History
ইতিহাসের প্রেক্ষিতে ধর্ম এবং অর্থনীতি
একজন ভারতীয় সৈন্য ইজরায়েলে গাজা থেকে ধেয়ে আসা মর্টারের আঘাতে মারা গেছেন। তার মৃতদেহ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি চলছিল। মুসলিম বিরোধী ধর্মীয় মানুষ ভীষণভাবে হা-হুতাশ করছিলেন এই ঘটনায়। যদিও এ ক্ষেত্রে, মৃত্যু শোক বর্ষিত হওয়া স্বাভাবিক। এইখান থেকে আমার ইচ্ছেডানা উড়ান দিল। মনে হয় নিরপেক্ষ ভাবে ইতিহাস পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। আজ অবধি ইস্রায়েল প্যালেস্তাইন যুদ্ধের তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা আপাতত হবে আমার মোক্ষ।
ইতিহাসের মোজেস
বাইবেলের আলোকে - বাইবেলের পাঁচটি গ্রন্থের প্রথমটির নাম টোরা, যেখানে মোজেস সম্পর্কে লেখা আছে। শিশু মোজেসকে নীলনদে একটি ঝুড়ির মধ্যে ভাসতে দেখা যায়। মিশরের রাজকুমারীরা তাকে তুলে এনে রাজকীয় শৈশব দেয়। বড় হয়ে মোজেস বুঝতে পারে যে মিশরের ফারাও রাজ ইজরায়েলি জনগণকে দাসত্বের বাঁধনে বেঁধে রেখেছে। নিজেকে মুক্ত করে মিডিয়ানে পলায়ন করতে সক্ষম হন তিনি। ফারাওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাই উদ্দেশ্য তার। জঙ্গলের দাবানল থেকে দৈববাণী আসে মিশরকে মুক্ত করার। মোজেসকে ঈশ্বর বলেন, "তুমি ফিরে যাও মিশরে। মিশরকে মুক্ত করে ক্যাননে প্রবেশ করো।" [ হিব্রু বাইবেল অনুসারে ক্যানন,হ্যাম এবং নোয়ার পৌত্রর সন্তান। ক্যাননকে ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের পিতা বলা হয়। ক্যানন কে পবিত্র ভূমিও বলে। ] ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে মোজেস ইজিপ্টে যান। ৬ লক্ষ পুরুষ অর্থাৎ কুড়ি লক্ষ মানুষকে মুক্ত করেন তিনি। তারপর তার বাহিনী ক্যাননের পথে রওনা দেয়। যদিও ক্যানন এ প্রবেশ করার জন্য তাকে 40 বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল মরুভূমিতে। মোজেস ইহুদিদের প্রথম প্রফেট।
ঐতিহাসিক তথ্য - (রিচার্ড ফ্রিডম্যান এর কথায়) ৬ লক্ষ নয় ছোট্ট একটা দল নিয়ে সেই সময় বিপ্লবী নেতৃত্ব মিশর ছেড়ে ক্যাননে গিয়েছিল ফারাওদের পরাজিত এবং বন্দী করার পর। ৬ লক্ষ নয় কারন মরুভূমি বা তার আশেপাশে অত মানুষের কবরের খো্ঁজ পাওয়া যায় নি। পাওয়া গেছিল ছোট দলের মৃত্যুর প্রামাণ্য তথ্য। মোজেস নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা যায় মোজেস ইজরায়েলি নাম নয় বরং মিডিয়ানি নাম অর্থাৎ মোজেস মিডিয়ানের বাসিন্দা ছিল। মিডিয়ানের অধিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যারাওকে মোজেস যুদ্ধে পরাজিত করেছিল। মিডিয়ানের অধিবাসীকে শশু বলা হত। শশুরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন যা ইহুদিদের সমগোত্রীয়। মোজেস ক্যাননে উপনিবেশ তৈরি করতে চেয়ে ছিলেন (ঐতিহাসিক টেসিটাস এর মতে)। কিন্তু তিনি সক্ষম হননি। তার পরবর্তীতে ওসারপ ক্যানন এ প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং সেখানে দেবতার মন্দির ভেঙে নিজেদের মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। যেহেতু মোজেস ইতিহাস সিদ্ধ কোন পরিচয় নেই তাই ওসারপের মোজেস হওয়ার সম্ভবনা অস্বীকার করা যায় না। অর্থাৎ তৎকালীন কোনও সাহসী নেতৃত্ব ফারাও রাজাদের একাধিপত্য ভেঙে ক্যানন দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছিল এবং তিনিই প্রফেট মুসা। এই হল বাইবেলের সমান্তরাল ইতিহাস গ্রাহ্য ব্যাখ্যা।
অর্থনীতি - ক্যাননে ব্রোন্জ যূগের রমরমা চলছিল এবং অর্থনৈতিক ভাবে ক্যানন ভীষণ উন্নত তাই স্বাভাবিক কারণেই তা মিশরের দখলে ছিল যা পরে মোজেস বা ওসারপের নেতৃত্বে পরাভূত হয়। বাইবেল বা অন্য ধর্মীয় কাজল পরে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ভুল হবে। মোজেসকে নিয়ে লিখিত তথ্যর সময়কাল বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সমুচিত। যেমন মোহাম্মদ যুগের আট বছর পরে বা যীশুর ক্রুশিফিকশনের 63 বছর পরে লিখিত রূপে ধরা পড়েছিল সে যুগের ইতিহাস। কিন্তু প্রায় হাজার বছর পর মোজেস সম্পর্কিত লেখা পাওয়া যায়। তাই মোজেসের সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব নয় কিছুটা অনুমান ভিত্তিক ইতিহাস নির্ভরতাই উপায়।
*** সেদিনের ক্যানন আজকের ইসরায়েল, ওয়েষ্ট ব্যাঙ্ক, গাজা এবং জর্ডন।
1. https://bibleatlas.org/canaan.htm
2. https://images.app.goo.gl/23xXBSBWJqwjDtLS9
এই লিঙ্ক থেকে প্রাচীন ক্যানন মিডিয়ান এবং আধুনিক ইসরায়েলের খোঁজ পাওয়া যাবে।
২. ইতিহাসের যীশু
সব মানুষ ইতিহাসের অংশ হতে পারে না। কীর্তিমান যিনি তিনি ছেড়ে যান সংস্কৃতি, রেখে যান ঐতিহাসিক উপাদান। মৃত্যুর পর, অদুর ভবিষ্যতে যা সংকলিত প্রামাণ্য তথ্য হয়ে ধরা পড়ে ঐতিহাসিকের কাছে। তেমন মানুষই ঐতিহাসিক চরিত্র। কখনো কখনো একত্রে সমগ্র জনজাতি ইতিহাস হয়ে ধরা দেয়। ফেলে যাওয়া প্রামাণ্য তথ্য, বস্তুনিষ্ঠ ও সহজবোধ্য হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে থেকে যায় ভবিষ্যৎ মানুষের মনে। লিখিত ইতিহাসের কর্তৃত্ব শাসকশ্রেণীর। ফলতো ইতিহাস হাঁসফাঁস করে রাজাদের ভারে। খ্রিস্টপূর্ব এবং খ্রিস্ট পরবর্তী সময়ের ইতিহাসকে জানা এই সময়ের বাধ্যতা। কারণ দেশে দেশে মানুষ, মানুষের সঙ্গে ধর্মের প্রাচীর তুলে বিভেদ রচনায় মত্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাইবেল বিবর্জিত ঐতিহাসিক তথ্য প্রামাণ্য যীশুকে নির্মাণের একমাত্র পথ হওয়া উচিত। আবার একইসঙ্গে অন্য সোর্স থেকে পাওয়া মতামত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হতে পারে। তাই নিরপেক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
জন্ম - যীশু খ্রীষ্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন চার অথবা শূন্য বিসিই তে। অর্থাৎ আজ থেকে 2025 অথবা 2021 সাল আগে।
মৃত্যু- 30 অথবা 33 এডি অর্থাৎ আজ থেকে ১৯৯১ অথবা ১৯৮৮ বছর আগে।
নিউ টেস্টামেন্ট গ্রন্থে ৫০ এডিতে পাওয়া যায় পলের চিঠি। যা মোটামুটি যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু 30 বছর পরে লিখিত। এই চিঠিতে উল্লেখ আছে যীশু (followers)ভক্ত মানুষের খবর। যীশুর সঙ্গে পলের সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু পিটার এবং জেমস যারা যীশুর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের সঙ্গে পলের পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। পলের পর 70 এডিতে মার্কের গ্যসপেল এবং পরবর্তী তিনটি গ্যসপেলে যীশুর নাম প্রথম উল্লেখিত হয়। অর্থাৎ ধর্মীয় তথ্যে যীশুর মৃত্যুর কুড়ি বছর পর থেকেই যীশু আবির্ভূত হয়েছিলেন।
ঐতিহাসিক তথ্য
যোসিফাস (৯৩ এডি) - যীশুর ভাই জেমস ছিলেন মেসায়া যিনি জুডাইজম প্রচার(Preach) করতেন। মেসায়া ইহুদীদের কাছে ভগবানের দুত যাঁরা প্রবল রাষ্ট্রশক্তি এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রচার ছড়াতেন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধে শামিল হতেন। ইহুদি প্যালেস্টাইনে যুগে যুগে মেসায়ারা জন্মেছেন। ইহুদি প্রধান অ্যাডামাস, জেমসকে(যিশু খ্রিষ্টর দাদা) বন্দি করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পাথর ছুঁড়ে জেমস কে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার প্রণালী দিয়ে বোঝা গিয়েছিল যে জেমসকে ইহুদিরা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। রোমানদের মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি ছিল ক্রুসিফিকেশন। যসিফাসের লেখা থেকে পাওয়া যায় যীশু একজন জ্ঞানী পুরুষ যাঁর অনুগত ছিল তৎকালীন মানুষ। নিজস্ব জ্ঞানের আলোকে যীশু সাধারণ মানুষজনকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ট্যাসিটাস(১২০ এডি) লিখছেন- রোমান রাজ টাইবেরিয়াসের সময়ে যীশুকে হত্যার আদেশ কার্যকরী হয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে আগুন নিভে যায় নি। আগুনের আঁচ ইহুদি প্যালেস্টাইন থেকে রোমের আনাচে-কানাচেতে বিস্তার লাভ করেছিল।
অর্থাৎ যীশু যে ইতিহাস সিদ্ধ তা বাইবেল এবং ঐতিহাসিক অন্যান্য সোর্স থেকে প্রমানিত হয়। কেমন ছিল সেই সময়ে ধর্মীয় রাজনীতি তার ব্যাখ্যা দিতে পারলে যীশুর উত্থানের ঐতিহাসিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করা যাবে। সেই সময়ে প্যালেস্টাইনে ইহুদি মন্দিরে, মন্দির কর্তৃপক্ষ বাস করত। ইহুদিরা মনএথ্যেইজম বা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখত। ইহুদিদের বিশ্বাস ছিল মন্দির ভগবানের একমাত্র বাসস্থান। সেখানেই তার সঙ্গে আদান-প্রদান সম্ভব। এই বিশ্বাসের অপব্যবহার করে মন্দির কর্তৃপক্ষ ধর্ম ক্ষমতা অর্থনীতি নিজেদের কব্জায় এনেছিল। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মন্দিরের কর্তৃত্ব নিজের হাতে রাখত। জনগণের ওপর এইভাবে ধর্মীয় অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় থাকত। ক্যায়োফাস ছিলেন তৎকালীন ধর্মধাক্ষ, তিনি অনৈতিক শোষণ নিপীড়ন করে অসীম সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন। অবশ্যম্ভাবীভাবে তিনি ছিলেন সেই সময়ের প্যালেস্টাইনের ধনীশ্রেষ্ঠ। মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলের চৌহদ্দির ভৌগোলিক অবস্থান জানা থাকলে পাঠকের বুঝতে সুবিধা হবে। মন্দিরের উত্তর পূর্ব প্রান্তে ছিল অ্যান্তোনিও ফর্ট্রেস। যীশুর জন্মের আগে অ্যান্টোনিও ছিলেন রোমান গভর্নর। যীশুর সময় গভর্নর ছিলেন পন্টিস পাইলট। অর্থাৎ ইহুদি ধর্মধ্যাক্ষ ছিলেন রোম রাজার নজরবন্দি। রোমের রাজা সমগ্র ইহুদি জাতির উপরে ইহুদি ধর্মধ্যাক্ষের মাধ্যমে কায়েম করেছিল রোম রাজ। রোম গভর্নর ধর্মধ্যাক্ষ নির্বাচন করতেন না, মতের মিল না ঘটলে, না পোষালে তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে আনতেন। রোম গভর্নর এবং প্রধান পুরোহিতের শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল ইহুদি জীবন। যীশুর জন্মের পরে পরে এই শোষন সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিলো। গরিব মানুষের চাষের জমি কিনে নিয়ে সেই জমিতে পূর্ববর্তী মালিক কে ক্রীতদাসে পরিণত করা হয়েছিল। কয়েন কারেন্সি চালু হয়েছিল সেই সময়। একমাত্র ধনীদের হাতেই ছিল কয়েন। ফলতো কেনার অধিকার ছিলনা ক্রীতদাস সাধারণ মানুষের। জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিসহ, পুরহিত এবং জমিদার নির্ভর।
নাজারথে যীশু জন্মগ্রহণ করেছিলেন দরিদ্র কৃষিজীবী পরিবারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন শোষণের রাজত্বে শোষক এর ভূমিকা বা অবস্থান কি হওয়া উচিত। ওঁর স্বপ্ন ছিল ঈশ্বরের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা। ঈশ্বরের রাজত্ব মানে সাম্যর
রাজত্ব। অহিংসার বাণী দিয়ে উনি সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বারো উপজাতির ইহুদিদের। কিন্তু সেই সময় নাজারাথ ছিল একটি গন্ডগ্রাম যেখানে সামান্য কৃষিজীবী পরিবারে জন্ম হওয়া একটি সাধারণ বালকের পরিচয় সারা পৃথিবীর ইতিহাসে উঠে আসা অলৌকিক, অবাস্তব ছিল। কিন্তু নরশ্রেষ্ঠ তার যাযাবর বেদুইন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে এই অলৌকিকতা, বাস্তবে পরিণত করে ছিলেন। নিজস্ব ছোট্ট পৃথিবীর বাইরে বেরিয়ে যিশু (Preach) ধর্ম প্রচার করতেন প্যালেস্টাইনের কোণে কোণে। ইহুদি যাজকের দল যারা আদতে রোম গভর্নরের নিযুক্ত কর্মচারী এমন সামাজিক ঐক্য দেখে ভয় পেয়ে যায়। তাদের প্রচ্ছন্ন মদতে রোম গভর্নর যীশুকে আটক করে। ক্রুশিফিকেশন অর্ডার হয় যীশুর। ক্লাসিফিকেশনের আগে হত্যা করা হতো অভিযুক্তকে। তারপর তাকে ক্রুশবিদ্ধ অর্থাৎ মাথায় এবং পায়ে পেরেক দিয়ে আটকে নগরদ্বার বা পাহাড়চূড়ায় লোকচক্ষুর সামনে রাখা হতো। কেউ যাতে রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে সাহস না পায়। আদতে জনমানসে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার পথ ছিল ক্রুশিফিকেশন।
আমরা দেখলাম ইতিহাস সিদ্ধ যীশু একজন ইহুদী। যিনি ইহুদিদের মধ্যে ন্যায় ধর্ম প্রচার করতেন। রোমের গভর্নরের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন দ্বারা তিনি প্রতিস্পর্ধী বাণী উচ্চারণ করেছিলেন।
ইহুদিরা একেশ্বরবাদী কিভাবে বহু ঈশ্বরবাদী রোমে একইশ্বরবাদ জায়গা করে নিল এখন আমরা তার সন্ধান করবো।
প্রাথমিকভাবে যীশুর ভাবনা ছিল কেবলমাত্র জু অর্থাৎ ইহুদীদের জাতীয় রাষ্ট্রের পত্তন। সময়ের সাথে সাথে পৌরুষ রাষ্ট্রের ভাবনা তার মন থেকে সরে গিয়েছিল। তিনি এই দর্শনে উন্নীত হয়েছিলেন যে ইহুদিদের জন্য এই ধর্ম প্রতিষ্ঠিত কিন্তু অন্য ধর্মের কেউ চাইলে ইদহুদি ধর্ম গ্রহণ করতে পারে। যীশুর জাতীয়তাবাদী ভাবনা এইভাবে পরিণত হয়েছিল আন্তর্জাতিকতাবাদে। যদিও তার জীবদ্দশায় এমন চাওয়া মান্যতা পায়নি।
তার মৃত্যুর 30 বছর পর, ধর্মযাজক পল, রোম রাজত্বে দশহাজার মাইল পদব্রজে চলে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার করেন। এমনকি তিনি এথেন্সেও গিয়ে ছিলেন। খ্রিস্টধর্ম এই প্রথম হাঁটা দেয় জেন্টাইল মানে অ ইহুদিদের মধ্যে। যদিও ইহুদি ধর্মীয় কঠোরতা মেনে নিতে সক্ষম হয়না তৎকালীন ধার্মিক সাধারণ মানুষজন। পল তার সহজাত অভিজ্ঞতাবাদের আলোকে লিঙ্গচর্মছেদনের এবং নিকট আত্মীয়ের মধ্যে সহবাসের মতো আচরণ রদ করার কথা ভাবেন। ফলত অইহুদি মানুষজন নতুন ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে। ইহুদিরা সন্ত্রস্ত হয়ে ধর্ম রক্ষায় আরো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং সংকুচিত হয়ে পড়ে।
৬৪ এডিতে রোমে ঘটে যায় এক বিশাল অগ্নিকাণ্ড। রোমের রাজা নিরো নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় খ্রিস্টানদের উপর চাপায়। রোমের আশেপাশে থাকা সমস্ত ক্রিশ্চানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নৃশংস এই হত্যার দিনগুলো আটকে রাখতে পারেনি খ্রিস্টান ধর্মের পরিধিকে। ৩১৩ এডিতে শেষমেষ মিলান এডিক্ট ঘোষিত হয় যার মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম আইন সিদ্ধ হয় রোমে।। যদিও একইসাথে বহু ঈশ্বরবাদ আইনি ছিল তখন। ৩৮০ সিইতে রাজা থিওডোসিয়াস খ্রিস্টধর্ম কে রোমের একমাত্র ধর্ম হিসাবে মান্যতা দেন।
পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল
১. কোন কোন কারণে রোমের রাজা বহুশ্বরবাদী ধর্ম ছেড়ে একেশ্বরবাদী খ্রিস্টধর্মকে আইনি মোড়কে পেশ করল?
২. যীশুর কাছে আধুনিক পৃথিবী ধর্ম বাদ দিয়ে আর কি শিখতে পারে?
রেফারেন্স লিঙ্ক নিচে দেওয়া রইলো। আরও বহু সোর্স থেকে লেখার উপাদান নেওয়া হয়েছে লিস্ট দীর্ঘায়িত করলাম না।
1.https://youtu.be/ptYz-Vu0dxY
2.https://youtu.be/SRfFLjWLybA
3.https://youtu.be/EJF18yvTF6g
4.https://youtu.be/7VOMFjQfJ8w
You have to write more and geography of anicient world. Thank you
ReplyDelete