ছোটগল্প- নিম ফুলের মধু।

 নিম ফুলের মধু। 

       ঘরে বসে বড় স্ক্রিনে সিনেমা দেখার ইচ্ছে পৃথা মনের কোণে বহুদিন লুকিয়ে রেখেছিল। বারান্দা দিয়ে চোখ চলে যেত তমালের দশ ফুট বাই বারো ফুট ঘরে। ক্যাথড রে আজ অচল,পুরানো দিনের টেলিভিশন টেকনোলজি। "ঝিরিঝিরি বাতাস কাঁপে" দূরদর্শন ছেড়ে সুযোগ পেলেই পৃথা বারান্দা দিয়ে টিভি সিরিয়াল, "নিম ফুলের মধু", দেখত। তমালদের ঝাক্কাস টিভিতে নতুন টিভিতে। তমালের বউ রিয়া পৃথার খুব পছন্দের প্রতিবেশী। রিয়া এক বুক গর্ব নিয়ে হিসাব করে 'নিম ফুলের মধু', চালিয়ে জানলা খুলে অকথিত আমন্ত্রণ জানাত পৃথা বৌদিকে। নাঃ, রিয়া কোনদিন পৃথাকে ডাকেনি। সান্ধ্য কর্ম যথাসম্ভব তৎপরতায় সাঙ্গ করে বারান্দায় ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে হাজির হতো পৃথা। মধুর  সঙ্গে মৌমাছি সম্পর্ক সময়ে বাঁধা থাকত। সে সময়ের ভাগ কাউকে দিতে চাইতো না পৃথা। প্রতিবেশীরা বারান্দায় পৃথাকে দেখে গল্প করতে এগিয়ে এলে সে কিঞ্চিত বিরক্ত হত। নবীন আজ হঠাৎ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগে অফিস থেকে ফিরে পড়েছে। চা-জলখাবার পরিবেশন করে পৃথা নিম ফুলের মধুকর হয়ে যথাস্থানে আসীন। এমন তো কোনদিন হয়না। নবীনের আগমনের সাথে সাথে শাশুড়িমা এবং কন্যা তৃষার সারাদিনে পাহাড় প্রমান জমে থাকা কৃতকর্মের অম্লমধুর উদগীরন শুনতে শুনতে পরিশ্রান্ত নবীন কখনও কপালে  চুমু এঁকে কখনও অন্য উপায়ে পৃথাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করত। পৃথা বুঝতে পারতো না নবীনের গভীর আদর আদতে অনুরাগ না তাকে বিরত করার প্রচেষ্টা। প্রতিদিনের সান্ধ্য আশ্লেষ পৃথার অন্তরের চাহিদায় পরিণত হয়েছিল। আজ সেই পৃথা কেন জানি না অন্যরকম। কোন কথা না বলে সে তড়িঘড়ি বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে পড়ে। জলখাবার খেয়ে নবীন হাত মুখ ধুয়ে বারান্দায় পৌঁছায়। পৃথার চোখ নিবিষ্ঠ রিয়াদের জানলায়। নবীন একটু চোখ চালিয়ে দেখে নেয়। রাস্তায় কাকপক্ষীর সন্ধান না পেয়ে সে পৃথাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। নবীনের চোখে চোখ রেখে পৃথা বলে, আঃ, কেউ যদি দেখে ফেলে? নবীন বলে, আমাকে অবহেলা করে তুমি কার ধ্যানে এমন মগ্ন তাপসী? রিয়া পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে দাদা বৌদি দুজনে বারান্দায় হাজির। রিয়া শুধায়, দাদা,আপনিও বসে পড়ুন। বেশ মিষ্টি সিরিয়াল।  রিয়ার গর্বিত কথনে পৃথা অসন্তুষ্ট হয়। রিয়া নিজের জায়গায় ফিরে যায়। নবীন জিজ্ঞেস করে, তোমার টিভিতে এই সিরিয়াল দেখা যায় না?  প্রিয়া চুপ করে থাকে। ধীর পদক্ষেপে নবীন ঘরে ঢুকে পড়ে। হঠাৎ বাথরুম পেয়ে গেছে এমন ভান করে পৃথাও কলঘরে চলে যায়। বেশ কিছুক্ষন পর ঘরে ফিরে পৃথা দেখে নবীন মোবাইল আর খাতাপত্র মিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাপের কাছে মেয়ে জানতে চাইছে বাবা কেন অফিস থেকে ফিরে তার সঙ্গে কথা না বলে অফিসের কাজ করছে। নবীন কোন কথা বলে না। অপরাধীর মতো পৃথা ঘরের এক কোণে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। এই ঘটনার পর রিয়া প্রতি সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময়ে জানলা খুলে পৃথার অপেক্ষায় থাকে। অপেক্ষাই সার, পৃথা বারান্দায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। একদিন রিয়া নিজের সেট অফ করে শুনতে পায় পৃথার টিভি সেটে বাজছে, 'নিম ফুলের মধুর' টাইটেল সং,সবুরে মেওয়া ফলে।

      আজ রবিবার, নবীন পৃথা কে বলে রেখেছিল সন্ধ্যায় কোন কাজ না রাখতে। সিরিয়ালের বিরতি বলে পৃথার রবিবারে তেমন কোন কাজ থাকেনা। সে বলে, আমার আবার কিসের কাজ? নবীন বলে, অফিস ট্যুরে যেতে হবে। টুকিটাকি কেনাকাটা আছে। তুমি সঙ্গে না থাকলে হবে না। মেয়ে তৃষাকে কোথায় রেখে যাবে? পৃথা জানতে চাওয়ায় নবীন বলে, আমরা রাতে ডিনার সেরে ফিরব। পৃথা বলে, শুধু শুধু এতগুলো টাকা পকেট থেকে গোল করার মানে কি? নবীন বলে, তোমার মনে নেই এবছর মায়ের অসুস্থতার কারণে তৃষার জন্মদিনে ওর বন্ধুবান্ধবদের কাউকে বলা হয়নি। তৃষার সেদিনের কান্নার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় পৃথা ডিনারে যেতে রাজি হয়ে যায়। নবীনকে পৃথা অফিস ট্যুরে যাওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলে, নবীন বলে, জোনাল ম্যানেজার চাইছেন এবার আমি যাই। অগত্যা, রাজি হয়ে যায় পৃথা। চায়ের পালা সাঙ্গ করে মায়ের অনুমতি নিয়ে ওরা বের হয়ে পড়ে। সাবান পেস্ট ব্রাস আরো অনেক কিছু টুকিটাকি কেনার পর রাইট ট্রেডিংয়ের বিশাল শোরুমের সামনে নবীন দাঁড়িয়ে পড়ে। স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল পেরিয়ে পৃথার চোখ চলে যায় বিপুল পণ্য সম্ভারে। টিভিতে রঙ বাহারি ছবির মারকাটারি প্রদর্শনী। কোথাও কেশর ওয়ালা এইয়া সিংহের নেতৃত্বে একদল সিংহী দলছুট বাইসানকে দিনের ম্যেনুতে পেড়ে ফেলতে চাইছে। কোথাও নির্জন ঘন নীল সমুদ্রে প্রেমিকের আলিঙ্গনে ভাসছে তন্বী। তৃষার চোখ গকুর দিকে। সে চিৎকার করে বলে ওঠে, এ্য মিরাকিউলাস কনক্লুজন। নবীন বলে, সে আবার কি? ড্রাগন বলজি। কি দারুন ছবি?  তৃষার উচ্ছ্বাসে পৃথা চুপ মেরে গেছে। নবীন শোরুমের দিকে হাঁটা দেয়। শোরুমের দরজায় দাঁড়ানো মোঁচওয়ালা সিকিউরিটি হ্যাঁচকা টানে দরজা খুলে ওদের স্যালুট জানায়। পৃথার গা ছমছম করছে। নবীনের পকেটের হাল হকিকৎ পৃথা জানে। দোকানে প্রবেশ করার আগে পৃথা আলতো টানে নবীনকে ফিরে যেতে বলে। আজ নবীন অপ্রতিরোধ্য। পৃথা, কোনদিন কোন চাহিদার কথা তাকে জানায়নি। শোরুমে ঢুকে পৃথা মাথা নিচু করে থাকে। সে বলে, কি গো, আমি তো তোমার  কাছে কিছু চাইনি। নবীন হাসে, ম্যাডাম আমাকে কোনদিন অফিসের কাজে বাইরে যেতে দেখেছো? তোমার সুপ্ত ইচ্ছাবৃক্ষের গোড়ায় জল দেওয়া আমার ধর্ম। বাইরে গেলে কিছু টাকা পয়সা হাতে আসবে। বাকিটা ট্যাঁক ভেঙে যোগান দেওয়া যাবে।

     সেলসম্যানের দল ইতিমধ্যেই ওদের ছেঁকে ধরেছে। কেউ এলজি নিতে বলে তো কেউ এমআই, একই ফিচার অর্ধেক দামে। পৃথা চুপ করে থাকে।  ঘরের মাপ অনুযায়ী নবীনের তেতাল্লিশ ইঞ্চি টিভি পছন্দ। দাম শুনে পৃথার চিত্তি চড়কগাছ হবার যোগাড়। বড় বড় টেলিভিশন দেখে তৃষার আনন্দ আর ধরে না। সে চিৎকার করে বলে, কাকু, গোকু চালাও। অ্যানিমেশনের বিস্ময় গকু,  ভগবানের আশীর্বাদ ধন্য সে। ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতায় পৃথিবীর শত্রুদের নিধন করে চলাই তার ধর্ম। পৃথিবী গকুর নিজস্ব গ্রহ নয়। কিন্তু পৃথিবী তার শৈশব, ভালোবাসা। নবীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সেলসম্যান বিকাশ বলে স্যার, এটা দেখুন,এই টেকনোলজি টেলিভিশন দুনিয়ার বিস্ময়। নবীন টেকনোলজির নাম জিগেস করলে চমকদারি কায়দায় বিকাশ বলে, OLED & QLED। তৃষা জিগেস করে, কাকু অ্যাটাক অন টাইটান দেখা যায় ওতে? বিকাশ বলে, কেন দেখা যাবে না ? পৃথা মেয়ের মাথায় চাপড় মেরে বলে, আদিখ্যেতা করতে হবে না। তৃষা মায়ের বকুনি খেয়ে বলে, কাকু, তুমি গোকুই চালাও মা, এ্যটাক অন টাইটান পছন্দ করে না। নতুন টেকনোলজিতে গোকু ফিরে আসে। ঝাক্কাস ছবি। বুদ্ধিমান এলিয়েনের চোখ ধাঁধানো অপার্থিব বীরত্ত্বে বাপ বেটির চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পৃথা কঠিন স্বরে বলে,আগে যেটা পছন্দ করেছিলে সেটাই নাও। নবীন ফুটছে ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। পৃথার আন্দাজ ছিল হাজার পঁচিশের মধ্যে হয়ত পাওয়া যাবে পছন্দের টেলিভিশন। ওর হিসেবে এলোমেলো হয়ে যায়। সত্তর হাজারি টিভি নবীনের পছন্দের তালিকায়। এত বড় ধাক্কা নবীন সইবে কেমন করে পৃথা বুঝতে পারে না। তৃষা কার্টুনে ডুবে আছে। গোকুর মাথায় চোট লেগেছে তৃষার চোখে জল। পৃথার হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে। ওদের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার।  টাকা-পয়সার অভাবে ঘরে রং করা যাচ্ছে না। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। তার ওপর শাশুড়ি মায়ের অসুস্থতার কারণে নিত্য খরচ লেগেই আছে। পৃথা, নবীনকে ইশারায় ওদের ফাঁদে না পড়ার অনুরোধ করে। বিকাশ আর তার সিনিয়র নাছোড়। ওরা নবীনকে সেমি কিউএলইডি টিভি দেখাতে নিয়ে যায়। তৃষা ওখানেই দাঁড়িয়ে গোকু দেখছে। পৃথা মেয়েকে ছেড়ে নবীনকে প্রহরা দিতে আসে। জল্লাদের হাত থেকে নবীনকে যেন তেন প্রকারে বাঁচাতে হবে। সেমি QLED নবীনের পছন্দ হয় না। নবীন ওয়েলিডি এন্ড কিউ এলইডি নিয়ে দর কষাকষি তে ব্যস্ত। সেমি কিউ এলইডিতে কমিশন বেশি। বিকাশের সিনিয়র সেমি গছাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। পৃথার খেয়ালই নেই তৃষা কোথায়? আজব দোকানে এসে হাজির হয়েছে ওরা। এত বড় শোরুম অলিগলি পথ তৃষাকে খু্জে পেতে বেগ পেতে হবে। অন্য সময় হলে মায়ের প্রথম এ্যজেন্ডা হত তৃষাকে খুঁজে বার করা। নবীনের হঠাৎ খোঁজে পৃথার মনে পড়ে যায় তৃষা ওদের কাছে নেই। হন্তদন্ত পৃথা তৃষাকে খুঁজতে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে ওর আঁচলে টান পড়ে। পৃথা দেখে তৃষা ম্রিয়মান মুখে ওর আঁচলে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে। তৃষা বলে, একটা বদমাশ কাকু, চ্যানেল ঘুরিয়ে দিয়েছে। পৃথা জিজ্ঞেস করে,সেই জন্য তুই কাঁদছিস? তৃষা সজল চোখে বলে, না গোকু আর যুদ্ধ করবে না। পৃথিবীটা বদমাইশে ভরে যাবে। মা বলে, আচ্ছা মা, এখন বিরক্ত করে না। তৃষা বলে,সত্যি গো। গোকুর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। গোকু বলছে, সে এখন থেকে ভালোবাসা দিয়ে বিশ্বজয় করবে। এর মানে কী? ইসস আর একটু দেখলে ঠিক বুঝতে পারতাম। ঐ বদমাশ কাকুটা...। পৃথা বলে, আমি বুঝতে পেরে গেছি। তৃষা আগ্রহ নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। তোর আর তোর বাবার মাথাটাও খারাপ হয়ে গেছে। আর সেলসম্যান দুজন এর জন্য দায়ী। তৃষা বুঝতে না পেরে বকবক করে চলে, এর সঙ্গে গোকুর কি সম্পর্ক? পৃথা বলে, গোকুতো যুদ্ধ হিংসা ছেড়ে ভালো মানুষ বনে গেল আর লোভে পড়ে তোর বাবা রসাতলে যাচ্ছে। বলিষ্ঠ কন্ঠে বলা তৃষার কথা বিকাশরা না শোনার ভান করে অবজ্ঞা করে। নবীন প্রতিক্রিয়া দেয়, যার জন্য চুরি করি সেই বলে চোর! রেগেমেগে নবীন দোকান থেকে বেরিয়ে আসে। হাবার মতো তৃষা আর পৃথা দোকানে দাঁড়িয়ে আছে। নবীদের পেছু ধাওয়া করেছে বিকাশের বস। পেছুপেছু বিকাশও হাজির বাসস্ট্যান্ডে। রাস্তায় ওরা নবীনকে কিসব বোঝাচ্ছে। ভিতর থেকে পৃথা বুঝতে পারে নবীনের সাথে পল্লাদ গুলোর কিছু একটা রফা হয়েছে। নবীন বীরদর্পে দোকানে ঢুকে পৃথাকে বলে, বাষট্টিতে রফা হল। সেলিব্রেট করতে নবীন মেয়েকে কোলে তুলে নেয়। মেয়ের চোখের জল তখন শুকিয়ে কাঠ। সে বলে, বাবা তুমি যে টিভি কিনলে তাতে গোকু আবার আগের মত যুদ্ধ করবে তো? পৃথা হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। 

         বিল তৈরী হচ্ছে। বিকাশ জানায়,জানো একটা ফ্রি গিফটও আছে। কিছুই স্পর্শ করে না পৃথাকে। কার্ডে টাকা পেমেন্ট করে নবীন বিল নিয়ে বিকাশকে দেয়। হাসিমুখে বিকাশ বিলে চোখ বোলাতে বোলাতে ভাবে আটশো টাকা কম করে জুটলো তার কপালে। ইস মুরগিটা যদি সেমি কিউএলিতি নিত তাহলে নির্ঘাত দেড়হাজার পকেটে ঢুকত। বিকাশ হঠাৎ থমকে গিয়ে বিল নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের দিকে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পরে বিকাশ ফিরে আসে। পরিবারকে নিয়ে ডিনারে যেতে হবে নবীন ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বিকাশের কথা শুনে ওর সিনিয়ার ক্যাশ কাউন্টারের ক্যাশ বাবুর সঙ্গে বচসার যোগ দেয়। হঠাৎ ক্যাশ বাবু ক্যাশ কাউন্টার থেকে বেরিয়ে এসে বলে, যা, যা পারিস করে নিবি। নবীন বচসার কারণ জানতে চাইলে বিকাশ বলে, সেলসম্যান হিসেবে আমার  নামের জায়গায় একাউন্টস ক্লার্কের নাম দিয়েছে। সিনিয়ার বলে, দেখলেন স্যার, দিনে দুপুরে ডাকাতি। দেখলেন? নবীন  জিজ্ঞেস করে, বুঝলাম না এতে তোমাদের রুষ্ট হওয়ার কারণ কী?  বিকাশ বলে এত পরিশ্রম করে মাল বেচলাম কমিশন ক্লার্ক বাবু মেরে দিল। টেলিভিশন কিনে নবীন ফুরফুরে মেজাজে আছে। সে জমিদারি গমকে জানায়,আমি গোটা ব্যাপারটা জানিয়ে CEO কে কমপ্লেন লিখছি মেল এড্রেস দাও। বিকাশরা বেশ কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে ক্রেতা কে এই বিষয়ে জড়ানো উচিত হবে না। বিকাশ নবীন কে বলে, চিন্তা করবেন না স্যার। আমরাও কোনদিন ওর কমিশন মেরে দেবো। এক মাঘে শীত যায় না। সময় আমাদের ঠিক সুযোগ করে দেবে।

        নবীন দেখে পৃথা যেন চুপসে যাওয়া বেলুন। একটাও কথা বলছে না। এতদামি টেলিভিশন কিনে দিলাম। বড়্ড ঠ্যাঁঠা মেয়ে। নবীনও নিস্তব্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারছে না। রেস্তঁরার ওয়েটার বারবার ফিরে যাচ্ছে অর্ডার না পেয়ে। কি খাবে পৃথার কাছে উত্তর না পেয়ে নবীন বাধ্য হয়ে মার্টন কাটলেটের সঙ্গে হাবিজাবি কিছু অর্ডার করে দেয়। তৃষার প্রিয় খাবার মার্টন কাটলেট। সে গোগ্রাসে খেতে শুরু করে। পৃথা শুরু করছে না তাই নবীনও কাঁটা চামচ নাড়াচাড়া করছে। মেটালিক চামচ আর কাঁচের ডিশে বাজছে  বিষন্ন সুর। রবিবারের বাজার দোকানে ভিড় আছে। কতক্ষণ সাধের খাবার ফেলে টেবিল আটকে রাখবে বুঝতে না পেরে শেষমেষ নবীন শুরু করে। অনমনস্ক নবীনের দাঁত আর মাড়ির ফাঁকে বেঁধে মাংসের হাড়। বেশ কিছুদিন হল নবীনের দাঁত আর মাড়িতে ইনফেকশন হয়েছে। ব্যাথায় নবীন ককিয়ে ওঠে। এই প্রথম পৃথা তাকায় নবীনের দিকে। ব্যথায় আড়ষ্ঠ নবীন আশা করে পৃথা সদয় হয়ে কিছু  বলবে। পৃথা বলেও- গোকুর দুনিয়া বদলে গেল। রাইট ট্রেডিং শ্বাপদ সংকুল আদিম জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। তৃষা বড় হবে কংক্রিটের অসভ্য জঙ্গলে। নিম ফুলের মধু এত তিতকুটে জানা ছিল না।

তৃষা চেঁচিয়ে ওঠে, গোকু পাগোল মা পাগোল। গোকু পাগোল মা পাগোল।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

ছোটগল্প - লাল কালো ইট।।

একগুচ্ছ কবিতা

কোন সে আলোর স্বপ্ন(কথায় ধারাবাহিক)