লারে চুল কাটতে  ২০০ টাকা লাগে, তাই...। 

ডাঃ- এই, ডাক্তার মুখার্জীকে টাকার খোঁটা দিও  না। 

কে- এটা  আপনি ঠিক কইসেন। মনে আছে আপনি, দশ টাকায় চিকিৎসা করতেন, আর এখন? 

ডাঃ- মনে আছে বইকি তবে আজ আর তা মনে রাখতে চাই না। (ঢোক গিলে) মানে সেদিনের দশটাকা আজ পাঁচশ টাকার সমান। আমি একশ টাকা কম নেই এখনো। আমার ফিজ চারশত টাকা, বুঝলে, চাঁদু। আমার মানের ডাক্তার হাজার টাকা ফিজ দিয়েও পাওয়া যাবে না। বেশী না বকে হাত চালাও এখন। 

কে- আপনার কি মনে হয় আপনি সেদিনের সন্মান আজও পান? 

ডাঃ- তুমিই বলো, তুমি কি আমায় সেই কৌশিক ডাক্তার বলে মানো না?

[ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কেশব কাঁচি তে সুর তোলে।একটু বিরতি নিয়ে]

কে-, অন্যেরা বলে আপনি নাকি নার্সিংহোমে রেফার করে টাকা খান? 

ডাঃ- এই একদম বাজে কথা বলবে না। তা', তোমরা বুঝি ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানো না?  ঠিকঠাক ছোট ছোট করে চুল কাটো, ঘাড়টা তুলে দেবে। আমি তিনমাসের আগে তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই না।

কে-  স্যার, আমার বৌকে কিন্তু প্রত্যেক পনের দিন পরপর যেতে হত? 

ডাঃ- সে তো প্রয়োজনে। ভালো থাকতে হলে সময়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। 

কে- আর সিটি স্ক্যন, এমআরআই আরও অন্য কতকী করালেন, করার চেষ্টা করলেন সেগুলি কার প্রয়োজনে? বলবেন একটু। আমার বৌ তো আপনার চেম্বারে যেতে  রীতিমতো  ভয় পেত।

ডাঃ-  এই তুমি ডাক্তারি শাস্ত্রের কি বোঝ হে? টিভি, মোবাইল হয়ে আজ আর শালা, অশিক্ষিত কেউ রইলো না। ডাক্তারকেই প্রশ্ন করছে। 

[কেশব জুলফিতে ক্লিপ চালানোয় ডাক্তারের সুড়সুড়ি লাগে। কেশবের হাতের আওতা থেকে মাথাটাকে বার করে নেয় ডাক্তার]

ডাঃ- তোমার স্ত্রী কে সুস্থ করেছি আমি, এই মিঁয়া,  ডাক্তার মুখার্জি। সত্যি কিনা বলো। 

কে- নিচ্চয় সত্য, আর কি কি করার চেষ্টা করেছিলেন? 

ডাঃ- কিছু না। তুমি কি মিন করছো বলতো।

কে-  বলছি আমার স্ত্রী কোন অসুখে ভুগছিল? মনে আছে।ডাঃ- নিশ্চয় মনে আছে,  ভুলবো কেন! তোমার স্ত্রী অনুর মানসিক রোগ ছিল। প্রাক বিবাহ পর্বের রোগ। দেখেশুনে বিয়ের এই এক ঝামেলা। তার সঙ্গে পেটের নানা জটিলতা শ্বাসকষ্ট। 

কে- আমি শুনেছিলাম শ্বাসকষ্ট মানসিক রোগের বহিঃপ্রকাশ। 

ডাঃ- ঠিকই শুনেছিলে। 

কে- তাহলে আপনি তাকে বারবার নার্সিংহোমে পাঠাচ্ছিলেন কেন?

ডাঃ- ওর অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল। 

কে- আচ্ছা বাড়িতে এই চিকিৎসা সম্ভব ছিল না।

ডাঃ- একেবারে নয়। 

কে- আপনি যে ডাক্তার গিন্নির চিকিৎসা নার্স রেখে বাড়িতে করলেন।  

ডাঃ- ডাক্তাররা পারে। 

কে- মনে আছে, অতীতে পাড়ার কোন মানুষকে আপনি হাসপাতালে পৌঁছাতে দিতেন না। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের বাড়িওয়ালার  চিকিৎসা আপনি তার বাড়িতে করিয়েছিলেন। 

ডাঃ- ও সব দিন ভুলে যাও এখন ডাক্তারদের কোর্টকাছারি সামলাতে হয়। 

কে- আপনি নার্সিং হোমে প্রায় নিয়ম করে অনুকে দেখতে যেতেন তাই না?

ডাঃ- তাই তো, পেশেন্টের প্রতি দরদী হতে হয় ডাক্তারকে।

কে- ও, তাই বুঝি। কিন্তু অনু কেন বারবার আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে বলত,সে কি আপনার কারনে?

ডাঃ- কেশব সীমা ছাড়িও না।

কে- আজ্ঞে, আপনার  মনে আছে আমার বিয়েতে কি কি মেনু হয়েছিল? 

ডাঃ- কি যে আবোল তাবোল বকো!

কে- বলুন না। 

ডাঃ- হাঁ, মনে থাকবে না কেন, রসগোল্লা আর ছানার পায়েস।

কে-  স্যার, কত পিস খেয়েছিলেন, মনে আছে? 

কে- থাকবে না আবার। আমি বিয়ে বাড়িতে পঁচিশ পিসের কম রসোগোল্লা খেতাম না। আর ছানার পায়েস, অপূর্ব, তাও কেজি খানেক সাটিয়ে ছিলাম। 

কে- স্যার কী উপহার দিয়েছিলেন মনে আছে। 

ডাঃ- উহু। আমি সেকালে নিমন্ত্রণ বাড়িতে উপহার দিতাম না। এই কেশব, আমায় কেন এত বকাচ্ছ বলোত। কত পেশেন্ট অপেক্ষা করে আছে, ওরে বাবা সাতটা পনেরো বেজে গেছে। 

কে- স্যার, আমার যে হাত ফাঁকা। আচ্ছা স্যার, তখন একটা রসগোল্লা এক টাকায় পাওয়া যেত তাই না? আর এখন দশ টাকা। 

ডাঃ- তো কি? 

কে- না কিছু না, আজ আপনি যে টাকা নেন তাতে চল্লিশটা রসগোল্লা পাওয়া যাবে। আগে দশটা পাওয়া যেত। 

ডাঃ- [নড়ে উঠে] কী বোঝাতে চাইছো সাফ সাফ বল।

 কে- নড়বেন না আপনার তো ব্লেড চলে না আমার হাতে খুর আছে। 

[ঠোট চেপে] ডাঃ- এই তুমি কি আমায় ভয় দেখাচ্ছ? 

কে- ধুস, আমাদের মত লোকেরা ভয়ে জীবন কাটায়। আপনারা সমাজের মাথা বলে স্বীকৃত আপনাদের ভয়, পেতে নেই। যদিও খুরটায় শান দেওয়া আছে। 

[ডাক্তার হঠাৎ করে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেছে। কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।]

 কে-সব মিলিয়ে যদি রক্ত টেস্টের হিসেব না ধরি বার তিনেক নার্সিং হোম বাবদ একলাখ তিরিশ আর আপনার আওতায় সরাসরি বাইরে সবমোট পঞ্চাশ হাজার। এ আর এমনকি, সেদিনের হিসেবে একলাখ আশি ভাজিতক তিরিশ অর্থাৎ ছয় সহস্র জনের চুল কাটার বিনিময়ে অর্জিত টাকা। দিনে দশ জন চুলদাড়ি কাটলে ছয়শত দিনের রোজ। মানে দু-বছরের কামাই। আচ্ছা ডাক্তার বাবু  এর মধ্যে আপনার কত ছিল। মানে আমার কত দিনের রোজ খেয়েছিলেন আপনি?

 [কম্পিত গলায়] ডাঃ- বিশ্বাস কর কেশব। 

কে-:বিশ্বাস, করতাম একসময়ে। যখন আপনি মানুষ ছিলেন। যেদিন দেবতা হলেন গরীবের পকেট কেটে, তারপর ডাক্তারির ছুতোয় পরনারী ভোগের অনৈতিক আকাঙ্খা মনে বাসা বাঁধছিল আপনার। নাঃ না, সেদিন  নয়, আমি অনেক আগে যেদিন আপনি মুখার্জী জেঠুকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেইদিন আমার চোখ খুলেছিল। 

[গুম হয়ে যায় ডাক্তার।]

কে-  খুব ব্যথা লাগছে?সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার খবরে ছয়লাপ হল। আচ্ছা ডাক্তার, আপনি খেয়াল করেছেন, গরীবে আপনার চেম্বারের পথ ছেড়ে দিয়েছে। বলুন, আপনাকে বলতে হবে। [শানিত খুরের অবস্থান দেখে নেয় ডাক্তার]

ডাঃ- না মানে,আমি ঠিক ভেবে দেখিনি। 

কে- কবে আর ভাববেন?  

ডাঃ- এই তোমায় দাড়ি কাটতে হবে না, খুবটা সরাও প্লিজ। কে- ডাক্তার কৌশিক আপনি কি শঙ্কিত?  

ডাঃ- ভাই কেশব, আমার তাড়া আছে। সাড়ে সাতটা বাজলো রোগীরা সব বসে আছে। 

কে- ঠিক, আধ ঘন্টা দেরি মানে ছয় গুন চারশ মাানে, চব্বিশশো টাকা। যার থেকে আমার শ্রম মূল্য  ষাট টাকা বাদ যাবে। আচ্ছা যান, আমার টাকা দিতে হবে না আপনি চলে যান। 

ডাঃ- কেশব ভাই, আমার দাড়িটা অর্ধেক কাটা পড়েছে। এই অবস্থায় আমি কী করে যাই বলো।

কে- মনে আছে স্যার, আমার জমি জমার অর্ধেক বিক্রি করতে হয়েছিল, পরিবার ঘনিষ্ট হওয়ায় আপনি জানতেন আমার অর্থনৈতীক অবস্থার কথা। স্ত্রীর তেমন কোন রোগ ছিলোনা, মেয়ে জামাইয়ের অবনিবনার কারনে মানসিক রোগ দানা বেঁধেছিল। সে সত্যও আপনার জানা। তবু আপনি গলা কাটলেন। আমি যতদূর জানি,  টাকার বদলে অন্য কিছুও পেতে চেয়েছিলেন আপনি। আজ আপনার ধরমুড়ো আমার খুরের আগায়। বলুন আক্কেল সেলামি কত ধার্য করব? যদিও জানি আক্কেল আপনি খুইয়েছেন ডায়াগনস্টিকস, ওষুধ কোম্পানির আর নার্সিং হোমের থেকে পাওয়া উৎকোচ এর কারন।

[ ডাক্তার হঠাৎ লাফ দিয়ে৷ চেয়ার ছেড়ে উঠতে চেষ্টা করে। ততধিক তৎপরতায় কেশব চেয়ারে ঠুসে ধরে ডাক্তারকে। চেয়ারে বসে একপাশে ঘুরে ডাক্তার নিজের পকেট হাঁতড়ায়। দুটি পাঁচশো টাকার নোট বার হয়ে আসে। কেশবের চোখে চোখ মিলিয়ে কিছু বলতে চায় ডাক্তার। কেশব মাথা নাড়ে। ডাক্তার অনুরোধ করে বেঞ্চে রাখা এ্যটাচি এনে দিতে। খুর উঁচিয়ে কেশব ব্যাগ নিয়ে আসে। তড়িঘড়ি লক খুলে কৌশিক তাড়াতাড়া পাঁচশ টাকার বান্ডিল সেলুনের আয়না রাখার স্ট্যান্ডে সাজিয়ে রাখতে থাকে।  হঠাৎ তীব্র চিৎকারে কেশর ককিয়ে ওঠে। কৌশিক ডাক্তার সেই সুযোগে পালানো চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময়ে সেলুনে কেশবের স্ত্রীর আগমন ঘটে। গতি রূদ্ধ হয় ডাক্তারের।]

ভয়ার্ত  মহিলা- হচ্ছেটা কী? 

কে- ( নিজেকে সামলে নিয়ে না তাকিয়ে) খুন। 

[মহিলা দুজনের মাঝে উদ্যত খুরের সামনে নিজেকে দাঁড় করায়। ততক্ষণে ডাক্তার মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মহিলার পায়ের কাছে তার শরীর, দুহাতে করজোড়ে প্রাণ ভিক্ষা চাইছে ডাক্তার। 

ডাঃ- অনু, বাঁচাও।

অনু- আমরাও বাঁচতে চেয়েছিলাম ধনে-প্রাণে। আপনার হাত থেকে সন্মানে বাঁচলেও ধনে মারা গেছিলাম।

কে- আপনারা সমাজের স্তম্ভ আবার একইসাথে গরীব মানুষের রক্ত চোষায় পারদর্শী। সমাজ মাধ্যমে চৌর্যবৃত্তি কে সঠিক প্রমান করে কামচোর মানুষের কাছে দেবতা জ্ঞানে পূজিত হচ্ছেন। আচ্ছা ডাক্তার, নিজের বিবেকের মগজ ধোলাই সম্বব? 

ডাঃ- বৌমা, তোমাদের সঙ্গে যা হয়েছে ভুল হয়েছে আমি ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি। 

কে-  স্ত্রীকে বলে, সব কটা টাকার বান্ডিল খুলে ফেল। 

[মন্ত্রমুগ্ধ স্ত্রী, সবকটা বান্ডিলের গার্ডার খুলে ফেলে। খুর হাতে কেশব নিচু হতে থাকে। ডাক্তার চিৎকার করতে চায় কিন্তু তার গলা দিয়ে স্বর বেরোয় না।]

কে- মৃত্যু ভয় কাকে বলে বোঝ। সেদিন আমার স্ত্রীর মৃত্যু ভয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিল আমরা। দিন এনে দিন খাওয়া আজ আমাদের ভবিতব্য। আর তোরা টাকার পাহাড়ে বসে গরীবকে নিঙড়ে রস খাচ্ছিস। ডাক্তারি তোদের কাছে আখ মাড়াই কল। অনু, ঘরের বাতি নিবিয়ে দাও। [একসাথে দুজনে বিপরীত কারণে  বলে ওঠে, নাঃ। হেসে কেশব, অনুর কাছ থেকে টাকার বান্ডিল গুলো নিয়ে এক এক করে ওড়াতে থাকে।  কৈশোরে ভোকাট্টা ঘুড়ির পেছনে ছোটার আবেগ নিয়ে ডাক্তার  দেখতে থাকে সহস্র ভোকাট্টা ঘুড়ির চেত খেয়ে পড়ছে। উড়তে থাকা টাকা ধরতে চাইছে ডাক্তার। ভয়ে, শরীর সায় দিচ্ছে  না। কিন্তু আকাঙ্ক্ষার মরণ নেই।]

কে-  একজনের সমৃদ্ধির অশ্লীল গন্ধে শতশত গরীবের  রক্তজল করা টাকা উড়ছে আকাশে। শালা,আমায় কিনতে চেয়েছিলি, আমি জাত শ্রমিক নিজের ঘামের দাম নিই। কারও পয়দা খাই না।

[ডাক্তার ভয় মিশ্রিত লোভে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। খুর হাতে নটরাজ নৃত্যে মত্ত কেশব।]

অনু বলে চলেছে- পাগলামি করোনা, থামো।

 [কান্নায় সুর তারসানাইয়ে বেজে চলেছে] 

********


Comments

Popular posts from this blog

ছোটগল্প - লাল কালো ইট।।

একগুচ্ছ কবিতা

কোন সে আলোর স্বপ্ন(কথায় ধারাবাহিক)