নাটক
নাটক - লোভ
মঞ্চ- প্রথম দৃশ্য
খরস্রোতা নদীর আবহ
[সারি সারি গাছ নুয়ে পড়েছে নদীর বুকে। নদী বাঁক নিয়ে গভীর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। কাকলি মুখর প্রকৃতি গাইছে "এ ভবসাগরে কেমনে দিব পাড়ি রে/ দিবানিশি কান্দি রে নদীর কূলে বইয়া"। গান শেষ হলে শিম্পাঞ্জি হনুমানদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। কোন সভার তোড়জোড় শুরু হতে যাচ্ছে।]
ডুমুর গাছ- দেখ,আকাশচুম্বী বৃক্ষরাজির গায়ে কেমন আঁটোসাঁটো লেপটে আছে লতাগুল্মর দল।
বট গাছ- ওরা ভয় পেয়েছে।
রবার গাছ- অকারন ভয় পাবে কেন?
বট- অকারণ নয়। প্রথম কোপটা ঝোপঝাড় আগাছার ওপর পড়ায় ওরা সন্ত্রস্ত।
ডুমুর গাছ- ভাই মিছে কথা কইবো না গতকালের কান্ড-কারখানা দেখে আমিও স্তম্ভিত। তোমাদের আকাশ দেখতে গলা বাড়াতে হয় না। তোমরা অপরাজেয়। ঝোপঝাড়ের পরেই নিশানা ছোট গাছ, মানে আমরা।
রবার গাছ- বড্ড বেশি ভাবছিস গাছ ছাড়া হনুমান শিম্পাঞ্জিরা আশ্রয়হীন।
[রোজউড গুম মেরে রয়েছে কোন কথা কইছে না ]
ডুমুর - হে বৃক্ষনাথ, কথা কও। তুমি জঙ্গলের দেবতা।
রোজউড- গতকাল আপদ গুলোর হিংস্র আচরন ধ্বংসের ইঙ্গিতবাহি। বাঁদর হনুমানের সঙ্গে পাখি হরিণ বৃক্ষরাজির সখ্যতা সর্বজনবিদিত তাহলে কাস্তে কুড়ুল নিয়ে জঙ্গল নিধন কার প্ররোচনায়? ওদের প্রতিটি কোপে আমি পরম হিংসা প্রত্যক্ষ করলাম। তোরা লক্ষ্য করছিস হনু চাচা কেমন অস্থির হয়ে আমার শরীরে লম্ফঝম্পও করছে। চাচা, তুমি কি বুঝতে পারছ মাতৃসমা বনশ্রেণী কেন পিড়িত?
চাচা-চি চি শব্দে কিছু বলতে চেষ্টা করে।
রোজউড- চাচা, কিছু বলবে?
ঠিক সেইসময় বনের রাজা সিংহ গর্জনে জানিয়ে দেয় - সবাইকে চুপ করতে হবে সভা শুরু হতে যাচ্ছে।
বট- গোষ্ঠী প্রতিনিধি হিসেবে জন্তু জানোয়াররা এসেছে। মিটিংয়ে হনুমান আর শিম্পাঞ্জিদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। তাহলে তো..
ডুমুর- রবার বাবাজি তাহলে হনুরা লিডিং পার্টে বুঝতে পারছো?
রবার- নিশ্চুপ।
বট-মুক্তমঞ্চের চারপাশের, ডালে ডালে ব্যাটারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ডুমুর- সিংহর পেছু পেছু হায়না কুকুরের দল এসেছে।বট-আরে হরিণ,গাউর নীলগাই..
রবার- এরাও ঘোটালায় যুক্ত, ধুস।
বট- এসেছে,তবে ওরা বুঝতে পারছে না অধিকারের সীমা। বোকা জেব্রা কেমন দিব্যি নিশ্চিন্তে সভামধ্যে উপবেশন করেছে দেখো।
রোজউড রবারের দিকে চেয়ে- হনুমানদের কেমন বুঝছিস?
রবার - মানে! ওদের কাজই তো লম্ফঝম্ফ করা। এ আর নতুন কি?
রোজউড- মূর্খ ভালো করে দেখ।
বটবৃক্ষ - মনে হয় ব্যাটারা নজরদারি করছে।
রবার- কার ওপর?
রোজউড- আমন্ত্রিত অতিথিদের উপর।
ডুমুর - ছোট মুখে একটা বড় কথা বলে ফেলি?
মানে,চিতাদের দেখা যাচ্ছে না তো।
রবার- এ আর এমন কি। সিংহি মামারা চায় নি তাই।
[রোজউডকে একটু চিন্তিত দেখায়। চাচা কানে হাত দিয়ে শুনে বোঝার চেষ্টায় আছে]
সভা শুরু হয়
শিম্পাঞ্জি ঘোষণা করে - উপস্থিত মাননীয় মাননীয়া দের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নেতা হনু- আপনার আওয়াজ তুলে জানান মহারাজ সিংহ আমাদের সভাপতি।
জেব্রা- ডাক দিয়ে হ্যাঁ সুচক ঘাড় নাড়ে।
হায়না কুকুরের দল- ঘাড় তুলে চিৎকার করতে থাকে।
শিম্পাঞ্জি - আপনারা নির্ভয় সম্মতি দিন। সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক না হলে প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাবে।
[কৃষ্ণসারের নাকে মাছি বসেছে। ঘাড় মাথা দুলিয়ে সে প্রাণপনে মাছি ওড়াবার চেষ্টা করেছে।]
নেতা হনু চিল চিৎকারে জানায়- না, বলছিস কেন তুই গণতন্ত্র চাসনা!
কৃষ্ণসার- না, মানে নাকে একটা মাছি...
কথা শেষ করতে না দিয়ে হায়না - বিশ্রীভাবে খেঁকিয়ে ওঠে।
[সইতে না পেরে চাচা গুটি গুটি পায়ে এসে হাজির হয়]
কৃষ্ণসারের দিকে তাকিয়ে চাচা - শালা মাছি হয়ে জন্মালি না কেন?
কথা এড়িয়ে নেতা হনু - আমরা তোমাদের সব্বার অভাব-অভিযোগ আগে শুনবো।
[সিংহ বনকুকুর হায়না শিয়াল সভা আলোকিত করে বসে আছে। হরিণের দল রা কাড়তে পারে না,একসাথে মাথা নাড়িয়ে তারা জানিয়ে দেয় তাদের কোন অভাব অভিযোগ নেই। ভয়ের চোটে হরিনের দল এমন মাথা নাড়িয়েছে সিঙয়ে সিঙয়ে খটাখটি লেগে গেছে। সিংহ এইয়া ঢেঁকুর তুলে জানিয়ে দেয় তার পেট ভর্তি। লোভি হৃষ্টপুষ্ট হায়না জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে পুটে নেয়। বলগা পুরুষের ইঙ্গিতে চটপট বাকি হরিণগুলো মাথা নাড়া বন্ধ করে দেয় সভা থম মেরে যায়।
নেতা হনু- লজ্জা ভয় ত্যাগ করে পেট খোলসা করে বল। জঙ্গলে কি তোরা সুখে আছিস,নেই তো, রোদ ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে খাবারের সন্ধান করা, ধূর্ত হায়না কুকুরগুলোর লকলকে জিভের আস্বাদন এড়িয়ে ম্যারাথন দৌড় লাগিয়ে আত্মরক্ষা করা এ কি ভদ্রলোকের জীবন।
রোজউড গাছেদের বলে- হনুমান চিরকাল শ্বাপদের এক্তিয়ারের বাইরে।ঠিক যেন আজকের মধ্যবিত্ত মানুষ। নিজে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার আড়ালে থেকে অন্যকে হুল ফোটায়।
রবার - কর্তা, শেষ পর্যন্ত তুমি! তোমার ডালপালা যে ওদের স্বর্গ।
বট- দেখ দেখ,কুকুর কেমন পা তুলে চুলকাতে ব্যাস্ত। ডুমুর- হনুর কথা যেন হায়না কানেই শুনতে পায়নি।রোজউড- নৌটঙ্কি হচ্ছে।
(হায়না জেব্রার দল মাথা নেড়ে হনুমানের কথায় সায় দেয়।)
ছানা এন্টিলোপ ফস করে বলে ওঠে- মাথাটা আমার ঘু্ঁটে হয়ে গেছে। কিসসু ঢুকছে না। আমার ছোট্ট জীবনে জলঝড়ে বাস করে দিব্য আছি। গাছ তলা আমাদের মাতৃক্রোড়। এতদিন আমাদের খাওয়া থাকার কোনও অসুবিধে ছিল না। হঠাৎ করে আমাদের অসুবিধে হবে কেন, কেনই বা আমরা জঙ্গল ছেড়ে আশ্রয় পেতে অন্যত্র যাব?
হনু- ওঃ, বসে খাবি ভালো লাগছে না। তোরা চিরকাল ধরে কুকুর হায়নাদের খাদ্যতালিকায় সুস্বাদু মেনু। তোদের শরীরের রক্তমাখা উচ্ছিষ্ট শিয়ালে টেনে নিয়ে যায়। হনুদের জন্য তোরা বারবার বেঁচে যাস। সব ভুলে গেছিস। এখন দেখছি তোদের ভালো থাকার দায়িত্ব নিয়ে আমরা অন্যায় করে ফেলেছি। লোকের ভালো করতে নেই।
চাচা নেতা হনুর দিকে চেয়ে- এই হারামজাদা তুই কি জঙ্গলের ঠিকা নিয়েছিস? ভাবছিস কী করে আমাদের প্রজাতির সকলে তোর গাওনে তাল দেবে।
সভাপতি গম্ভীর ধমকের সুরে- আহ্।
চাচা- সভাপতি, টেম্পার অন্যকে দেখিও। আমার কাছে জঙ্গলের রাজা হাতি। শৌর্য বীর্যে শ্রেষ্ঠ হয়েও বিনয়ের পরকাষ্ঠা।
শিম্পাঞ্জি- চাচা, তুমি শোনোনি সিদ্ধান্ত হবে সবার মতামত নিয়ে। এত রাগ ঝগড়ার প্রয়োজন কি?
ছানা এন্টিলোপ - বুঝেছি তোমরা আমাদের নজরবন্দি করতে চাও। এতে তোমাদের স্বার্থ?
নেতা হনু- হাঃ হাঃ, তোরা চিরকালই শ্বাপদের নজরবন্দি। প্রাণের তাগিদে এদিকে ওদিকে দৌড়ানোর নাম স্বাধীনতা? জঙ্গল মানে আরও বড় খাঁচা বেশি বিপদ। চিরকাল আমরা যমের হাত থেকে তোদের বাঁচিয়েছি। অবশ্য, ভুলে যাবার অধিকার তোদের আছে।
কম্পিত কন্ঠে চাচা -একদম আমরা কথাটা ব্যবহার করবি না। শালা, কালক্যা যোগী। জঙ্গলের সম্প্রীতি নষ্ট করতে এসেছ।
[চাচার কথায় মহিপাদপরা সংঘবদ্ধভাবে দোল খেয়ে নেচে ওঠে। পাতায় পাতায় জাগে শিহরণ]
বট- দেখ, আজ আকাশচরাদের উড়ান ধর্মঘট। কিচিরমিচির থামিয়ে প্রাণের তাগিদে বাসায় বসে তারা মিটিং শুনছে।
রবার- ঠিক, চাচার ভাষনে আহ্লাদিত হয়ে সক্কলে একত্রে প্রাণের গান ধরেছে।
দৃশ্যান্তর
[একটা ধাড়ী ময়না ঝুপ করে নেমে এসেছে অ্যান্টিলোপের পিঠে ময়না কে প্রশ্রয় দিতে অ্যান্টিলোপ মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে আসে।]
আ্যন্টিলোপ- ময়না, তাহলে শারীরিক ক্ষমতা শেষ কথা নয় প্রতিবাদ যে কেউ করতে পারে!
ময়না- ঠিক আমরা চাচার নেতৃত্বে লড়াই শুরু করতে পারবো না?
অ্যান্টিলোপ- কিসের লড়াই? আমি মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে পারছি না।
ময়না- আমি নদীর ঐ পাড়ে মাঝেমধ্যে পাড়ি জমাই। দুপেয়ে মানুষের দল জঙ্গলমহলের দখল নিতে চাইছে। মানুষের সমগোত্রীয় হনুমান শিম্পান্জির দল ওদের সাথে যোগ দিয়েছে। মাংসাশী শ্বাপদেরা হনুদের হাত ঘুরে দালালি খাচ্ছে।
অ্যান্টিলোপ- দালালি কেমন খেতে, মানুষে খায় বুঝি? ময়না - মানুষ্য সমাজে বহু যুগ যুগ ধরে এর প্রচলন আছে। হনু শিম্পাঞ্জি শ্বাপদের দল জঙ্গলে এই বীজ রোপন করতে চায়।
অ্যান্টিলোপ- শ্বাপদেরা মাংস ছেড়ে দালালি শস্য খেতে চাইবে।
ময়না- হোঃ হোঃ ( একচোট হেসে নিয়ে) দালালির ভীষণ নেশা কলকের রসও হার মানবে।
অ্যান্টিলোপ- বন্ধু, তুমি কোনদিন দালালি খেয়েছো আমায় একদিন খাওয়াবে।
ময়না- আরে বাবা দালালি কোন খাবার নয়।
অ্যান্টিলোপ- তবে?
ময়না- জঙ্গলে দালালি হল মানুষকে বিশ্বাস করে সারা জীবন বসে খাওয়ার স্বপ্ন দেখা। নদীর ওপারে কাক ছাড়া কোন পাখির বাসা নেই। কাকের সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পেরেছি দালালীর নেশায় ওপারে জন্তু-জানোয়ারের জঙ্গলের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
[গল্পে কথায় আদর খেতে খেতে অ্যান্টিলোপ কখন যে দূরে চলে এসেছে দুজনের কেউই খেয়াল করেনি।]
এন্টিলোপ-এদিকটায় কদম শিমুলের বন। সুযোগ পেলেই আমি এখানে হারাই।
ধাড়ি শিমুল গাছের দিকে তাকিয়ে- লাল শিমুল কি যে রোম্যান্টিক, এক রঙে বিদ্রোহ ভালোবাসা একাকার।
কদম- বন্ধুরা সানধান, গুটিগুটি পায়ে চিতা আসছে।
শিমুল- কদম,ওরা তোর ভাষা বুঝতে পারছেনা।
কদম- ক্ষুধার্ত চিতা ঝাপিয়ে পড়ল বলে। ময়না, চিতার চোখে আঘাত হানো।
(ময়না নিজস্ব বোধ থেকে চিতার চোখে আঘাত হানে)
শিমুল - যাঃ ময়নার আঘাতে ক্রুদ্ধ চিতা এন্টিলোপের টুঁটি ছিঁড়ে দিল।
কদম- একদলা প্রাণহীন মাংসপিন্ডের চারপাশে ময়না কেমন কেঁদে উড়ছে দেখ।
শিমুল- শিকার অভুক্ত রেখে রাজকীয় চালে চিতাটা জঙ্গলে চলে যাচ্ছে।
চিৎকার করে ময়না- পেটে খিদে নেই তবুও খুন করলি বন্ধুকে।
[ রক্তাক্ত চোখে একবার তাকিয়ে চিতা হাঁটা দেয়। অশ্রুসিক্ত চোখে বন্ধুকে শেষ দেখা দেখে নিয়ে উড়ান দিয়ে সভাস্থলে হাজির হয় ময়না। দুর থেকে এই ঘটনা লক্ষ্য করে রোজউড। রোজউড কিছু বলার আগেই]
ডুমুর- মহা প্রলয়ের আমি নটরাজ।
বট- আমি সাইক্লোন।
রবার- আমি ধ্বংস।
রোজউড- আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃ্থ্বীর,আমি দুর্বার,আমি ভেঙে করি সব চুরমার।
[দিকবিদিক আঁধার করে ঝড় তোলে পাদপ সমাজ। বীটপ শ্রেণীর সফল সঙ্গতে নদীর উদ্দাম জলচ্ছ্বাস ভাসিয়ে দেয় দুকুল। আকাশ আঁধার করে নামে বৃষ্টি। সভাস্থল ছেড়ে বাঁচতে পগার পাড় সভাসদের দল। পড়ে থাকে অ্যান্টিলোপের জবজবে মৃতদেহ, দূরে।]
দ্বিতীয় দৃশ্য
রবার- এত সকালে চাচা নদীর দিকে যাচ্ছে!
বট- তাইতো। চাচাকে দেখে কুমির নাক তুলে এগিয়ে এল।
কুমির- ভোরের আলো এখনো ফোটেনি। এত সকালে তুমি নদীর কাছে এলে যে বড়।
চাচা- বন্ধু,তোমরা গতকালের কিসসা শোননি?
কুমীর- জঙ্গলের কিসসা আদি অনন্তকাল ধরে এই নদীর মতই সাবলীল। নতুন কি এমন ঘটলো?
চাচা- (ছোট করে গতকালের ঘটনা বলে) আমাকে ওপারে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে কিসের আশায় হনুমান শিম্পাঞ্জি আর শ্বাপদের দল জোট বেঁধেছে। কুমির- বসে পড়ো, আমি তোমাকে পৌছে দিচ্ছি। ফেরার সময় ডাক দিও আমি অপেক্ষায় থাকবো। তোমার পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করছে জঙ্গলের ভবিষ্যৎ।
[চাচা কুমিরের পিঠে বসে নদীর পার হয়। গাছপালা জঙ্গলের প্রাথমিক আড়াল পেরিয়ে চাচা দেখতে পায় ছোট ছোট শেল্টার যেখানে হনুমান শিম্পাঞ্জিরা আলাদা আলাদা কুঠুরিতে থাকছে। নেতা হনু আর শিম্পাঞ্জি গতকালের ঝড়ের তাণ্ডবে এখানে আস্তানা গেড়েছে। নেতা হনু শিম্পাঞ্জি চাচাকে দেখে চটজলদি লুকিয়ে পড়ে। বড় বড় যন্ত্র দানব বিকট আওয়াজ করে ধ্বংসলীলায় মত্ত। মাইলের পর মাইল ধুধু মাঠ। চাচা বাধ্য হয়ে দুপায়ে ভরসা করে এগোতে থাকে। ]
একটা ছোকরা নীলগাই এগিয়ে এসে- কি কাকা কি দেখছ? নদীর উপরে থাকা হয় বুঝি। তোমরা এখনো জংলিই রয়ে গেলে।
চাচা- এদিকের প্রানীরা খায় কি। এত খাবার আসে কোথা থেকে?
নীলগাই- কেন!
চাচা- না মানে এদিকে গাছগাছালি
যে কিছুই নেই।
নীলগাই কান মাথা দুলিয়ে- কর্পোরেশন সকালে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়।
চাচা- কর্পোরেশন, মানে?
নীলগাই- মানুষের তৈরী সংস্থা।
চাচা- এতে ওদের লাভ?
নীলগাই- কি সব কপার লোহা তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে এখানে। সেসব নাকি খুব মূল্যবান। আমরা এখন মানুষের রান্না করা খাবার খাই। খুব সুস্বাদু, দূরে দেখো ঢালাও চাষ শুরু হয়েছে। এরপর আমরা ক্ষেতের ফসল খাব।
[অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে চাচা চাষের ক্ষেত দেখতে যায়। গাউরের ঘাড়ে জোয়াল চাপিয়ে জমি চষা হচ্ছে সেখানে।]
চাচা (স্বগতোক্তি)- না, আগে কুমিরদের হাত করে দালাল গুলোর এপার-ওপার করা বন্ধ করতে হবে। এখন ফেরা যাক।
[ বন্ধু কুমির চাচার অপেক্ষায় বসে ছিল ]
কুমীর- চাচা কি দেখলে ওপারে?
চাচা- কি আর বলবো ওপারে জঙ্গল সাথীরা মানুষের ছলনায় ভুলেছে। মানুষ ওদের বসে খাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
কুমির- কিভাবে?
চাচা - থাকার জায়গা বানিয়ে রান্না করা খাবার দিয়ে জংলি জানোয়ারদের মানুষ বানাতে চায় ধূর্তের দল।
কুমীর- সোনার পাথরবাটি!
চাচা- বেড়ে বলেছ। আমি যদি ঠিক বুঝে থাকি তাহলে কার্যসিদ্ধি হলে মানুষ ওদের ছুঁড়ে ফেলে দেবে। তখন গাছগাছালির অভাবে মরবে তৃণভোজী। খাবারের অভাবে শ্বাপদেরা তৃণভোজীদের খেয়ে সাবাড় করবে। শিম্পাঞ্জি হনুমান বাঁদরের মুর্খামি কারণে জঙ্গলের বৃক্ষরাজি নিশ্চিন্হ হবে। তখন ওরাও খাদ্য বাসস্থান হারাবে। হায়না চিতা সিংহের হাত থেকে ওদেরও নিস্তার নেই। গাছের ডালে নিজেরাই কুড়ুল মেরেছে। পড়ে থাকবে তালতাল কপার লোহা।
কুমির - তা, সে সব খাবার পাবো কীভাবে?
চাচা (হেসে)- আরে না না সেসব খাদ্য নয়। মানুষ নিজের পেট ভরাবে বিক্রির টাকায়।
(কুমিরের সব গুলিয়ে যায়) কুমির জিজ্ঞেস করে- তাহলে ওপারের জন্তু জানোয়ারদের এপারে প্রবেশ বন্ধ করলে কেমন হয়।
চাচা- ঠিক এই কথাটাই বলতে চাইছি। এপারে ওদের প্রবেশদ্বার হলো গিয়ে নদী। তোমরা যদি পাহারা বসাও এপারের জঙ্গল বাঁচবে।
কুমির - আমরা আলোচনা করে সময় ভাগ করে তীর বরাবর পাহারা বসাবো। জঙ্গলে গদ্দার রাজ নট অ্যালাউড।
তৃতীয় দৃশ্য
(বৃদ্ধ চাচা বিদ্রোহী বলগা আর পণ্ডিতম্মন্য বোকা জেব্রা লুকিয়ে অপর পাড়ে গেছে। চাচা লক্ষ্য করে একটা মা জেব্রা কাঁদছে। চাচার ইঙ্গিতে এপারের জেব্রা জিজ্ঞেস করে - এপারেতে সর্বসুখ তবে কাঁদছো কেন?
মা জেব্রা- আমার কপাল পুড়েছে ভাই,দুই সন্তান ফেরার। নালিশ করেছিলাম বড়বাবু খেদিয়ে দিয়েছে।
চাচা- বড়বাবু! সে কেডা?
মা- আমাদের থানার ইনোসপেকটর গো।
চাচা- ইন্সপেক্টরের উপরওয়ালা নেই?
মা- আছে তো। ছোটবাবু শেয়াল। বড়বাবু কুকুর।
চাচা- ওঃ, করছি উপরওয়ালার জিগ্যেস।
মা- বলছি বলছি, এসিপি হায়না বড়কর্তা সিংহ।
চাচা- থানায় না মিটলে এসিপি কে বলো।
মা- হায়নাদের আমারা ভীষণ ভয় পাই।
চাচা- তাহলে কমিশনারেট মানে বড়কর্তাকে বল।
মা-সিংহ
ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আমাদের বের করে দিয়েছে। বলেছে ওপারে খুঁজে দেখ। ছেলেপুলে মানুষ করতে পারিস না। দেখ হয়তো স্বর্গ ছেড়ে ওপারে জঙ্গলে চরতে গেছে। এখন কি করা উচিত বলুন তো?
[অবাক হয়ে কথোপকথন শুনছে বলগার জেব্রা)
চাচা-দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে- আমাদের ওদিকে দেখেছো?
(মা জেব্রা মাথা নাড়াতে থাকে যার অর্থ বুঝতে পারে না কেউ)
চাচা- আজকের পরিকল্পনা বাতিল করা যাক।
বলগা জেব্রা - মাথা নেড়ে সায় দেয়।
(জেব্রা আগে হাঁটা দিয়ে নদীর ধারে পৌঁছে অবাক চোখে দেখে। মানুষ কুমিরের খাবার পরিবেশন করছে। কুমিরের দল সাধু খাবার টপাটপ গলাধঃকরণ করছে।
জেব্রা-ইঙ্গিতে চাচা আর বলগাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে।
চাচা- চরম সব্বনেশে কান্ড কুমিরের দলও বিক্রি হয়ে গেল।
বলগা- তার মানে আজ থেকে এপারে আসা বন্ধ।
জেব্রা- আজ ফিরব কি করে?
চাচা- বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোন গতি নেই।
(কুমিরদের খাওয়ার পালা সাঙ্গ। নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে সব্বাই। বন্ধু দূর থেকে চাচাকে দেখতে পেয়ে ডুবসাঁতারের সামনে এসে হাজির হয়।
কুমির- জঙ্গলের জন্য কিছু করতে পারলাম না। তাড়াতাড়ি চড়ে পড়ও। শেষবারের মতো পার করে দিই। ওরা আমাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে গোষ্ঠীর সঙ্গে গদ্দারি চলবে না। কেউ যদি দেখে ফেলে আমার জিনা হারাম হয়ে যাবে।
চাচা- কি এমন হলো তোমরা পাল্টি খেয়ে গেলে?
বন্ধু - তুমি ফলমূল খাও বুঝবে না। মানুষের হাতের রান্না খাবার খেয়ে সব শালা উল্টো গাইছে। আমি এখন এক ঘরে।
পরেরদিন
( প্রহরী চিতারা আড্ডা মারছে
এক পুরুষ সর্দার চিতার ডেরায়। ডেরার ছাদে ঘাপটি মেরে চাচা বসে আছে)
সর্দার চিতা(ফিসফিস করে)- কুমিরের দল শালা নিজেরাই নিজেদের ভক্ষণ করছে।
অন্য চিতা- মানে!
সর্দার- পেটপুজো সেরে নিশ্চিন্ত কুমিরের দল যখন কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ, হানা দিয়ে সাবাড় করও যাতে কোনরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে। তারপর মানুষী কায়দায় রান্না করে নদীর উজানে কোন অজানা অঞ্চলে পরিবেশন করে দাও।
একটা চ্যাংড়া চিতা- সর্বনাশ, আমাদের সাথে এমন হবে না তো?
সর্দার- ধুস, নদী বোজাতে হলে কুমির কুলের সার্বিক বিনাশ প্রয়োজন। বিনাশ আর বিকাশ টাকার এপিঠ ওপিঠ বুঝলি হাঁদারাম।
চ্যাংড়া- নদী মরে গেলে জল পাব কোথায়?
সর্দার- জঙ্গলে জলের অভাব! আর এত বেশি ভাবলে চিহ্নিত হয়ে যাবি। মানুষ, প্রশ্ন করা পছন্দ করেনা।
বয়স্ক চিতা- জঙ্গল যদি প্রতিশোধ নেয়।
সর্দার- জঙ্গল যদি প্রতিশোধ নেয়, কোনদিন দেখেছ হাতির বিরুদ্ধে জঙ্গল,গাছগাছালি কে প্রতিশোধ নিতে। শালারা খেয়ে উজাড় করে দিল।
(চাচা দেখে দুটো দুপেয়ে, চাকায় চলা গাড়ি চেপে নামলো। চিতারা যে যার মত ফেটে গেল। ফাঁকা মাঠ কেউ কোথাও নেই। গাড়ি থেকে নেমে একজন প্রস্রাব রত।) প্রথম জন্য- মূর্খ শ্বাপদদের নিয়ে ভাবার কোন কারণ নেই। হনুমান শিম্পাঞ্জি বেবুন সিংহ ছাড়া বাকি সকলকেই চিতারা শেষ করে দেবে। শহরের বাজারে খাবারের জোগান এভাবে নিরবিচ্ছিন্ন থাকবে। বাড়ির সামনের খাসজমির চষে তৃণভোজীরা পেট ভরাবে,আর...।
দ্বিতীয়জন- আর, হনু শিম্পাঞ্জিদের ভবিষ্যত?
প্রথমজন- সেটাই ভাবার।
দ্বিতীয় জন- ভাবার কিছু নেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওপারের জঙ্গল দখল করতে হবে। (ধুলো উড়িয়ে গাড়িটি আপন গন্তব্যে চলে যায়)
এপারের মিটিং
চাচা- এই কয়েক দিনের অভিজ্ঞতার ভান্ডার উজাড় করে দিলাম। এখন তোমরা বলো।
বলগা- যেকোনো উপায়ে হাতিদের দলে ভেড়াতে হবে। জেব্রা- এই দায়িত্ব কে নেবে।
ধাড়ি ময়না- ময়নার ঝাঁক এই দায়িত্ব নিলে এ কাজ সম্ভব হবে। আমি ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু করে দিয়েছি।
চাচা- কেমন করে,মনে রেখো মোটা চামড়া হলেও হাতি খুব অনুভূতিপ্রবণ।
ধাড়ি - সে আর বলতে।
দৃশান্তর ( হাতি ও ধাড়ি)
ধাড়ি - ইস পোকায় কিলবিল করছে। সারা পিঠ ঘায়ে ভর্তি হয়ে গেছে।
হাতি- কি আর করি বল তোমাদের তো সময়ই হয় না। ধাড়ি - তা যা বলেছ প্রত্যেকদিন নিয়ম করে ওপাড়ে উড়ান দেওয়া।
হাতি- তোমাদের কি মজা! এপার-ওপার মুহূর্তে উড়ে বেড়াতে পার। আমরা যদি তোমাদের মত আকাশে উড়তে পারতাম। এই, আকাশ থেকে জঙ্গল নদী কেমন দেখতে গো?
ধাড়ি - জঙ্গল, কোথায় আর জঙ্গল?
হাতি- মানে!
ধাড়ি- হাতিদের পূর্বপুরুষের নাম নিশ্চয় জানা আছে।
হাতি- কেন লজ্জা দাও।
ধাড়ি- তোমাদের পূর্বপুরুষরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিল, পৃথিবীর উষ্ণতা, বৃদ্ধির কারণে।
হাতি- এখনও তো খুব গরম।
ধাড়ি- হু, তবে এ গরম সে গরম নয়। প্রাকৃতিক কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সে যুগে জঙ্গল উজাড় হয়েছিল। আর তোমার পূর্বপুরুষরা খাদ্যের অভাবে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
হাতি অবাক চোখে তাকিয়ে বলে- তারপর?
ধাড়ি - এই যুগে জঙ্গলের জংলি জানোয়ার মানুষের ফাঁদে পড়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছে জঙ্গলের সঙ্গে।ওপাড়ে তোমাদের স্বজাতির খবর রাখ?
হাতি- না গো এপারে গাছগাছালির প্রাচুর্যে খাওয়া-দাওয়ার কোন অভাব নেই। ওপারে তাই আর যাওয়া হয় না।
ধাড়ি- ওপারের জঙ্গল সাফ। মানুষের খপ্পরে পড়ে জংলি জানোয়ার এপারে হানা দিল বলে। এপারে ওপারে যুদ্ধ লাগলো বলে।
হাতি সুঁড় নাড়িয়ে রণহুঙ্কার দিয়ে বলে- বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনী দেব না আমরা।
পূর্ব দৃশ্য ফিরে যাওয়া।
চাচা- তুইতো বেশ ম্যামথের গল্পটা ঝেড়ে দিলি।
ধাড়ি গেয়ে ওঠে- শুধু তোমার বাণী নয় গো বন্ধু, হে প্রিয়/ মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরশ খানি দিও।
চাচা- ওরে থাম থাম। (ময়নাদের দিকে তাকিয়ে)সবাই শুনলে তো। ঝাকে ঝাকে বেরিয়ে পড়ো এইভাবে হাতিদের সঙ্গে কথোপকথনে আসতে হবে। নচেৎ....।
ধাড়ি - নচেৎ, মৃত্যু।
চতুর্থ দৃশ্য
[১. চাচার নেতৃত্বে হাতিদের লংমার্চ সঙ্গী ধাড়ি ময়না। জল থেকে কুমিরের দল ঘাড় উঁচিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
২.দর্মার ঘরের চাতালে লুডোর ছক পাতা। শিম্পাঞ্জি বলগা হনুরা ছক্কাপুটে ব্যাস্ত। হঠাৎ আগন্তুকদের দেখে ভেবলে গেছে ওরা। পেছোন পাকা এক শিম্পাঞ্জির বাচ্চা সব ছেড়ে উঠে আসে।] মা শিম্পাঞ্জি- কোথায় যাচ্ছিস?
বাচ্চা(পাত্তা না দিয়ে) - তোদের এখানে আসার অনুমতি আছে?
চাচা- দু'দিন আগে মায়ের দুধ খেতিস। এখন অনুমতি মারাচ্ছিস।মানুষের সঙ্গে মিশে নবাব বনে গেছো সব।
(হাতিরা এগিয়ে আসে। শুঁড়ের আওতায় এসে যাওয়ায় বাচ্চা কথা বাড়াতে সাহস পায়না)
ধাড়ি ময়না- তোদের দেশ কেমন দেখতে এলাম। ঝগড়া করছিস কেন। জেব্রা বুনো গাধারা সব গেল কোথায়?
এপারের নেতা হনু আদেশের সুরে- নীলগাই, তোরা কেমন আছিস অতিথিদের জানা।
নীলগাই( মুখস্থ) - আমরা দিব্য আছি খাওয়া-দাওয়া ঘুম কোন কিছুর অভাব নেই। খাবার-দাবার বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। চরে খাবার হ্যাপা নেই।
চাচা- একদম দুয়ারে সরকার, তা বাচ্চারা দুধ পায় কোথা থেকে?
থতমত খেয়ে নীলগাই- দুধ এখন সাপ্লাই নেই।
নেতা হনু- সাপ্লাই নেই মানে কমপ্লেন করিস নি?
নীলগাই- কমপ্ল্যান কোথা থেকে পাব?
চাচা হো হো করে হেসে- বাচ্চারা তাহলে হাওয়া খেয়ে বড় হচ্ছে।
ধাড়ি- গাছপালা আছে যে শীতল হাওয়ায় পেট ভরবে?
[ ঠিক সেই সময় দূরে চাকাওয়ালা গাড়ি দল চোখে পড়ে। হাতির পাল দেখে ওরা থমকে গেছে। দু-পেয়ে মানুষের দল walkie-talkie বার করে কি সব বলতে লেগেছে। চাচা নজর রেখেছে, না ওরা গাড়ি ঘুরিয়ে যেদিক থেকে এসেছিল সে দিকেই ফিরে যাচ্ছে। নতুন এক লুডুর ছক এর সামনে আগুন্তুকের দল।]
খোকা শিম্পাঞ্জি- আমাদের দলের দুজন কম কেন, কৃষ্ণসার বলগা ওরা কোথায়?
চাচা- কখনো খেলোয়াড়দের দলে বাঁদর শিম্পাঞ্জির অভাব ঘটে?
খোকা- এমনটা তো দেখিনি।
(ওরা এগিয়ে যায় হায়না শিয়াল-কুকুরদের ডেরার দিকে)
হায়না- শালা, চিতাদের রাজ চলছে।
শিয়াল- আমরা বাপু মস্তিতে আছি। চিতারা বড্ড ভালো।
কুকুর- তোমরা ভাল থাকবে না, শালা জঙ্গলের কাক। কোন এঁটোকাটা বাদ দিস তোরা? গাছের আর গাছতলার কুড়িয়ে ভালোই আছো।
ধাড়ি ময়না- শিয়াল বাদ দিয়ে বাকিরা ভালো নেই কেন, এখানেতো স্বর্গ সুখ?
(নেতা হায়না ধাড়ি ময়নাকে কান নাড়িয়ে ইঙ্গিত করে নেমে আসতে বলে) হায়না- আর গাছ পাখি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পোকা মারার কেউ রইল না।
ধাড়ি কান চুলকাতে চুলকাতে- তোমাদের সবকিছু ঠিকঠাক চলছে যখন তাহলে এটুকু দুঃখ মেনেই নাও।
হায়না- তুমি কান ভাঙ্গাবে না তো?
ধাড়ি- আমাকে কিচ্ছুটি বলতে হবে না। আমাদের ডেরায় হায়নারা জানিয়ে দিয়েছে চিতা রাজ নেহি চলেগা।
হায়না- এক্কেবারে খাস কথা কইসে। আমরা শালা বুদ্ধু বেনে গেছি। আমার মনে হয় চিতারা হায়না কুকুর শিয়াল মেরে চালান দিচ্ছে। দিনদিন খেলার সাথী কমে যাচ্ছে।
ধাড়ি- সবাই মিলে চোরাগোপ্তা আক্রমণ করো না কেন?
হায়না - ভাবি নি এমন নয় দীর্ঘ আলসেমিতে আমাদের শরীরে পোকা ধরে গিয়েছে।
( চাচা ময়নার দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে। হাতিরা চলতে চাইলেও চাচার ইঙ্গিতে ওরা দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে।)
ধাড়ি- মহারাজ সিংহরা কেমন আছে?
হায়না খ্যাক করে হেসে- সিংহের নাম ভোম্বল দাস হওয়ার বদলে ছাগল হওয়াই ঠিক ছিল। শালারা খাচ্ছে-দাচ্ছে আর ঘুমোচ্ছে। ঘুম ভাঙলে ম্যা ম্যা করে। হৃদয়কম্পন জাগানো ডাক এখন উবে কর্পুর। আদরের আবেশে হায়না- ধাড়ি, তোমার বাবু বড় কৌতুহল।
ফুড়ুৎ করে উড়ে যেতে যেতে ধাড়ি- জয় হোক, ভালো হোক কানে লক্ষ লক্ষ পোকা হোক তোমাদের।
হায়না- শালা খচ্চর। ফের গান্ডু বানলাম।
[ধুধু প্রান্ত এগিয়ে চলেছে চাচা এন্ড কোম্পানি।]
চাচা- দূরে দেখো হাতির দল।
ময়না- বুনো গাধা আর জেব্রাও আছে।
চাচা হাতিদের বলে- পা চালিয়ে চলো।
(ধাড়িটা উড়ে গিয়ে বসে কর্মী হাতির পিঠে)
কর্মী হাতি- তোমাদের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। কাজের সময় দেওয়ালে যে গা ঘষবো তারও উপায় নেই। কাজ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দল পায়ে শিকল পরিয়ে দেবে। জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।
ধাড়ি- হায়রে, তোমরা জঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিধর প্রাণী, বিদ্রোহ করতে পার না।
কর্মী হাতি- বিদ্রোহ মাথায় ওঠার জোগাড়। শালারা গুলি চালায়।
চাচা- অন্যদের দুয়ারে সরকার আর তোমাদের সারাদিনের রুটিন হল গিয়ে লগ বিম বয়ে মরা!
কর্মী- আমাদের জন্য শুধুই শ্রম।
চাচা- কোনও শ্রম আইন নেই। শুধুই শৃঙ্খল।
কর্মী - আমাদের গতর আছে তাই শৃংখল আছে।
চাচা- বুঝলাম না ভাই।
কর্মী- ওদের গতরে শুয়োপোকা তাই কী ঘটতে চলেছে বুঝতেই পারছে না। বুঝতে চাইছে না এও বলা যেতে পারে।
চাচা- ওরা মানুষের মতো নিজেরাই নিজেদের খাচ্ছে।
বুনো গাধা- আবার এ-ও কে খাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সবটাই দেখাওট।
চাচা- তৃণভোজীরা কী খাচ্ছে?
বুনো গাধা-; আমরা আপাতত ওপারের ঘাসপাতা। কর্মী- আমরা পিঠে করে আনছি আর ওরা সাটাচ্ছে।
বুনো গাধা- একদম ভুলভাল বলবে না হাতি দাদা আমরাও একই কাজে লাগছি।
কর্মী - ওরে তোদের বলিনি তোরা তো আমাদের কমরেড। বাকি উজবুকদের কথা বলছি।
চাচা- যদি একশ দিনের কাজও পেত তাহলে ব্যাটাদের থপথপে শরীর একটু হলেও চাঙ্গা হত।
সঙ্গী হাতি- একশ দিনের কাজ মানে?
কর্মী- বুঝতে পারলে না? গতর নাড়িয়ে উপার্জন।
কথার ফাঁকে চাচা সঙ্গীদের বলে- বুনো গাধা আর কর্মী কে দেখলে অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ যোদ্ধার ম্যচিউরিটি।
[ ঝাঁকে ঝাঁকে বোমা ধুলো উড়িয়ে ফেটে পড়তে থাকে। ]
চাচা- কাজের ক্ষতি হচ্ছে তাই ভয় দেখাতে বোমা ছুড়ছে।
ধাড়ি- ওরা ভয় পেয়েছে রোবসন।
চাচা- আহ ধাড়ি।
পঞ্চম দৃশ্য
রবার-এক অচেনা শিম্পাঞ্জি সভামঞ্চের মাটি খুঁড়ছে। বট- তাইতো, আবার ইটিউটি চাইছে।
ডুমুর- কাঁধে একটা ঝোলা ব্যাগ।
রবার- ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট বাক্স বার করেছে।
রবার- গর্তে বাক্স টা রেখে চুপি চুপি সরে পড়ছে শালা। রোজ, রোজউড।
রোজউড- কী হয়েছে?
[ততক্ষণে গাছকাটা দালালদের সভামঞ্চর দখল নিল চাচা এন্ড কোম্পানি। সেখানে জঙ্গল বাঁচাও কমিটির মিটিং হবে। হাতিদের তর সইছেনা চটজলদি তারা সভামঞ্চের কাজ শুরু করতে চায়।]
দাঁতাল হাতি - এখন আর দেরি নয় ধর গো তোরা হাতে হাতে খড়্গ, চাচা শুরু করুন।
চাচা- তোমরা জানো দুপেয়ে মানুষের উস্কানিতে নেচে উঠে দুপেয়ে জানোয়ারের দল কিভাবে জঙ্গল সমাজের সমূহ ক্ষতি ডেকে আনছে। জঙ্গলের এপার-ওপার যেন বিভক্ত সিন্ধু উপত্যকা। ওপারের মগজহীন পশুকুল খোচর হনু শিম্পাঞ্জিদের বুদ্ধিতে ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। একটু বেচাল লক্ষ্য করলেই সামাজিক পুলিশ চিতার আক্রমণে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ জানোয়ার। এপারে অঞ্চল ভিত্তিক হাতিদের পাহারায় লক্ষণ গণ্ডি কাটতে হবে। যাতে...
বলগা- যাতে ওপারের শ্বাপদে আমাদের টিকিটিও না ছুঁতে পারে।
চাচা- ঘাঁটি এলাকায় চিতা হায়না শিম্পাঞ্জি কুকুরের প্রবেশ নিষেধ।
ধাড়ি- আর দালাল শিম্পাঞ্জি হনুর দল?
হাতি- ওরা খবর সরবরাহ করতে পারে।
চাচা- ওদেরও বয়কট করতে হবে। (বুনো গাধা আর সন্তান হারা মা জেব্রার গলা শোনা যায় - সভামঞ্চ ছেড়ে পালাও পালাও। চাচা ওদের চিনতে পেরে সবাইকে পালাতে বলে। দুড়দাড় সবাই দুরে ভেগে যায়।ঠিক সেই মুহূর্তেই বিপুল স্বরে বোমা ফাটার আওয়াজ হয়।)
জেব্রা- ওদের কাছে এপারে,আজকের সভার খবর ছিল। শিম্পাঞ্জি অন্ধকারে সভামঞ্চের মাটির নিচে বোমা পুঁতে দিয়ে গেছে। আমরা জানতে পেরে কাল সারারাত নদীর ধারে অপেক্ষায় ছিলাম সকাল হতেই সাঁতরে এ পারে চলে এসেছি।
ধাড়ি- ওরা ভয় দেখাতে চাইছে।
চাচা- ওরা ভয় পেয়েছে রোবসন।
ধাড়ি- হাঃ হাঃ, এখন কেন?
বুনো গাধা- আমরা ভয় নৈরাজ্যের দেশে ফিরতে চাই না। যদি ঠাঁই দাও আমরা তোমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে চাই। ওপারের হাতিরাও তোমাদের সঙ্গী হবে কথা দিয়েছে।
ধাড়ি- সুস্বাগতম। কি চাচা?
চাচা- জঙ্গল কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমরা খুব খুশি হলাম জেনে তোমরা আমাদের সাথে আছ। এই জঙ্গল তোমাদের।
(গোটা জঙ্গল যুদ্ধের নেশায় মাতোয়ারা)
ময়নার গান সাথে অন্যরা
খেলা হবে খেলা হবে/ টি টোয়েন্টি না টেষ্ট খেলা/ ইউএস আফগান মাঠে/উত্তেজনা দু তরফে।
কর্মী হাতি কলাপাতা/থোঁড়ের সুতো জড়িয়ে দাঁতে/কষ, তিতকুটে বিষম তিতকুটে।
হাতির দল বেগার খেটে/বেদম চটে/লড়বে না আজ তোদের লড়া/খনার বচন সত্যি হবে/মরবি যত অলক্ষুণে।
চাচার যত দামাল সেনা/ নাচছে দেখ শুঁড় দুলিয়ে/দুলছে যত রঙিন পাতা/মোরগঝুঁট টেরির নাঁচন/শীতের শেষে গুমোট বনে।
খেলা হবে খেলা হবে(ঢ্যারা দিতে দিতে...)
ষষ্ঠ ও শেষ দৃশ্য
রোজউড-নিশুতি রাত, পাহারাদাররা ক্লান্ত। ওদের নিমীলিত আঁখিপটে ঝিঁঝিঁর ঘুমপাড়ানি গান।
রবার- দূরে কারা মিলিটারির মতো বুকে হেঁটে এগিয়ে আসছে। ওপারের শিম্পাঞ্জি সেনা নয়তো?
বট- ঠিক,হাতে টর্চ ধরা।
ডুমুর- হাতিদের লক্ষণ গন্ডির ভেতরে ওরা ঢুকে পড়েছে।
রোজউড-ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুরপি দিয়ে শিম্পান্জিরা মাটি খুঁড়ছে। প্রত্যেকের পিঠে বাঁধা ঝোলা ব্যাগ।
বট- ব্যাগ থেকে ছোট্ট আকৃতির ডিটোনেটর মাটির তলায় রেখে মাটি চাপা দিচ্ছে ওরা।
রবার- সুচারু কার্য সমাধা করে শিম্পাঞ্জি সেনা ছিটিয়ে বড় গাছগুলোর নিচে বসে পড়েছে।
রোজউড-আমাদের আহাম্মকের দল করছেটা কি?ডুমুর- রোজদেবতা তোমার পায়ের কাছে বসেছে এইয়া দামড়া এক শিম্পাঞ্জি। তার হাতে লেজার কাটার।
রোজউড পাত্তা না দিয়ে বলে- নদীর ওপারে কামান সাজানো। মানুষ ইনস্ট্রাকশন দিলেই হনুরা মনেহয় চার্জ করবে।
(বলগার চোখ লেজারের আলো পড়ে চোখ ধাঁধিয়ে গেছে। শিম্পাঞ্জির অজান্তেই ঘটে গেছে এই ঘটনা। চমকে উঠে বলগা তীব্র চিৎকারে জঙ্গলের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।)
ডুমুর- বৃক্ষনাথ,বজ্জাতটা লেজার দিয়ে তোমার গোড়া কাটতে চাইছে। (রোজউড কেঁপে ওঠে। চাচা এক লাফ দিয়ে দামড়ার ঘাড়ে পড়ে।)
ডুমুর- চাচাকে গদ্দার সেনা ধরে ফেলেছে। চ্যাঙদোলা করে নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
গাদ্দারদের একজন বলে- চল, বুড়ো বজ্জাতটাকে কুমিরের পেটে দিয়ে আসি।
রবার- হাতিরা কি ডুমুরের কথা বুঝতে পারল?
বট- বোধহয়, বেদম অন্ধকারে হাতিরা ঠিক ঠাওর করতে পারছেনা চাচার অবস্থান।
চাচা- মরবি তোরা ঝাড়ে বাঁশে মরবি।
রবার- হাাতিরা গন্ডি ছোট করে ফেলেছে। ভীত সন্ত্রস্ত শিম্পাঞ্জিরা কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে দাঁড়িয়ে।
ডুমুর- চাচা একজনের হাতে কামড় দিয়ে এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে।
রবার- রোজউড একটু সহ্য কর চাচা ছুট্টে তোমার দিকে যাচ্ছে।
চাচা দামড়া শিম্পাঞ্জিকে- শালা জঙ্গলের দেবতার গায়ে হাত দিয়েছো, রোজউডকে খুন করবে?
(চোখে অতর্কিত আঘাতে দামড়া দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে এলোমেলো সিগন্যাল পাঠাতে থাকে। নদীর অপর পাড়ে সিগন্যাল পৌঁছালে]
ওপার থেকে আসে কমান্ড- চার্জ চার্জ।
চাচা- সাবধান, আগুনের গোলা ছুটে আসছে।
দাঁতাল - কুছ পরোয়া নেই।
বট-হায়নারা রাতে দেখতে পায়।
রবার- তে?
বট- দেখনা, কোথা দুটো হায়না এসে ওপারের শিম্পাঞ্জিদের আঁচড়ে কামড়ে নাজেহাল করে দিচ্ছে।অবাক চোখে দামড়া - শালা, আমাদের মারছিস কেন?
হায়না- আমরা তো আর বোকা নেই/ আর বোকা নেই /যেখানেই থাকি গদ্দারদের কাটবো/আমরা তো বোকা নেই আর বোকা নেই। হুহু,চাচা আর ময়না আমদের চোখ খুলে দিয়েছে। আব,
"জঙ্গল ছোড়ব নেহি"।
দামড়া চোখ বুজে- চার্জ চার্জ।
রোজউড- নাগাড়ে গোলা বর্ষন চলছে। ধরাশায়ী হয় বহু পশু পাখি। গোলার আঘাতে মুখ থুবড়ে পড়ে হাতি।নাঃ, আজ নতুন খেলা শুরু করতে হবে।
রবার- বুঝলাম না।
বট- বুঝিয়ে বল সময় নেই।
রোজউড- আজ হাওয়া দক্ষিণ থেকে উত্তরে বয়।
বট- তো?
রবার - বুঝেছি।
রোজউড- সাবাস, ঝড় তোলো, দাবানল লাগিয়ে দাও।
বট- ক্ষেতে মাঠে আগুন লাগুক। দখিনা ফুলকির স্রোতে পুড়ে খাক হোক গদ্দার জমানা।
রবার গান ধরে- হে আমার আগুন তুমি এবার ওঠো জ্বলে।
রোজউড- জঙ্গল মইরা গেলে তোরা বাঁচবি না কেউ।তোদের মধ্যে যারা মারতে চাস তারা মর। না হলে তোদের বিষে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
চাচা- ওপার থেকে আসা গোলা বন্ধ হয়ে গেছে।
ধাড়ি- আগুনের ফুলকি সঙ্গে জোনাকিরা ছুটেছে উত্তরে, নদী পেরিয়ে।
চাচা- মানুষ আর তার সামন্তের দল লেজ গুটিয়ে দৌড়াচ্ছে।
হাতি- ক্ষেতে মাঠে আগুন লেগে গেছে।
চাচা- দেখ দেখ, ওপাড়ের অনেকে দখিনা জঙ্গলের দিকে ফিরতে চাইছে।
রোজউড গান ধরেছে- শুকনো গাঙে আসুক/ জীবনের বন্যার উদ্দাম কৌতুক।
গাছেরা কোরাসে-ভাঙনের জয়গান গাও/ভাঙনের জয়গান গাও/জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক/যাক ভেসে যাক/ আমরা শুনেছি ওই, মাভৈঃ মাভৈঃ মাভৈঃ/কোন নুতনেরই ডাক।
ভয় করি না অজানারে/রুদ্ধ তাহারি দ্বারে/দুর্দাড় বেগে ধাও/বাঁধ ভেঙে দাও বাঁধ ভেঙে দাও বাঁধ ভেঙে দাও।
রোজউড- চাচার অঙ্গে নটরাজ নৃত্য। গোল হয়ে সক্কলে নাঁচছে। ঝড় চলুক আদি অনন্তকাল।[বেখেয়ালে চাচা পা দিয়ে ফেলে একটি ডিটোনেটরের ওপর। কখন যে সলতেতে দামড়া আগুন লাগিয়ে ছিল কেউ জানে না। চাচাও বিন্দু বিসর্গ বুঝতে পারেনি। নিভু নিভু আগুন পৌঁছে যায় লক্ষ্যে]
ধাড়ি ময়না আলোর আন্দাজ পেয়ে প্রাণপণে- চাচা, পালাও পালাও।
চাচা- পালাবে ওরা।
ময়না- চাচা, আগুনে বোমা।
[ময়নার কথায় চাচা ঘটতে চলা ঘটনার আন্দাজ পেয়ে উলম্ফন দেয়। সেই মুহুর্তে ফাটে মারন বোমা। ঝলসে গেছে চাচার দেহের নিম্নাংশ।]
চাচা দাঁতে দাঁত টিপে যন্ত্রণা লুকিয়ে- আমার মুহূর্তের অনুভব নিজেকে বিজেতা ভেবে নেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। নাহলে একদিন পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
রোজউড- বন্ধু, অমন কথা বলো না। আমরা তোমাকে যেতে দেব না।
চাচা- আমার সময় ফুরিয়ে আসছে আমায় বলতে দাও। আমরা যদি হনুমান শিম্পাঞ্জিকে অবজ্ঞা করতাম...,ওপাড়ের জঙ্গল জীবনের দিকে চেয়ে দেখ।
রবার- শুধু জঙ্গল নদী প্রাণীকুল নয় আমরা তোমাকে চাই।
রোজউড- কী অদ্ভুত,বৃক্ষরাজি প্রাণীর ভাষা বুঝতে পারছে।
চাচা- সময়। সময়ের ভাষা বোঝাই জীবনের একমাত্র কাজ। পুরানো বস্তাপচা ধ্যান-ধারণা..জীর্ণ.... পুরাতন...যাক.. ভেসে...যাক। যাক...ভেসে...যাক। মরণ রে....।
সব্বাই ঝুঁকে পড়ে চাচার শরীরে।
নাটকের যবনিকা পড়ে।
পরিসমাপ্তি
Comments
Post a Comment