ছোটগল্প - জোট চরিত মানুষ।
জোট চরিত মানুষ।
২১০ ডাউন বর্ধমান লোকাল। শ্রীরামপুরের পরে একেবারে হাওড়ায় এসে থামে। মাঝে কোথাও দাঁড়ায় না। কি তার গতি! হিন্দমোটর উত্তরপাড়া বালি বেলুড় লিলুয়া প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে সে ছুটে চলে যায়। নিত্য যাত্রীরা এরকম ট্রেন চড়তে খুব ভালোবাসে। ২১০ ডাউনের কথা আলোচিত হলে, এই ট্রেনের নিত্য যাত্রীদের গর্বের বহিঃপ্রকাশ দেখার মত। দৈবাৎ যদি কোনদিন ট্রেন থেমে গেছে কোন অচেনা প্লাটফর্মে আধভর্তি কামরার যাত্রীরা গেটের কাছে এসে ব্যুহ রচনা করে। এই ট্রেনে অস্থানের যাত্রীর প্রবেশ নিষেধ। মাছিও গলতে না দিয়ে উদ্ধত ট্রেন উন্নাসিক দর্পে অভাগাদের বুক কাঁপিয়ে ছুটতে থাকে। প্লাটফর্মের যাত্রীরা হতাশ হয় নিত্য। ট্রেনের ভেতরে থাকা মানুষগুলোর আত্মতৃপ্তি তখন দেখে কে? বিজয়ীর উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা। দিনের পর দিন চলে একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি। হা পিত্যেশ বসে থাকা যাত্রীরা রেল অথরিটির বাপান্ত করে। কেন গাদাগাদি ভিড় থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা ট্রেন থামবে না। এই নিয়ে বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রী কমিটি ডিআরএম হাওড়াকে গণসাক্ষরও জমা দিয়েছে ইতিমধ্যে। কোন ফল হয় নি। হতাশা থেকে জন্ম নেয় আক্রোশ। হাবুল বাবুল জাপানি কাবুল সবার মন্টুদা। অশেষ অনির্বাণ রোহিতাশ্ব আরুণী। শ্রেণীগতভাবে আলাদা হয়েও একে অপরের দোসর। ২১০ ডাউনে শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত শ্রমজীবী বুদ্ধিজীবী কোন ফারাক নেই। উচ্চ কোটির লোকেরা একটু বাতেলা বেশি মারে সেটা মানিয়ে নেয় অন্যরা। একে অপরের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। মন্টুদা সদাশিব মানুষ সবার কাছে মন্টুদার আলাদা সম্মান আছে। পেশায় মন্টুদা প্লাম্বার। রোহিতাশ্বর মতো বুদ্ধিজীবীরা মন্টুদার কাছ থেকে হাত পেতে খৈনি চেয়ে খায়। রোহিতাশ্বর ছেলের অন্নপ্রাশন মন্টুদার ছেলের বিয়ে, শীতকালীন পিকনিক নিয়ে জমজমাট ২১০ ডাউনের 4 নম্বর কামরা। "ভাইয়া এ দিওয়ার টুটতা কিউ নেহি", এক্কেবারে অম্বুজার সিমেন্টের অটুট জোড়।
একদিন অনৈতিক কান্ড ঘটিয়ে ২১০ ডাউন থেমে গেছে লিলুয়ায়। লিলুয়ায় বড় একটা ট্রেনটা থামেনা। লিলুয়া স্টেশনের পশ্চিম পাড়ে বাঙালদের বাস। রাহুল জাতে বাঙাল তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার বলে দিয়েছে হিমোগ্লোবিন কম রক্তের যোগান দিতে হবে এক্ষুনি। রাহুল হনুমানের মত মাছি হয়ে ঢুকে পড়েছে স্বর্ণলঙ্কায়। ট্রেনও দম নিয়ে ছুটতে শুরু করেছে। আজ ২১০ এর অহমিকায় ধাক্কা লেগেছে। বৃষ্টির মতো চড় থাপ্পড় পড়ছে রাহুলের মাথায় পিঠে গায়ে। রাহুল প্রতিরোধ করতে পারছে না। কোনরকমে ব্যাগটাকে আগলে সে মাথা নিচু করে মার খাচ্ছে। একবার রাহুল বলার চেষ্টা করেছে আমার বাবা অসুস্থ। কে কার কথা শোনে? বুদ্ধিজীবীরা আজ দূর্বুদ্ধির নিগড়ে বাঁধা। শ্রমজীবিরা ডিক্টেটরশিপ অফ দা প্রলেটারিয়েট কায়েম করতে ব্যস্ত। রাহুলের পরিচ্ছদ না দেখে, শ্রেণীপরিচয় না জেনেই তারা বিপ্লবী। বয়স্ক মন্টুদা দুই একবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে চাঁটা খেয়ে চুপ করে গেছেন। চাঁটামারা, ট্রেনের বিশেষ এক সংস্কৃতি। সময় অসময়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মন্টুদার মাথায় চাঁটা মারতেও কেউ কেউ দ্বিধা করেনা। পরে হয়তো সবাই মিলে আলোচনা করবে মন্টুদাকে মারা উচিত হয় নি। সবাই জেনে না জানার ভান করে বলবে, যে মেরেছে সে খুব ভুল করেছে। একমুখী লড়াই এখন তুঙ্গে। ব্যাগটাকে পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে মাথা নিচু করে মাটিতে বসে পড়েছে রাহুল। হঠাৎ রোহিতাশ্ব বলে, হাবুল ওর ঠ্যাং দুটো ধরতো। হাবুল ঠ্যাং দুটো ধরলে জাপানি সঙ্গেসঙ্গে ওর হাত দুটোকে টেনে ধরে। দু পায়ের ফাঁকে রাহুল কোনরকমে চেপে ধরে আছে গুপ্তধনের ব্যগটা। সমস্ত বাঁধাবন্ধ এড়িয়ে মন্টুদা চেষ্টা করছেন এগিয়ে আসতে। দমাদম চাঁটা পড়ছে মন্টুদার মাথায়। অনির্বাণের অর্ডারে মন্টুদাকে জাপটে ধরে রেখেছে কাবুল আর আরুণী। অশেষ ব্যাগটা বীরবিক্রমে কেড়ে নিয়েছে। রাহুলের কাপড়ের ঝোলা থেকে বেরিয়ে সোনা দানা মনি মুক্ত নিক্ষিপ্ত হচ্ছে ট্রেনের দরজা দিয়ে বাইরে। রাহুল চিৎকার করে বলছে, রক্ত, sample, আমার বাবা হাসপাতালে রক্ত দিতে হবে ডাক্তার বলেছে। পৈশাচিক উল্লাসে ট্রেন ছুটে চলেছে। পাশের লাইন ধরে প্রকাণ্ড শব্দে একটি মেল ট্রেন ছুটে চলেছে উল্টো দিকে। ট্রেনের ভিতরে ডিজের জবঝম্পের মতো শৈবতালিবানি উল্লাস। রক্তের শিশিটা লাইনে পড়ে শত টুকরো হল। রাহুলের বাবার রক্তে ভিজলো মাটি। হয়তো কোনদিন রক্তবীজেরা জন্ম নেবে প্রতিশোধ নিতে।
আজ ২১০ ডাউন হঠাৎ খেয়ালে লিলুয়ায় দাঁড়ায়নি। এক নম্বর লাইনে লাল ফ্ল্যাগ পুঁতে রেখেছিল ওরা মানে বাঙালপাড়া ছেলেরা। আরপিএফ জিআরপি কিছু বোঝার আগেই অপারেশন শুরু হয়েছিল। অপারেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছিল রাহুলের বন্ধুরা। ওরা আজ রাহুলকে বাধ্য করেছে আসতে। কাছা গলায় রাহুল দাঁড়িয়ে ওদের পেছনে। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধীরু হয়ে দাঁড়াতেই অভ্যাস বসত যাত্রীরা ট্রেনের দরজায় এসে ব্যুহ তৈরি করেছে। ওরা বুঝতে পারেনি আজ ফাঁদ পাতা হয়েছে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হবে। লোহার রড আর কেঠো বাঁশগুলো আছড়ে পড়তে থাকে দরজার দাঁড়ানো মানুষগুলোর উপরে। পিলপিল করে দরজায় এগিয়ে আসা লড়াকু সৈনিকেরা মারের চোটে ট্রেনের ভেতরে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টায় রত। সেই ফাঁক দিয়ে হুহু করে লিলুয়ার বিদ্রোহীরা উঠে পড়েছে। ষন্ডামার্কা সন্তোষের হাতে লোহার রড। গম্ভীর স্বরে সে জানতে চায়, মন্টুদা কোথায়? রোহিতাশ্ব বলে, ঐ ঘটনার পর উনি আর এই কামরায় ওঠেন না। সন্তোষ জিজ্ঞেস করে, কোন ঘটনা, আর ওনারই বা না ওঠার কারন কি? অনির্বাণ বলে, উনিই তো ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। ধমকের সুরে সন্তোষ বলে, কোন ঘটনা? সন্তোষ ওদের মুখ দিয়েই ভজিয়ে নিতে চায়। হাবুল রাহুলের দিকে দেখিয়ে বলে, ওই মানে, ভাইয়ের জিনিসপত্র ফেলে দেওয়া। সন্তোষ বলে, কি ফেলে দিয়েছিলেন? রোহিতাশ্বর মুখ দিয়ে কথা সরছে না। আরুণী চুপ মেরে গেছে। জাপানি, রোহিতাশ্বর দিকে আঙুল তুলে দেখাতে যাওয়ার আগেই রোহিতাশ্ব বলে, এই জাপানি আর হাবুল ভাইকে চড়চাপড় মেরেছে। যা যা প্রশ্ন করছি তার সঠিক উত্তর দিন। কী কী ফেলে ছিলেন আপনারা? এই কথা বলার সাথে সাথে সন্তোষ লোহার রডটা একবার ট্রেনের মেঝেতে ঠুকে নেয়। ট্রেনের চেকার প্লেটে ধাক্কা খেয়ে রডটা বিষম মেটালিক সুরে বেজে ওঠে। আরুণী মুখ খোলে, এই সামান্য কিছু টাকা পয়সা,চিরুনী। সন্তোষ বলে আর কিছু? আরুণী বলে, ও ভাই বলোনা। আর তেমন কিছু ছিলো কি? ঠিক সেই সময় মন্টুদা কে অন্য কামরা থেকে নিয়ে এসে হাজির করে দুজন। মন্টুদাকে দেখে ওদের পিলে চমকে যায়। আরুণী সেই ফাঁকে অজানা কাউকে ফোন করলে সম্তোষ ফোনটা কেড়ে ট্রেনের মেঝেতে আছাড় মারে। তারপর কিছুই হয়নি এমন ভাব করে অন্যদের দিকে ফিরে জিগেস করে,ও, ইনিই মন্টু দা? মন্টুদা মাথা নাড়ে। আপনি বলুনতো, এরা কী করেছিলো সেদিন? মন্টুদার চোখে জল দেখে সন্তোষ জিজ্ঞেস করে, আপনি কাঁদছেন কেন? তাহলে কি ধরে নেব আপনি এই জঘন্যতম কান্ডে ইন্ধন দাতাদের একজন? মন্টুদা কোন কথা বলে না।
লিলুয়া দলটির বিশেষত্ব হলো সন্তোষ ছাড়া এদের কেউ কথা বলে না। সন্তোষের মুখনিঃসৃত বাণী ওদের কাছে বেদবাক্য। সন্তোষ বলে, এই তোরা দেখছিস কি? পুরো ট্রেনের প্যাসেঞ্জার কি অন্যায় করেছে? যাঃ, পতাকা তুলে নে। ট্রেন ছেড়ে দিতে বল। রোহিতাশ্ব বলে, আমাদের ট্রেনে ওঠার অনুমতি দিন। সন্তোষ ছেলেদের দিকে তাকিয়ে ইঙ্গিতে আদেশ পালন করেতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে লাইনে বসানো লাল নিশান উঠে যায়। আর আর আই কেবিন থেকে ম্যানুয়াল সিগন্যাল দেওয়া হয়। দামাল ২১০ ডাউন অধবদনে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। বাঙাল পাড়ার ছেলেদের কব্জায় শুধু রেখে যায় চার নম্বর কামরার জন্য ছয় সাত মানুষকে। প্ল্যাটফর্মে তারা সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অপরাধীর অবনত দৃষ্টিতে। সন্তোষ এইবার বলে, রাহুলকে যেমন সুযোগ দিয়েছিলেন আপনারা তেমন সুযোগ পেলে চলবে না? অপরাধ না করেও অত্যাচারিত মন্টুদা লজ্জা পেয়ে যায়।
প্ল্যাটফর্মে জন আদালত চালু হলো বলে। সরকারপক্ষ যেমন পছন্দসই মানুষকে কোর্ট অফিস কাছারিতে সুউচ্চে স্থান দেয় এখানেও তেমন। সবার মন্টুদাকে পছন্দ। লাজুক মন্টুদা সবার অনুরোধে জজ সাহেবের চেয়ারে অধিষ্ঠিত হতে রাজি হয়েছেন। চেয়ার বলতে একটা স্লাইডিং মই। মন্টুদা সিঁড়ি বেয়ে উঠলেন জজ সাহেবের চেয়ারে। অদ্ভুত কান্ড হঠাৎ করে মন্টুদা নিজেকে জজসাহেব ভাবতে শুরু করেছেন। তার শরীরী বিভঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে দৃঢ়তা। কিছুক্ষণ আগের অনুতাপ দ্বিধাদ্বন্দ্ব কর্পুরবৎ উবে গেছে। লিলুয়ার যাত্রীরা অভিযোগ জানাতে চায়, ধর্মাবতার, এদের কি শাস্তি হওয়া উচিত বলুন? এদের আচরণের ফলে রাহুল হাসপাতালে ভর্তি থাকা বাবার জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলস্বরূপ গৌরবাবু মানে রাহুলের পিতা পরলোক গমন করেছেন। জজসাহেবের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে অভিযুক্তরা। রোহিতাশ্ব স্বগতোক্তি করে, শালা মন্টুদা এমন বিশ্বাসঘাতকতা করবে বুঝতে পারিনি। অনির্বাণ ভয়ে কুঁকড়ে আছে। জজসাহেব ভেবেচিন্তে বলেন রক্তের অভাবে মানুষ মারা গেছে সত্যি। কিন্তু এক দু বোতল রক্ত দিলেই যে গৌরবাবু বেঁচে যেতেন এমন কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। উনি কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা আদালত জানে না। লিলুয়ার লোকেরা জজসাহেবের উল্টো কথায় ঘাবড়ে যায়। জজসাহেব বলে চলেন, এই কোর্টের জেল হাজত বা শারীরিক নিপিড়নের সাজা দেওয়ার অধিকার নেই। জজ সাহেব উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, আপনার প্রমাণ দিতে পারবেন হাসপাতালে কত টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে? সন্তোষের ঈঙ্গিতে রাহুল একটা বিল জজ সাহেবের হাতে দিয়ে বলে, ৯০ হাজার টাকা। জজ সাহেব বলেন ব্যক্তিগতভাবে আমি এই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম। তাই সত্যাসত্য বিচার করার কোন প্রয়োজন নেই। এই ৯০ হাজার টাকা এবং স্বর্গীয় পিতার অকাল শ্রাদ্ধের জন্য আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার অর্ধেক অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে বহন করতে হবে। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের অর্থনৈতিক সংস্থান সম্পর্কে আমার সম্যক ধারনা আছে। আমি বলতে পারি জরিমানার ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে রোহিতাশ্বকে। অনির্বাণকে তিরিশ এবং আরুণি এবং অশেষ নেবে জনপ্রতি পনের হাজারের দায়িত্ব। কাবুল হাবুল জাপানি এরা সম্মিলিতভাবে দেবে ২৫ হাজার টাকা। রোহিতাশ্ব বলে, কিছুতেই না,মগের মুলক নাকি? সন্তোষ লাঠি ঠুকতে ঠুকতে এগিয়ে যায় রোহিতের দিকে। কোর্ট বলে, না আদালতের বাইরে কোন ফয়সালা হবে না। কাবুলরা রাজি হয়ে যায়। লিলুয়া পাড়ার একজন জিজ্ঞেস করে টাকা অনাদায়ে কি জরিমানা ধার্য হবে? কোর্ট বলে,এই পথ দিয়ে অফিস যাওয়া বন্ধ। বিকল্প জরিমানা বড্ড লঘু হয়ে গেছে। কেউ এই প্রস্তাব মানতে চাইছে না। কেবল রাহুল বলে, ধর্মাবতার আমার বাবাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না কি দরকার এই প্রহসনের। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে অভিযুক্তের দল।
ঠিক সেই সময় হাওড়া এন্ড থেকে একটা জটলার আওয়াজ উঠে আসে। আর পি এফ, জি আর পি এফ সম্মিলিত শক্তি নিয়ে প্লাটফর্মে হাজির। আছাড় মেরে ফোন ভেঙ্গে দেওয়ার আগে আরুণী দাদার বন্ধু আরপিএফ ইন্সপেক্টর কে ছোট্ট করে ঘটনাটা জানাতে পেরেছিল। ষন্ডামার্কা সন্তোষ নিমেষে লোহার রড পাচার করে দিয়েছে অন্যর হাতে। লাঠি বন্দুক হাতে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে অঞ্চলটা। কেবল মন্টুবাবুই স্থির অবিচল থেকে স্লাইডিং সিঁড়ি মানে মেকশিফ্ট কোর্টের চেয়ারে আসীন। ধরপাকড় চালু হয়ে যায়। ২১০ ডাউনের যাত্রী কারা? এ প্রশ্নের উত্তরে ২১০ দলের লোকের তড়িঘড়ি হাত তোলে। কারন আরুণীর ফোনের কথা ওরা জানে। ওরা এও জানে ওদের উদ্ধার করতে পুলিশ এসেছে। পুলিশের পরের প্রশ্ন ছিল আরুণী কে? আরুণীকে খুঁজে পেয়ে পুলিশ উপদেশ দেয়, আপ ট্রেন ধরে আপনি সোজা বাড়ি চলে যান। আরুণী তৎক্ষণাত উল্টোদিকের প্ল্যাটফর্মে চলে যায়। এই কান্ড দেখে হতভম্ভ অনির্বান বলে, কি বন্ধুত্ত্বের ছিরি! লিলুয়ার লেকেরা দলবল সমেত ধরা পড়ে যায় সাথে ধরা পড়ে ২১০ ডাউন এর ছয়জন। সন্তোষ বলে, স্যার, বেকার লোকজনেদের এ্যরেষ্ট করে আপনার কোন উদ্দেশ্য সাধিত হবে? আসল কালপ্রিট তো উপরে বসে। সঙ্গে সঙ্গে পোঁ ধরে অনির্বাণ বলে,He was dictating everyone to propagate ideas. আচমকা ইংরেজি শুনে ভেবলে গিয়ে হাবিলদার জিজ্ঞেস করেন উনি কে? মিলিত কন্ঠস্বর উত্তর করে, উনি মন্টুদা,গ্যাঙ লিডার। হাবিলদারকে ফোনে ওপরওয়ালার সাথে কথা বলতে দেখা যায়। ফোর্সের লোকেরা একে অপরের সাথে পরামর্শ করতে থাকে। ওপরওয়ালার মৌখিক অর্ডার এসে যায়। রাহুল, হাবিলদারের হাতে পায়ে ধরলেও মন্টুদা গ্রেফতার বরণ করে জিআরপি কাস্টডিতে চালান হয়ে যায়।
মন্টুদা পকেট থেকে একটা জিবিএল গো স্পিকার বার করেছে। ছেলের কাছ থেকে গতকাল রাতে গ্যাজেটটা চেয়ে ব্যবহার করতে শিখেছিল সে। স্পিকারে চকিতে ব্লুটুথ এ্যটাচ করে মন্টুদা বলে চলে, এই হল জোটের সংস্কৃতি। ভালো জোট খারাপ জোট বলে কিছু হয় না। জোটের কেন্দ্রে পরিধিতে ক্ষমতা আবিষ্ট হলে তা পোড়ায়, ধ্বংস করে সৃষ্টি করে না। ভোটে জেতা সরকার অশুভ জোট গঠন করে। পুলিশ নাগাড়ে মন্টু দা কে নেমে আসতে বলছে। মন্টুদাও থামবে না। সে বলে,আজ আমায় বলতেই হবে। ট্রেন যাত্রীর জোট লিলুয়ার জোট সকল জোট নিজের নিয়মে চলে। সবাই একে অপরকে ডমিনেট করতে চায়। সরকারি পুলিশের জোট আইনত বেশি ক্ষমতার অধিকারী। তারা যখন হাজির হল তখন লিলুয়াজোট নিজেদের মুক্তির শর্তে নিষ্ক্রিয় হতে চাইলো। এর আগে লিলুয়াজোট অধিক পেশিশক্তির অধিকারী হওয়ায় ওরা ২১০ জোটের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছিল। আমাকে অভিযুক্ত করে দুই জোট পুলিশি ঘোঁটের বশ্যতা শিকার করলো। পুলিশ দেখলো এই সহজ পথ। আরুণীকে ছেড়ে দেওয়ার কারনে পুলিশ অভিযুক্ত হতে পারে। জল যেমন সহজ পথে নামে তেমন সহজ পথের আশ্রয় নিয়ে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করল। আমি নিজের ভাই বন্ধুর কাছে চাঁটা খাওয়া অভ্যাস করেছি প্রতিবাদ করিনি। সবাই বুঝে গেছে আমি দূর্বল। আমি মনে করি আমিই সবচেয়ে শক্তিশালী কারন জোটে থাকা সত্ত্বেও জোট আমাকে গিলে ফেলতে পারেনি। মেরুদণ্ড সোজা করে জোট নিরপেক্ষতার পক্ষে সওয়াল করেছি। নিজের বুদ্ধির উপর ভরসা করা অপরাধ হলে আমি অপরাধী। হঠাৎই বাইরে কোল্যাপসিবল গেটের উপর দমাদম লাঠির আঘাত পড়তে থাকে। মন্টুদাকে কোর্টে প্রডিউস করা হবে তাই এলার্মের ঢঙে সচেতন করতে লাঠির বাড়ি পড়ছে গেটে। অনভ্যস্ত আওয়াজে মন্টুদার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে মন্টুদা দেখে গেটের বাইরে রাহুল কাছা গায়ে বসে আছে।
এক্কেবারে অচেনা অজানা নির্জোট, সদ্য পিতৃহারা একজন যার কোন দায় নেই সেই রাহুল, পিতার শ্রাদ্ধশান্তি চুলোয় দিয়ে বসে আছে তার অপেক্ষায়। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসে মন্টুদার।
…………
Comments
Post a Comment